জীব রসায়নবিবিধ

মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবা এবং এর সংক্রামণ

২০১৮ সাল পর্যন্ত আক্রান্তনের সংখ্যা ১৪৬ জন

অ্যামিবা কথাটা শুনলেই স্কুল জীবনের বিজ্ঞান বইয়ে পড়া দুটো শুড় সহ অথবা শুড় ছাড়া, আকৃতি পরিবর্তনকারী এককোষী খুব নিরীহ এক জীবের ছবি চোখের সামনে ভেসে উঠে। বাস্তবেও কথাটিই সত্যি অনুবীক্ষন যন্ত্রের নীচে অ্যামিবা একটি প্রানবন্ত  এককোষী জীব।

যার দেহে আঙ্গুলের আকৃতির প্রোটোপ্লাজমিও ক্ষনপদ আছে , যার মাধ্যমে সে একজায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলাফেরা করে এবং শিকার ধরে। 

কিন্তু এই নিরীহ এককোষী প্রানীটি  এক ভয়ংকর রুপ ধারন করে যখন একটি অ্যামিবার বদলে কিছু সংখ্যক অ্যামিবা মিলে একটি থ্যাকথ্যাকে অ্যামিবার দল গঠন করে  

এর মাধ্যমে তারা কোন ব্যাক্টেরিয়াকে শরীরের ভীতরে  নিয়ে যায় এবং একটি  সম্মিলিত  পরিপাকক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে আস্তে আস্তে ছোট ছোট টুকরো করে ভক্ষন করে। 

এখন অনেকের মনেই হয়ত এই  প্রশ্ন আসতে পারে যেছোট ব্যাক্টেরিয়া কে পরিপাক করতে পারলে তা মানুষের জন্য বিষেশ করে মস্তিষ্কের জন্য কেন ক্ষতির কারন হবে?

মানুষতো আর ব্যাক্টেরিয়ার মতো ছোট নয় আবার মানুষের কোষের গঠনও ব্যাক্টেরিয়া থেকে অনেক উন্নত।  এর উত্তর হলো মস্তিষ্কের ভেতরে তাদের এই  দলগত বা সম্মিলিত পরিপাক প্রক্রিয়ার জন্য। 

Brain-Eating Amoeba (Naegleria fowleri) Symptoms & Treatment

কি ভাবে ব্রেইনে প্রবেশ করে এই অ্যামিবা

Naegleria fowleri  যা ব্রেইন ইটার বা মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবা নামে পরিচিত। এই ব্রেইন ইটার বা মস্তিষ্ক খেকো অ্যামিবা  প্রকৃতিতে দুর্লভ  তবে অত্যন্ত মরনাক্তক। 

কারন ১৯৬২ সালে প্রথম এর অস্তিত্ত্ব প্রকাশ পাবার পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত আমেরিকায় ১৪৬ টি  আক্রান্ত ব্যাক্তির কথা নথিবদ্ধ হয়েছে যাদের মধ্যে দুজন সুস্থ হয়ে ফিরে আসলেও বাকি সবাই মারা যান   অর্থাৎ এর দ্বারা আক্রান্ত হলে মৃত্যু হার ৯৭% যা একে করে তুলেছে অত্যন্ত মরনাক্তক। 

এর অতি সাম্প্রতিক একটি আক্রমনের শিকার ছিল  গত ২২ জুলাই আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যের ৫৯ বছর বয়সী একজন বাসিন্দা যিনি পরবর্তিতে  মারা যান। অন্য একটি ছিল গত ২৮শে সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে একটি বছরের শিশুর মধ্যে তার আক্রান্তের মাধ্যম ছিল তাদের বাসার বাগানের কলের পানি থেকে। এর পর্বতীতে বর্তমানে সেখানে এই রোগের সংক্রামনের জন্য রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। কারন সেই বাগানের পানির সুত্র ধরে অনুসন্ধান করার পর তারা এই অ্যামিবা শহরের কিছু পুলে, ফায়ার হাইড্রেন্ট সহ আরো কিছু জনসমাগম পূর্ন স্থানে এর অস্ত্বিত্ত পাওয়া গেছে।

Naegleria fowleri এর  মস্তিষ্কে আক্রমনঃ

Naegleria fowleri  বা ব্রেইন ইটার অ্যামিবাটি সাধারণত উষ্ণ পানিতে বিস্তার লাভ করে এবং লেক, পুকুর ধরনের জাগায় বেশি বিস্তার লাভ করে। তাই শীত প্রধান দেশে গরমের সময় এর প্রভাব দেখা যায়।

 N.fowleri সম্বলিত পানি নাকের সংস্পর্শে আসলে তা অলফ্যাক্ট্রি নার্ভের (যা আমদের ঘ্রান সনাক্ত করার ক্ষেত্রে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্কের ফ্রন্টার লোবের সাথে যুক্ত) মাধ্যমে মস্তিষ্কে প্রবেশ করে।   সেখানে তারা মানুষের দেহে প্রবেশের আগে প্রকৃতিতে যেমন ব্যাক্টেরিয়াকে খাদ্য হিসেবে গ্রহন করতো , মানুষের দেহে প্রবেশের পর তারা সেখানে মানুষের মস্তিষ্ককে খাদ্য হিসেবে গ্রহন করে। 

যার ফলে সেখানে ইনফেকশনের শুরু হয় এবং পরিস্থিতিকে PAM (primary amebic meningoencephalitis) বলা হয়। 

Ameba "comedora de cérebro" gera preocupação nos EUA | Exame
ব্রেইন ইটার অ্যামিবার মস্তিষ্কে সংক্রামন

তাহলে কিভাবে এর থেকে বাঁচা যাবে ?

উত্তরটি খুবই সহজ এই অ্যামিবা মানুষের মস্তিষ্কে শুধু এবং শুধু মাত্র প্রবেশ করে যখন এই অ্যামিবা সম্বলিত পানি মানুষের নাকের সংস্পর্শে আসে এছাড়া পানি পান করলে বা অন্য কোন ভাবে শরীরের সংস্পর্শে আসলেও তার থেকে ক্ষতির তেমন কোন সম্ভাবনা নেই তাই কোন এলাকায় এর সংক্রামনের খবর পাওয়া গেলে সেখানের যে কোন পুল, লেক , পুকুর বা কলের পানি নাকের সংস্পর্শে না আনাই শ্রেয়। 

 

 তথ্যসুত্রঃ

https://www.sciencedirect.com/science/article/abs/pii/S0001706X1400357X
http://www.ayubmed.edu.pk/jamc/index.php/jamc/article/view/309
https://www.livescience.com/66083-why-brain-eating-amoeba-is-deadly.html

আপনার মতামত লিখুন :

ট্যাগ
Back to top button
Close