মহাকাশ

মহাকাশে উচ্চতাবৃদ্ধি!!!

আপনাদের কি সামান্য লম্বা হতে ইচ্ছে হয়? তাহলে কিছু মাস মহাশূন্যে কাটিয়ে আসুন তাহলে আপনাদের ইচ্ছা সাময়িকভাবে হলেও পূর্ণ হবে। নিশ্চয়ই প্রশ্ন করবেন, কিভাবে সম্ভব? সম্ভব বটে।

আপনাদের কি সামান্য লম্বা হতে ইচ্ছে হয়? তাহলে কিছু মাস মহাশূন্যে কাটিয়ে আসুন তাহলে আপনাদের ইচ্ছা সাময়িকভাবে হলেও পূর্ণ হবে। নিশ্চয়ই প্রশ্ন করবেন, কিভাবে সম্ভব? সম্ভব বটে।

মহাশূন্যে ভ্রমণ করলে মহাকাশচারীদের উচ্চতা গড়ে দুই ইঞ্চি বৃদ্ধি পায়।  বিজ্ঞানীদের মতে যে সকল মহাকাশচারী আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে বাস করেন তাদের শরীরের উচ্চতা শতকরা ৩ ভাগ বৃদ্ধি পায়। নিশ্চয়ই ভাবছেন কেন তারা লম্বা হয়?

মহাকাশচারীদের লম্বা হওয়ার বড় কারণ Micro gravity.  micro gravity!!  এটা আবার বিশেষ যাদু নাকি? না Micro gravity কোনো জাদু নয়। বরং এটি হলো মহাকাশচারীদের ওজনের হ্রাস।

আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, মানুষের শরীরকে সোজা দাঁড় করিয়ে রাখে তার মেরুদণ্ড। আর মেরুদণ্ড বিভিন্ন কশেরুকার সমষ্টি। ধরা যাক, আমাদের মেরুদণ্ডের কশেরুকা গুলো স্প্রিংয়ের মতো। যখন এতে চাপ প্রয়োগ করা হয় তখন এরা সংকুচিত হয় আর যখন চাপ অপসারণ করা হয় তখন এরা প্রসারিত হয়। ঠিক তেমনি মানুষের মেরুদণ্ড প্রসারিত হয় যখন সে মহাশূন্যে ভ্রমণ করে। পৃথিবীতে থাকলে মানুষের উপর মহাকর্ষের প্রভাব বেশি থাকে আর যখন মানুষ মহাশূন্যে ভ্রমণ করে তখন মহাকর্ষ বল অনেক গুণ কমে যায়। রাতের বেলা একইভাবে আমাদের মেরুদণ্ডের সামান্য পরিমাণ প্রসারণ ঘটে থাকে যখন আমরা শুয়ে থাকি। Gravity বা মহাকর্ষ আমাদের কশেরুকা দিয়ে ক্রিয়া করতে পারে না।

আপনি একটি লাঠি ব্যবহার করেও পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে পারেন। যখন আপনি শুয়ে থাকেন লাঠি ব্যবহার করে আপনার দৈর্ঘ্য মেপে নিন। এবার আপনার প্রকৃত উচ্চতার সাথে মিলিয়ে দেখুন। দেখবেন  আপনি এক বা দুই সেন্টিমিটার লম্বা হয়ে গেছেন। মহাকাশচারীরা একইভাবে আরেকটু বেশি লম্বা হয়। দিনের বেলা দাঁড়ানো অবস্থায় মানুষের কশেরুকা গুলো মহাকর্ষ দ্বারা চাপ প্রাপ্ত হয়। কিন্তু রাতের বেলা শুয়ে থাকলে Gravity মেরুদণ্ড দিয়ে ক্রিয়া করতে পারে না বলেই এমনটি ঘটে।

জনসেন মহাকাশ কেন্দ্রের গবেষক ডক্টর সুধাকর রাজুলুর মতে, “মহাকাশে গেলে কেন মেরুদণ্ড প্রসারিত হয় তা দুটি তত্ত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়।” প্রথমত, সম্প্রসারণ শুধু মেরুদণ্ডেই ঘটে থাকে। শরীরের অন্যান্য অংশে অর্থাৎ হাত, পা-তে এর কোনো প্রভাব নেই। কারণ, শরীরের অন্যান্য অস্থিগুলো মেরুদণ্ডের কশেরুকার মত সংকোচন যোগ্য নয়। যে ভাবেই হোক মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বক্রতা মহাশূন্যে থাকে না বা কম থাকায় এটা মোটামুটি সোজা হয়ে যায়। কোন Gravity না থাকায় মেরুদণ্ডে শিথিলতা বিরাজ করে।
দ্বিতীয় তত্ত্ব মতে, মেরুদণ্ডের কশেরুকার চাকতি গুলো গ্র্যাভিটির কারণে পরস্পরের সাথে চাপা অবস্থায় থাকে। মেরুদণ্ডের মধ্য দিয়ে চাপ নিচের দিকে ক্রিয়া করায় এই সংকোচন ঘটে। মহাশূন্যে Gravity জনিত চাপ কমে গেলে এই চাকতিগুলো অধিক spinal fluid ধারণ করতে সক্ষম হয়। এই কারণে প্রসারণ ঘটে। এতে অবশ্য প্রত্যেক কশেরুকার  মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।

বিজ্ঞানীদের এক গবেষণা মতে ২ সময় উচ্চতার এই পরিবর্তন ঘটে। মহাশূন্যযান কক্ষপথে পৌঁছামাত্রই প্রথম পরিবর্তনটি ঘটে থাকে। এসময় মেরুদণ্ডের সম্প্রসারণ এর অধিকাংশই ঘটে থাকে। বাকি সম্প্রসারণ পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে ঘটতে থাকে। কিন্তু এই সম্প্রসারণ একসময় বন্ধ হয়ে যায়। যদি মহাকাশচারী চিরদিন মহাকাশে থাকে তবে সে পর্যায় ক্রমে বৃদ্ধি পেতে থাকবে না। বর্তমানে মহাকাশচারীরা Ultrasound ডিভাইস ব্যবহার করে তাদের শরীরের পেছনের অংশকে স্ক্যানিং করে। এর মাধ্যমে গবেষকরা মহাকাশে ৩০, ৯০  কিংবা ১২০ দিন বিচরণ করা একজন মহাকাশচারীর মেরুদণ্ডকে পর্যবেক্ষণ করে দেখেন আসলে কি ঘটে।

Ultrasound ডিভাইস হল বিশেষ ধরনের ডিভাইস, যা ব্যবহার করে শরীরের স্বাভাবিক গতি, পেশি সঞ্চালন এবং শরীরের অন্যান্য কর্মকাণ্ড গুলো জানা যায়। গবেষকরা পৃথিবীতে বসেই Ultrasound ডিভাইসের পাঠানো মেরুদণ্ডের সারভাইকল ও লাম্বার কশেরুকার ছবি বিশ্লেষণ করে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
যাইহোক, মহাকাশচারীদের অতিরিক্ত এই বৃদ্ধি কোন সমস্যার সৃষ্টি করেনা। কারণ, মহাকাশচারীদের জন্য এমন স্পেস স্যুট বা পোশাক ব্যবহার করা হয় যেখানে অভ্যন্তরীণ প্রসারের জন্য যথেষ্ট জায়গা থাকে।

মহাকাশে মানুষের মেরুদণ্ডের এই অস্বাভাবিক তথ্য সর্বপ্রথম স্কাই-ল্যাব মিশন থেকে সংগ্রহ করা হয়। প্রায় 20 বছর আগে ৬ জন মহাকাশচারীর ওপর এই গবেষণাটি করা হয়। তারা প্রত্যেকে 3% করে বৃদ্ধি পায়। তবে মজার ব্যাপার হলো, উচ্চতা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মহাকাশচারীরা পৃথিবীতে ফিরে আসলে ১০ দিনের মধ্যে আবার পূর্বের উচ্চতায় চলে আসেন।

আপনার মতামত লিখুন :

ট্যাগ
Back to top button
Close