টিপসবিবিধ

৩টি পুষ্টি উপাদান যেগুলো চুল পড়া প্রতিরোধ করতে পারে

চুল আমাদের সবার জন্য অপরিহার্য একটি জিনিস। কারো চুল কালো,কারো লাল। আবার অনেকের চুল চিকন, কারো মোটা। এমনকি কারো চুল কোঁকড়ানো।

চুল আমাদের মাথার ত্বককে রক্ষা করে। চুল সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতেও সাহায্য করে । কিন্তু এখনকার সময়ে চুল পড়া অন্যতম একটি সমস্যা। বয়স এর কারণে অনেকের চুল পড়তে দেখা যায় আবার জিনগত কারণে অকালে চুল ঝরে যেতে পারে। তবে আমরা আমাদের জিনকে পরিবর্তন করতে পারবো না, কিন্তু আমরা আমাদের চুল পড়ার হারকে কমাতে পারি কিংবা চুল পড়াকে প্রতিহত করতে পারি।

যদি আমাদের শরীরে ভিটামিন এবং অন্যান্য উপাদান এর ঘাটতি দেখা দেয়, তখন চুল ঝরে যেতে পারে, চুল রুক্ষ হতে পারে আবার চুল ভঙ্গুরও হয়ে যেতে পারে।

খাদ্যাভাস পরিবর্তনের মাধ্যমে চুল পড়ার হারকে কমাতে পারি কিংবা জিনগত নয় এমন চুল পড়ার সমস্যাকে সম্পূর্ণ রূপে মুক্তি পেতে পারি। তার সাথে আমাদের চুল হয়ে উঠবে সুন্দর ও মজবুত।

এখন আমরা জেনে নেব কয়েকটি ভিটামিন এবং অন্যান্য উপাদান সম্পর্কে, যেগুলো আমাদের চুলকে পুষ্টি যোগাবেঃ

আয়রন( Iron)

আয়রন(Iron) সমৃদ্ধ খাবার আমাদের শরীরের আয়রনের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। বয়সের কারণে যখন পুরুষ এবং মহিলাদের শরীরে হরমোন ক্ষরণের হার কমে যায় এবং নানাবিধ শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় ( Menopausal) , তখন আমাদের খাবারের তালিকায় অবশ্যই আয়রন সমৃদ্ধ খাবার যোগ করতে হবে। এছাড়াও পুষ্টিবিদের মাধ্যমে আমরা আমাদের শরীরের আয়রন লেভেল পরিমাপ করিয়ে নিতে পারি।

এককালের জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র পাপাঁই এর প্রিয় খাবার ছিল পালং শাক (spinach)। পালং শাক বিভিন্ন খনিজ উপাদান ও ভিটামিনে ভরপুর অন্যতম একটি খাদ্য, যেটি চুলের গ্রন্থিকোষ গুলোকে মজবুত, সুস্থ রাখে।

এককাপ রান্না করা পালংশাকে ৪ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে। রান্না করা পালং শাকের পুষ্টি উপাদান শরীর সহজেই শোষণ করে নিতে পারে। এছাড়াও কিছু খাবার রয়েছে সেগুলো হল – চর্বিহীন গরুর মাংস, কলিজা, ডার্ক চকোলেট, ডালজাতীয় খাবার, কাজু বাদাম।

আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পর ক্যাফেনজাতীয় পানীয় খাওয়া উচিত নয়।

জিংক

চুল পড়া সমস্যার চিকিৎসার জন্য এবং চুল পড়া বন্ধ করার জন্য জিংক অসাধারন একটি পুষ্টি উপাদান। বিভিন্ন স্টাডিতে দেখা গেছে যাদের চুল পড়ার সমস্যাটি রয়েছে, তাদের চুলে জিংক এর পরিমাণ কম দেখা গেছে।

গলদা চিংড়ি জিংকের একটি ভালো উৎস। তিন আউন্স গলদা চিংড়িতে ৩.৪ মিলিগ্রাম জিংক পাওয়া যায়। সাধারণত সামুদ্রিক মাছে বা খাবারে জিংক থাকে।

আপনি যদি অয়স্টারস( ঝিনুক) পছন্দ করেন, তাহলে বলতে হবে আপনি ভাগ্যবান কারণ ঝিনুক ছাড়া অন্য কোন খাবারে এত বেশি জিংক থাকেনা।

যদি আপনি ঝিনুক পছন্দ না করেন তাহলে পালংশাক,চর্বিহীন গরুর মাংস ( lean beef), ডালজাতীয় খাবার,ডিম ইত্যাদি খেতে পারেন।

ভিটামিন এ

যেসব খাবারে ভিটামিন এ বেশি থাকে, সেসব খাবারে বিটা-কেরোটিনও বেশি থাকতে দেখা যায়। চুলের পুষ্টির জন্য খাবার খেলে চুলের সাথে সাথে শরীরের পুষ্টির চাহিদা মিটবে।

শরীরের প্রত্যেকটি কোষের বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন এ প্রয়োজন, চুলও এটির অন্তর্ভুক্ত। চুল হল শরীরে দ্রুত বৃদ্ধি সম্পন্ন অন্যতম একটি টিস্যু।

ভিটামিন এ শরীরের ত্বক(চামড়া) গ্রন্থিকে একটি তেলতেলে পদার্থ ক্ষরণে সাহায্য করে, যেটির নাম হল সেবাম( sebum)। সেবাম স্কেল্পকে(scalp) ময়েশ্চারাইজ করে এবং চুলকে স্বাস্থ্যবান,সুন্দর রাখতে সাহায্য করে।

ভিটামিন-এ এর ঘাটতির কারণে শরীরে নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে,চুল পড়া সমস্যাটি এর অন্তর্ভুক্ত। পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিনএ শরীরের পক্ষে উপকারী, বিভিন্ন স্টাডি থেকে পাওয়া যায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভিটামিন এ গ্রহণে চুল পড়ার সমস্যা হতে পারে।

মিষ্টি আলু, পালংশাক, বাঁধাকপি, গাজর, মিষ্টিকুমড়া প্রচুর পরিমাণে বিটা- কেরোটিন থাকে, যেটি পরে ভিটামিন-এ তে রূপান্তর হয়। প্রাণীজ খাদ্যেও ভিটামিন থাকে যেমন- দুধ, ডিম, দই, কড লিভার অয়েল।

রেফারেন্স

http://www.nutritionexp.com/page/2/

https://www.healthline.com/nutrition/best-vitamins-hair-growth#section1

আপনার মতামত লিখুন :

Back to top button
Close