জীব রসায়নজীববিজ্ঞান

করোনাভাইরাস এবং আপনাকে যা যা জানতে হবে।

এক মরণঘাতী করোনাভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে গণচীনের প্রায় ১৭০ জন লোক এখন পর্যন্ত মারা গিয়েছেন। সূত্রপাত ঘটে কেন্দ্রীয় শহর Wuhan থেকে। প্রায় ২০ টি শহরে সরকার বাধ্যতামূলকভাবে সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও দাপ্তরিক কাজকর্ম বন্ধ করে রেড এলার্ট জারি করে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে প্রায় ৫৬ মিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত হতে পারে যার ফলাফল হবে ভয়াবহ। প্রায় ৬০০০ এর অধিক কেস রিপোর্ট করা হয়েছে যার অধিকাংশই Wuhan এবং আশেপাশের শহর থেকেই সংক্রমিত হচ্ছে। বলে রাখা ভালো যে এই মহামারী ২০০২-০৩ সালের SARS ভাইরাস থেকেও বেশি ছড়িয়ে পড়েছে যেটার উৎপত্তিস্থল ছিল চীন।

করোনাভাইরাস কী?
World Health Organisation(WHO) এর মতে করোনাভাইরাস হচ্ছে এমন একপ্রকার ভাইরাস যা মানুষে সাধারণ ঠান্ডা সর্দি- জ্বর থেকে শুরু করে বড় রকমের রোগ যথা Middle East Respiratory Syndrome (MERS) ঘটাতেও সক্ষম৷ এই ভাইরাসটি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে যেমনটা হয়েছিল SARS। ধারণা করা হয় বিড়াল থেকে মানুষের মধ্যেই ছড়িয়েছিল SARS আর উট থেকে ছড়িয়েছিল MERS.
Corona virus নামটি আসে ল্যাটিন শব্দ Corona থেকে যার অর্থ হচ্ছে মুকুট। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের নিচে এটিকে দেখায় সূর্যের কেন্দ্র বা কোরের মতো।

কী কী লক্ষণসমূহ দেখায়?
ডাক্তারদের ভাষ্যমতে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া শুরু হয় সর্দি জ্বরের মাধ্যমে। দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশন এবং নিশ্বাসে জটিলতা। যখন তীব্র পর্যায়ে সংক্রমণ হয় তখন দেখা দেয় নিউমোনিয়া, Severe Acute Respiratory Syndrome(SARS) এমন কী মৃত্যু! এই রোগের সুপ্তাবস্থা কতদিন জানা যায়নি, তবে কিছু গবেষণা তথ্য দেয় যে ১০-১৪ দিন পরও লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে।
এটা কতটা মারাত্মক?
বিজ্ঞানীরা বলেন এটা অন্য করোনাভাইরাসের মত এতটাও ভয়ংকর নয়। যেমনটা SARS এর কারণে প্রায় পৃথিবীতে ৮০০ মানুষ মারা যায় যার মধ্যে ৩০০ ই চীনের। ২০০২-০৩ সালে এমনটা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর চেয়েও ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে করোনাভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া এতটাই দ্রুত যে তা SARS কে ছাড়িয়ে গিয়েছে এবং সেটা মোটেও ভালো খবর নয়।

এর প্রতিকার কী?
এখন পর্যন্ত কোনোরকমের ভ্যাক্সিন আবিষ্কৃত হয়নি। তবে চীন সরকার সর্বোচ্চ যা করতে পেরেছে সেটা হলো Wuhan প্রদেশকে সম্পূর্ণ ভাবে সিল করে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে বেশ কিছু শহরে যানবাহনে চলাচলের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বেশ কিছু উড়োজাহাজ কোম্পানি এর মধ্যে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ তাঁদের ফ্লাইট চীনে বাতিল রেখেছে।

ভাইরাসটির উৎপত্তি হলো কীভাবে?
চীনের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এখনও এটা নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। তাঁরা ধারণা করছে রোগের সূত্রপাত হতে পারে Wuhan এর Sea food Market থেকে। যেখানে একাধারে যেমন সামুদ্রিক খাবার বিক্রি হয় আবার পাশেই অবৈধভাবে বন্য প্রাণীর চালান বিক্রি হয়। WHO বলছে প্রাণির সংস্পর্শই ভাইরাসটি ছড়ানোর প্রাথমিক পন্থা এবং সেটা হচ্ছে সাপ!

সবথেকে ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে এই যে বর্তমানে WHO গ্লোবাল ইমার্জেন্সি বা বৈশ্বিক সতর্কতা জারি করেছে করোনাভাইরাসের উপর। ১৮ টি দেশের প্রায় ১০০ এর অধিক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই Wuhan এর নাগরিক ছিলেন যেখান থেকে ভাইরাসটির উৎপত্তি। এখন পর্যন্ত পুরো বিশ্বে ৫ টা মহামারী রোগ দেখা দিয়েছে ২০০৫ সালের পর থেকে। সোয়াইন ফ্লু(২০০৯), পোলিও(২০১৪), জিকা(২০১৬) , ইবোলা(২০১৬) এবং আবারও ইবোলা(২০১৯) সালে। দিনশেষে সবারই উচিত সতর্ক থেকে দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা করা।

তথ্যসূত্রঃ আলজাজিরা, WHO

আপনার মতামত লিখুন :

ট্যাগ
Back to top button
Close