ইতিহাস

ইতিহাসের বিখ্যাত কিছু রানীর জীবনী : ২য় পর্ব

ট্রয় নগরীর হেলেন

ট্র‍য় নগরী ধ্বংসের কথা শুনেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কিভাবে এই ট্রয় নগরী ধ্বংস হয়েছিল?
“ট্র‍য়” নামটি দ্বারা বাস্তব জীবনে ঘটে যাওয়া এক প্রত্নতাত্ত্বিক কালের ইতিহাসকে বোঝায়। গ্রিক মিথোলজি অনুযায়ী, ট্রয় এমন এক শহর যা ১০ বছর ধরে অবরুদ্ধ ছিল এবং শেষ পর্যন্ত রাজা আগামেমনন এর নেতৃত্বে গ্রীক সেনাবাহিনীদের দ্বারা জয়লাভ করেছিল। এটি ট্রোজান যুদ্ধ নামেও পরিচিত। এই ট্রোজান যুদ্ধের কারণ গ্রিক কবি হোমার এর রচিত “ইলিয়াড” থেকে জানা যায়, স্পার্টার রাণী হেলেনকে অপহরণ করা নিয়ে হয় এই যুদ্ধ। এই অপহরণের কাজটি করেছিলেন ট্রয়ের কিং প্রিয়ামের পুত্র প্যারিস।

পরিচয় পর্ব :

গ্রীক মিথোলজি অনুযায়ী গ্রীকের সবচেয়ে সুন্দরী নারী ছিলেন হেলেন। তিনি দেবতা জিউস ও লেডার কন্যা এবং ডায়াসিকুরির বোন ছিলেন। যদিও তার অবৈধ পিতা ছিলেন টেন্ডারিয়াস (Tyndareus)। হেলেনেরমজ বোন ক্লাইটিমিনিস্ট্রা (Clytemnestra) যিনি কি না রাজা আগামেমনন এর স্ত্রী। হেলেনের দুই জমজ ভাই ক্যাস্টর এবং পোল্যাক্স, যারা গ্রিক মিথোলজি অনুযায়ী ডায়াসিকুরি নামে পরিচিত। 

রাজকন্যা হেলেনের বিয়ে :

গ্রীক পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে স্পার্টার রাজা মেনেলাইস ছিলেন মাইসেনির কিংঅ্যাট্রেয়াসের পুত্র এবং মহান যোদ্ধা আগামেমনন এর ভাই
মেনেলাইসের সাথে হেলেনের বিয়ের আগে হেলেন লেডা এবং তার স্বামী স্পার্টার রাজা টেন্ডারিয়াসের সাথে থাকতেন। হেলেন যখন বিয়ের উপযুক্ত হয় তখন তার অনেক সমালোচক এবং শত্রু তৈরি হয় যারা তার ভবিষ্যত জীবনসঙ্গীকে হত্যাও করতে পারে। তার হবু স্বামীর প্রতি যে কোন সহিংসতা রোধ করতে গ্রীক যোদ্ধা ওডিসিস তার দেশবাসীকে শপথ করতে বাধ্য করেন যাতে তারা হেলেনের হবু স্বামীর ক্ষতি করার চেষ্টা না করে। ফলে কিছুদিনের মধ্যে হেলেন তার জীবনসঙ্গী হিসেবে মেনেলাইসকে বেছে নিয়েছিলেন, যিনি পরবর্তীতে স্পার্টার রাজা হন।

প্যারিস কে?

ট্রয়ের রাজপুত্র প্যারিস গ্রীক মিথে যিনি আলেকজান্দ্রা নামেও পরিচিত। ট্রয়ের কিং প্রিয়ামের পুত্র। প্যারিসের মা রানী হেকুবা। তাঁর জন্ম সম্পর্কিত একটি প্রচলিত ঘটনা আছে। মন্দ ও অমঙ্গলকে প্রতিষ্ঠা করার জন্যই রাজপুত্র প্যারিসের জন্ম এরকম একটি স্বপ্নের ভিত্তিতে, প্যারিসকে খুব অল্প বয়সেই তার পরিবার থেকে বিতাড়িত করা হয়।
স্বপ্নকে একটি দুষ্টু দৃষ্টান্ত হিসাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। প্যারিসকে ফেলে রাখা হয় এমন একটি নির্জন জায়গায় যাতে সে ক্ষুধা তৃষ্ণায় মৃত্যুবরণ করে। কিন্তু ভাগ্যের জোরে
কোনো পশু দ্বারা মতান্তরে কোনো রাখাল বালক দ্বারা তিনি লোকালয়ে ফিরে আসেন।

প্যারিসকে নিয়ে দেবতাদের কূটকৌশল :

প্যারিস হেলেনের প্রেম কাহিনীর পিছনে দেবতাদের প্ররোচনা ছিল বলে জানা যায়। পেলিয়াস এবং থেটিসের বিয়েতে দেবী এরিসকে নিমন্ত্রণ করা হয় নি বলে তিনি ক্ষুব্ধ হোন এবং ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হোন। তার ষড়যন্ত্রের বলি হোন প্যারিস।

কলহ,ঝগড়াবিবাদ, হিংসা-প্রতিহিংসার দেবী হচ্ছেন এরিস। তিনি রক্তাক্ত যুদ্ধের ময়দান দেখতে পছন্দ করতেন বলেই যুদ্ধ করতে প্ররোচিত করতেন মানুষকে। তার এই প্রতিহিংসামূলক মনোভাবের জন্যই পেলিয়াস এবং থেটিসের বিয়েতে তাকে নিমন্ত্রণ করা হয় নি।

এর প্রতিশোধ নিতেই তিনি দেবীদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করতে দেবী হেরা, আফ্রোদিতি এবং অ্যাথেনার বৈঠকের মধ্যে একটি সোনার আপেল ছুড়ে মারেন। এই আপেল নিয়ে তিন দেবীর মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে তারা জিউসের শরণাপন্ন হয়ে তাকেই সিদ্ধান্ত নিতে বলে যে আপেলটি কার ! জিউস ভালোভাবেই জানতেন কোন একজনের পক্ষে কথা বললে অন্য দুই দেবী তার উপর ক্ষুব্ধ হবেন। তাই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্যারিসকে ডেকে পাঠান।
তিনজন দেবীই প্যারিসের সামনে উপস্থিত হলেন এবং তারা তাকে লোভনীয় পুরষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেন।
হেরা এশিয়া ও ইউরোপ শাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, অ্যাথেনা যুদ্ধ এবং প্রজ্ঞায় বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে দেবী আফ্রোদিতি প্যারিসকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর নারী উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন। যিনি কিনা হেলেন,স্পার্টার রাজা মিনিলাইসের স্ত্রী। তবে তিনি প্যারিসের কাছে গোপন করেছিলেন হেলেন যে বিবাহিতা। প্যারিস দেবী আফ্রোদিতিকে বেছে নেন। এটাও দেবতাদের একটা কৌশল ছিল।

হেলেনের সাথে প্যারিসের দেখা ও প্রেম :

প্যারিস যখন জানতে পারলো হেলেন বিবাহিতা এবং তার সন্তানও আছে তারপরও সে এ কথায় কোন কর্ণপাত করলো না। বরং সে স্পার্টার উদ্দেশ্য রওনা হয়ে মেনেলাউসের প্রাসাদে তাঁর অতিথিরূপে প্রবেশ করলেন এবং রাজার অতি সুন্দরী স্ত্রীকে দেখে তার কানেকানে কিছু বলার চেষ্টা করলেন। একজন অচেনা পুরুষের এমন আচরণে হেলেন প্রতিবাদ না করে বরং তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন। প্যারিসের সুদর্শন চেহারা এবং তার অভিনব পোশাক হেলেনকে তার প্রতি দুর্বল করে তুলেছিল। এটাও দেবীদের কৌশলের একটা অংশ ছিল।

অপহরণ পর্ব :

দেবী আফ্রোদিতি হেলেনের মনকে এমনভাবে প্ররোচিত করে তুলেছিলেন যার ফলে হেলেন নিজের পরিবার, সংসার ছাড়তেও রাজি ছিলেন শুধুমাত্র প্যারিসকে পাওয়ার জন্য। যার ফলশ্রুতিতে হেলেন প্যারিসের সাথে পালিয়ে যেতে রাজি হয়। প্যারিস হেলেনকে নিয়ে পালিয়ে ট্রয়ে নিজ প্রাসাদে ফিরে আসেন। কিন্তু ছেলের এমন কার্যক্রম দেখে পিতা প্রিয়াম তাকে হত্যা করতে উদ্ধত হয়। তার মা হেকুবার মনে পড়ে যায় সেই স্বপ্নের কথা যে প্যারিস তাদের জন্য অভিশপ্ত।
এদিকে মেনেলাইস তার ভাই আর্জিভ মাইসেনির রাজা আগামেমননের কাছে আবেদন করেছিলেন তার স্ত্রী হেলেনকে উদ্ধারের ব্যাপারে সহযোগিতা করতে।আগামেমনন সমস্ত গ্রীসের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজা ছিলেন এবং তাঁর ক্ষমতার কাছে অন্য সব রাজা দায়বদ্ধ ছিলেন।

ট্রয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডাক :

হেলেনের বাবা টেন্ডারিয়াস (ইতিহাস অনুযায়ী) হেলেনের স্বামীর নাম ঘোষণার আগে গ্রীসবাসীকে দিয়ে হেলেনের বাবা ওয়াদা করিয়ে নিয়েছিলেন তারা যেন শুধু হেলেনের স্বামীর প্রতি অনুগতই না থাকে বরং হেলেনের সম্মান রক্ষা এবং সিদ্ধান্ত মেনে নিতে সর্বদা প্রস্তুত থাকে। সে অনুযায়ী গ্রীসের সবাই হেলেনের পালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান করছিলেন। আর তাই মেনেলাইস ইথাকার ওডিসিয়াসকে পাঠিয়েছিলেন যিনি উপন্যাসের নায়কদের মধ্যে বেশ চতুর ছিলেন। গ্রীসের প্রাসাদ ও শহরগুলো ঘুরে দেখে তথ্য সংগ্রহ করা, পাশাপাশি হেলেনকে মুক্ত করার ব্যাপারে সেখানকার মানুষদেরকে নিজেদের পক্ষে আনার জন্য তাকে নিযুক্ত করা হয়েছিল।

সত্যিকার অর্থে, গ্রীকরা পরবর্তীতে বুঝতে পেরেছিল
যে কোনও গ্রীক মহিলাকে তার স্বামী এবং তার সন্তানদের কাছ থেকে জোর করে নিয়ে যাওয়া খুব আপত্তিজনক । তাই তারা ট্রোজানদের এমন একটি শিক্ষা দিতে চেয়েছিল যা সমগ্র জাতি মনে রাখবে।

মিনেলাইস যখন সমবেত নৌবহরটি নিয়ে অলিসের বিশাল উপসাগরে পৌঁছেছিলেন তখন তিনি এক হাজার জাহাজ দিয়ে অলিস উপসাগরে ভরা দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন । তারপরে তিনি আবার ভাবলেন কীভাবে তার স্ত্রীকে শত্রুপক্ষের হাত থেকে উদ্ধার করা যায়? ফলে মিনিলাইস আগামেমননকে তাড়াতাড়ি করে তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রা করার আহ্বান জন্য জানান। তার ভাই কোনও উত্তর দেয়নি, শুধু মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। তখন তার গালে অশ্রু পড়ছিল। তাদের কথোপকথন চলা কলে ক্লাইটিমিনিস্ট্রা ও তাদের মেয়ে ইফিজেনিয়া এসে হাজির হয়। ক্লাইটিমিনিস্ট্রা জানায় তাদের মেয়ে ইফিজেনিয়াকে বিয়ে করতে হবে। আর তাদের সন্তান হবে পেলিয়াস এবং থেটিসের ছেলে আকিলিস

এদিকে মেনেলাইস এবং তার ধূর্ত গুপ্তচর ওডিসিস ট্রয়ে প্রবেশের পথে কিং প্রিয়ামের সবচেয়ে বুদ্ধিমান পরামর্শদাতা অ্যান্টেনর দেখা পান। তারা একত্রিত ট্রোজানদের উদ্দেশ্য রওনা হন। মেনেলাইস প্রিয়ামের প্রাসাদে গিয়ে জানায় তারা কোন লুটপাট কিংবা
যুদ্ধবিগ্রহ চান না। সেই সাথে প্রস্তাব দেন যে ট্রোজানরা কি এখন যুদ্ধ চায় নাকি স্বেচ্ছায় হেলেনকে তাদের হাতে তুলে দিবে। এর উত্তরে প্যারিস জানায় হেলেন শুধু মাত্র তার। হেলেন ভালোভাবেই জানে ট্রোজানরা শান্তিপ্রিয় এবং একমাত্র প্যারিসই তাকে সুখে রাখতে পারবে তাই হেলেন নিজে স্বেচ্ছায় প্যারিসের সাথে পালিয়ে আসতে রাজি হয়। সেই সাথে আরও বলে যে হেলেন দেবী প্রদত্ত উপহার প্যারিসের জন্য। তাই সে কোনভাবেই হেলেনকে তাদের হাতে তুলে দিবেন না। ফলে শুরু হয় ইতিহাসের বিখ্যাত সেই “ট্রোজান যুদ্ধ”

যুদ্ধের সময়কাল :

ট্রোজান যুদ্ধ ব্রোঞ্জ যুগের শেষের দিকে সংঘটিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। এটি খুব সম্ভবত ১২০০ বিসির কাছাকাছি বা তার আগে সংঘটিত হয়। গ্রীক মিথ অনুযায়ী এই সময়কালকে মাইসেনিয়ান বলে অভিহিত করা হয়েছেন। এই মাইসেনিয়ান সময়কালে গ্রীক বাসীদের মধ্যে লেখার প্রচলন শুরু হয় এবং সেই সাথে তারা দুর্দান্ত স্থাপনা তৈরি করা শুরু করে।

ট্রোজান যুদ্ধ :

ট্রোজ সেনাবাহিনী তাদের রাজা প্রিয়ামের নেতৃত্বে দুর্দান্ত ভাবে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন ট্রয় নগরীকে রক্ষা করতে। ক্যারিয়ানস, হ্যালিজোনস, ককোনস, কাইকোনস, লাইসিয়ানস, মায়নিয়ানস, মাইসিয়ানস, পাইওনিয়ানস, পাফলাগনিয়ানস, পেলাসিয়ানস, ফ্রিগিয়ানস এবং থ্রেশিয়ানস নামক মিত্রদের কাছ থেকে সহযোগীতাও পেয়েছিলেন।

ট্রোজানরা তাদের সৈন্যবাহিনীকে দুইভাগে বিভক্ত করেছিলেন। একদল অধিক শক্তিশালী আরেক দল অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী। অধিক শক্তিশালী দলে ছিলেন প্রিয়ামের পুত্র প্যারিস (যিনি কি না হেক্টর নামেও পরিচিত)। আয়নিয়াস, সার্পেডন, গ্লাওকোস, ফোরকিস, পুলিদামাস এবং রিসোস অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে এটা ঠিক দেবী আফ্রোদিতি, অ্যাপোলো, এরিস এবং লেটো থেকে যুদ্ধের সময় ট্রোজানরা সাহায্য পেয়েছিলেন।

ট্রোজান যুদ্ধের বেশিরভাগ অংশটি ছিল শহরটিকে একটি দীর্ঘ সময় ধরে অবরোধ করে রাখা। তবে ট্রোজান সেনারা দীর্ঘকাল ধরে আক্রমণকারীদের প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছিল মূলত এর কারণ দুর্গটি এত বিশাল ছিল। প্রকৃতপক্ষে, গ্রীক পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, ট্রয়ের দেওয়ালগুলো পোসেইডন এবং অ্যাপোলো দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। এদের জঘন্য আচরণের জন্য জিউস বাধ্য হয়ে শাস্তিস্বরূপ তাদেরকে আদেশ করে এক বছরের জন্য ট্রোজান কিং লুমেডন এর সেবা করতে। যদিও যুদ্ধটি শহরের বাইরে সংঘটিত হচ্ছিল যেখানে সেনাবাহিনীর বহর কখনও কখনও রথের সাথে লড়াই করেছিল। তবে বেশিরভাগ লোক বর্শা এবং তরোয়াল ব্যবহার করে এবং বুক এবং পা শীল্ড, হেলমেট এবং বর্ম দ্বারা সুরক্ষিত করছিল। বছরের পর বছর ধরে ট্রয়ের রণভূমি যুদ্ধে কাঁপছিল।

দ্য ট্রোজান হর্স অ্যাণ্ড ভিক্টরি :

যুদ্ধটিতে অ্যাথিলিসের রাজা মেমনন এবং অ্যামাজন পেন্টেসিলিয়ার সাথে অ্যাকিলিসের লড়াই, হত্যাসহ আরও বেশ কিছু উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে। তারা দুজনেই ট্রোজানের সহায়তায় এসেছিলেন। এমনকি অ্যাকিলিস তার বর্শার সাহায্যে অ্যামাজনকে হত্যা করার মুহুর্তে সুন্দরী অ্যামাজনের প্রেমে পড়েছিলেন বলেও জানা যায়। অ্যাকিলিসের একমাত্র দুর্বল জায়গায় তার গোড়ালিতে প্যারিস গুলিবিদ্ধ করে যা দেবী অ্যাপোলো দ্বারা নির্দেশিত ছিলো। পরবর্তীতে তীরের আঘাতে
অ্যাকিলিস নিজেই তার দুর্ভাগ্যের সাথে সাক্ষাত করেছিলেন। ওডিসিস এবং অ্যাজাক্স নায়কের মতো দুর্দান্তভাবে শত্রুপক্ষের বর্মের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তবে মজার বিষয় হচ্ছে পুরষ্কারের লোভে অ্যাজাক্স হিংস্র হয়ে উঠে শত্রুপক্ষের জন্য। তবে শেষ পর্যন্ত পুরষ্কার না পেয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে অ্যাজাক্স।

হারকিউলিসের বিখ্যাত ধনুকের সাহায্যে প্যারিসকে মারাত্মকভাবে আঘাত করে ফিলিখতেটিস অ্যাকিলিস এর প্রতিশোধ নিয়েছিলেন। অবশেষে, ওডিসিযস এমন ছদ্মবেশে শহরে প্রবেশ করতে এবং এথেনার পবিত্র প্যালেডিয়ান মূর্তিটি চুরি করতে সক্ষম হয়েছিল।

যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপটি ছিল কাঠের ঘোড়ার দ্বারা। এই কাঠের ঘোড়ার দ্বারাই যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায়। অ্যাথেনার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ওডিসিস ট্রয়ের সীমানার ভিতরে এমন একটি কাঠের ঘোড়া রেখে আসে যার ভিতরে আসলে গ্রীক সেনারা অবস্থান করছিলো। গ্রীকদের একটি দল সূর্যাস্তের পর যাত্রা শুরু করল। ট্রোজান বাহিনীরা ঘোড়াটিকে সাধারণ ঘোড়া মনে করে তাদের আস্তানায় নিয়ে যায় এবং বিজয়ের উল্লাস করতে মদ্যপ পান করতে থাকে। ট্রোজানদেরকে মাতাল অবস্থায় দেখে ঘোড়া থেকে গুপ্তঘাতকরা বের হয়ে ট্রোজান বাহিনীর উপর ঝাপিয়ে পড়ে। অন্যদিকে ট্রয় নগরীর প্রবেশ দ্বারও খুলে দেয়।
রাতের অন্ধকারে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ,ধর্ষণ চলতে থাকে। ফলে শান্তিপূর্ণ ট্রয় নগরী ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ট্রয়ের যেসব সাধারণ জনগণ বেঁচে ছিলো তাদেরকে দাস হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয় গ্রীসে।
হেলেনকে আরগোসে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং ট্রোজান বীরদের মধ্যে কেবল আয়নিয়ই অবশেষে ইতালিতে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

গ্রীকদেরকে তাদের এই বিজয়ের দাম দিতে হয়েছিলো আরও ভয়াবহভাবে। শহর ও তার জনগণের উপর নির্দয়ভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো এবং এর চেয়েও খারাপ, কাসান্দ্রার ধর্ষণের মতো ভয়াবহ বিদ্বেষমূলক কাজ করার কারণে দেবতারা গ্রীকদের ফিরে যাওয়ার সময় তাদের জাহাজ তলিয়ে দেওয়ার জন্য ভয়াবহ ঝড়ের সম্মুখীন করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত যারা বেচে ফিরে এসেছিলেন তাদেরকে দীর্ঘ সময় লড়াই করতে হয়েছিলো মাঝ সমুদ্রে।

ট্রোজান যুদ্ধের পর কি হয়েছিলো হেলেনের?

দ্য ফল অব ট্রয়” থেকে জানা যায়, যে দেবী আফ্রোদিতি হেলেনকে ট্রয় শহর থেকে বের করে তার প্রথম স্বামী মেনেলাইসের কাছে ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। তার স্বামীও
তাকে আনন্দের সাথে গ্রহণ করেছিলেন এবং গ্রীসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার সময় তাঁরা একসাথেই ছিলেন।

“মিশরে হেলেন” এই শিরোনামের একটি নাটক থেকে জানা যায়,হেলেম আসলে কখনো ট্রয়ে যান নি। দেবতারা হেলেনকে মিশরে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং সেখানে তিনি থিয়োক্লিমেনাসের রাজ্যে ছিলেন, যিনি তাকে বেশ কয়েকবার বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু হেলেন এই মিশরীয় বাদশাহ এর প্রস্তাব বহু বছর ধরে উপেক্ষা করে আসছিলেন অবশেষে মেনেলাইস ট্রয় থেকে ফেরার পথে হেলেনকে বাদশাহরর হাত থেকে উদ্ধার করেছিলেন।
পৌষানিয়াসের কিছু সূত্র মতে,হেলেন এবং মেনেলাইসকে থেরাপিন নামক স্থানে সমাধিস্থ করা হয়েছিল।

অন্যরা বলেছেন মেনেলাইসের মৃত্যুর পরে হেলেন রোডস দ্বীপে চলে গিয়েছিলেন। সেখানে দ্বীপের রানী পলিক্সো এবং তার কিছু দাসী মিলে হেলেনকে আক্রমণ করেছিল। এক পর্যায়ে তারা তাকে একটি গাছ থেকে ঝুলিয়ে হত্যা করে।

আসলে ট্রোজান যুদ্ধের পর হেলেনের কি হয়েছিলো সেই সম্পর্কে কোন সঠিক তথ্য পাওয়া যায় নি ইতিহাসে।বিভিন্ন ইতিহাস বিভিন্ন কথা বলেছেন। কেউ বলেছেন হেলেন তার নিজ ভাইকে বিয়ে করেছিলেন আবার কেউ বা বলেছেন সে তার প্রথম স্বামী রাজা মেনেলাইসের সাথে পুনরায় সংসার করতে শুরু করেন।

রেফারেন্স :
১.http://www.ancientgreece.co.uk/gods/explore/aph_sto.html
২.https://www.enotes.com/homework-help/how-did-helen-fall-love-with-paris-homers-lilad-304342
৩.https://www.ancient.eu/Trojan_War/

আপনার মতামত লিখুন :

ট্যাগ
Back to top button
Close