জীববিজ্ঞান

আজকের পাখিই কি অতীতের ডাইনোসর? পর্ব-২

যদি ১ম পর্ব না পড়ে থাকেন তবে অনুরোধ আগে ১ম পর্বটি পড়ে নেবেন। ১ম পর্বটি পড়তে ক্লিক করুন এখানে।

১ম পর্বে বর্তমানের পাখির সঙ্গে ডাইনোসরের একটি সম্পর্ক দেখানো হয়েছে। এবং বিবর্তন ঠিক কি উপায়ে কাজ করেছে সেটাও বলা হয়েছে। এ পর্বে বিভিন্ন ধরণের খেচরের সাথে ডাইনোসরের একটি মিলযোগ দেখানোর চেষ্টা করবো। আর এর মধ্য দিয়ে ইতি টানবো এই সিরিজের।

আকাশ ছোঁয়ার পথ

ডাইনোসর কিভাবে উড়তে শিখেছে তা তো ১ম পর্বেই জেনে গেছেন। তো টেরোডাকটাইল বা টেরোসলস এর নাম শুনেছেন? নিচে তাদের একটি ছবি দেওয়া হল।

টেরোসরস

এরা আকাশে উড়তে পারতো। অন্তত তাদের দেহের পাখা তো তাই বলে। কিন্তু মজার ব্যাপার হল এরা ডাইনোসর ছিল না। এরা প্রাগৈতিহাসিক সরীসৃপ। জুরাসিক এবং ক্রিটেশাস যুগে এরা জীবিত ছিল। অর্থ্যাৎ সরীসৃপদেরও আকাশে উড়ার ক্ষমতা থাকতে পারে। এক সময় যেহেতু ছিল। মেরুদন্ডী প্রাণীদের মাঝে আকাশে উড়া সম্বন্ধনীয় বিবর্তন হয়েছে মোট তিনবার। বর্তমানের অনেক মেরুদন্ডীও কিন্তু এই বিবর্তন ধারার মধ্যে রয়েছে।

টেরোসরস

টেরোসরসরা ছিল বিশালদেহী সরীসৃপ। প্রায় ১৪০ মিলিয়ন বছর ধরে এরা পৃথিবীর বুকে বিচরণ করেছে। এদের সময় এরাই ছিল আকাশের রাজা। অন্য কোন খেচরের সাহস ও শক্তি কোনটিই ছিল না এদের ধারে কাছে আসার।

টেরোসরসের সামনের পা দুটোর কেনি বা সবচেয়ে ছোট আঙ্গুলের মেমব্রেন বা পাতলা পর্দার সামনের দিকে অতিমত্রায় প্রসারণ ঘটে। প্রসারণ শেষে সেই পর্দা আবার ফেরত এসে পায়ের সাথে যুক্ত হয়। এভাবেই এদের পাখার গঠন হয়েছিল। গরিলা যেরকম নাকল বা মুষ্টিবদ্ধ হাতের উপর ভর করে হাঁটে। এরাও গরিলার মতো নাকলের সাহায্যে বুকে ভর দিয়ে হাঁটত। উড়তে উড়তে ক্লান্ত হয়ে যাওয়ার পর এরা অন্যান্য খেচরের মতো গাছে বসতো না। এরা সরাসরি মাটিতে নামতো। এদের পাখার দৈর্ঘ্য ছিল ৩ ফিটের মতো। আর উচ্চতায় প্রায় জিরাফের সমান।

পাখি

১ম পর্বে পাখিদের নিয়ে অনেক কথাই হয়েছে। তাই তাদের নিয়ে বেশি কথা আর বলবো না। টেরোসরসের মতোন এদের দেহেও পাখা তৈরি হয়েছে হাত থেকে। তবে পাখির ক্ষেত্রে একটু ব্যাতিক্রম। এদের পাখা এসেছে অক্ষম হাত থেকে।

পাখিদের পাখার পুরুত্বও বেশি। আর এদের ফাঁপা হাড় এদের শারীরিক গঠনকে আরো বিশেষায়িত করেছে। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে এদের চলন আরো সহজ। তার উপর টেরোসরসদের মতোন এদের পাখা কোন মেমব্রেনের সাথে সংযুক্ত নয়। ফলে কোন শারীরিক জড়তা কাজ করেনা এদের দেহে। আর আরো স্বাধীনভাবে এরা আকাশে উড়তে পারে।

বাঁদুড়

এতো কিছু পড়ার পর এটা মনে হওয়া স্বাভাবিক যে বাঁদুড় আর টেরোসরসের পাখা একই রকম। যেহেতু আমরা সবাই জানি বাঁদুড়ের পাখার জন্ম হাতের প্রসারণের কারণে। কিন্তু কিছু পার্থক্য আছে। টেরোসরসের একটি আঙ্গুলের মেমব্রেনের প্রসারণ ঘটেছিলো। কিন্তু বাঁদুড়ের বেলার প্রতিটি আঙ্গুলের মেমব্রেনের সমানুপাতিক হারে প্রসারণ ঘটে। ফলে এদের পাখা আরো বেশি সুস্থিত।

বাঁদুড়ের পাখার দিকে লক্ষ্য করবেন

এরা বেশিদিন হয়নি উড়া শিখেছে। মাত্র ৫০ মিলিয়ন বছর। মানে খেচর প্রজাতি গুলোর মধ্যে এরা এখনো শিশু। যদিও এদের বিবর্তনের গল্পে কম চড়াই-উতরাই নেই।

গ্লাইডার

অনেক মেরুদন্ডীর পাখা থাকা সত্ত্বেও এখনো উড়া শিখতে পারেনি। কিন্তু অনেকেই গ্লাইড করতে পারে। এখন কথা হচ্ছে গ্লাইড করা আবার কি? এর আক্ষরিক অর্ত ধীরে ভাসিয়ে চলা। মোটকথা এদের পাখা আছে। কিন্তু এরা উড়তে পারে না। তবে এদের উপর থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হলে এরা দ্রুত নিচে পড়ে যায় না। এরা খুব ধীরে ধীরে নিচে পড়ে। এরা কিছু সময়ের জন্য এদের পাখার সাহায্যে নিজেদের হাওয়ায় ভাসিয়ে রাখতে পারে। এটাই হল গ্লাইড করা বা গ্লাইডিনং। এধরণের প্রাণীদের বলা হয় গ্লাইডার।

ফ্লাইং স্কুইরেল বা উড়ন্ত কাঠবিড়াল গ্লাইডারদের মধ্যে পরিচিত প্রাণী। এছাড়াও আরো অনেক প্রাণী রয়েছে। তবে সবাই যে কাঠবিড়ালের মতো স্তন্যপায়ী তা নয়। যেমন ফ্লাইং স্নেক। এই সাপ শূণ্যতেও নিজের শরীরকে ধাক্কিয়ে সামনের দিকে নিতে পারে। তারপর গ্লাইডিং ফ্রগ। এদের পা জালের মতো ছড়ানো। এই পা’কে তারা প্যারাসুটের মতো করে ব্যবহার করতে পারে।

ফ্লাইং স্কুইরেল
ফ্লাইং স্নেক
গ্লাইডিং ফ্রগ

এদের বাইরেও জলজ প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে ফ্লাইং ফিশ ফ্লাইং রেস

ফ্লাইং ফিশ
ফ্লাইং রেস

কে বলতে পারে হয়তো কয়েক মিলিয়ন বছর এইসব প্রাণিকেই আকাশে উড়তে দেখা যাবে। সবই বিবর্তনের খেলা।     

আপনার মতামত লিখুন :

ট্যাগ
Back to top button
Close