জীব রসায়নজীববিজ্ঞানপ্রযুক্তি

ই-স্কিন

এক নতুন বায়োমেডিক্যাল ডিভাইস

ইলেকট্রিক স্কিন, ই-স্কিন নামে পরিচিত। খুব পাতলা এই ই-স্কিন এ রয়েছে অনেক ধরণের বায়ো-সেন্সর। বর্তমানে এটি তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন সাইজে। দুর্ঘটনায় থেতলে যাওয়া চামড়া বা আগুনে পুড়ে যাওয়া চামড়ায় কোনো অনুভুতি থাকে না। এতে এ আছে, চাপ,তাপ,আদ্রতা এবং বায়ু প্রবাহ অনূভবের জন্য বায়োসেন্সর। ই-স্কিন এর ডেভেলপার Prof. Wei Zhang এর মতে,

 ই-স্কিনে আছে সিলভারের কিছু ন্যানো পার্টিকেল যা চামড়ায় দিবে মেকালিক্যাল স্ট্রেনথ আর অন্যদিকে বাহিরে থেকে কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়াও সহজে হবে না।

এই ই-স্কিন কি গতানুগতিক চামড়ার ন্যায়?

মোটেও না। এতে আছে সেলফ হিলিং বৈশিষ্ট্য। আপনারা অনেকেই শুনে থাকবেন যে, ২য় বিশ্বযুদ্ধে বোমারু  ট্যাংক এর তেলের ট্যাংক এ গুলি করলে ট্যাংকগুলো ধ্বংস হয়ে যেত। ঠিক তখনি এমন একটি মেটারিয়াল নিয়ে গবেষণা করা যয় যা ফুটো হয়ে গেলে কিছুক্ষনের মধ্যেই সেই ফুটো পুনরায় মেটারিয়াল দিয়ে পূর্ণ হয়ে যাবে। এই বিশেষ ধরণের মেটারিয়াল ছিলো সেমিকন্ডাক্টর

আরো রয়েছে

যেকোনো আকৃতি দেওয়া যায় ই-স্কিন কে। আমাদের হাতের কুনই বা পায়ের গোরালি অথবা হাটুতে থাকা চামড়া চলাফেরার সময় সংকোচন প্রসারণ হয়ে থাকে। ই-স্কিন কে সামান্য তাপ দিয়ে বাকিয়ে যেকোনো ক্ষতস্থানে লাগানো যায়। আর এটি আমাদের দেহের চামড়া থেকেও বেশি সংকোচন প্রসারণ হতে পারে।

ই-স্কিন তৈরি করা হয়েছে ইথানলের মধ্যে তিনটি বানিজ্যিক ক্যামিকেল এর কম্বিনেশনে। তিনটি ক্যামিকেল সম্পর্কে গবেষকরা এখনো মিডিয়াকে জানায় নি। তবে এতোটুকু সহজেই বুঝতে পারছেন যে, ইথানল যেহেতু আছে তাই এটি একটি পলিমার হতে পারে। এবং এটি একটি বায়ো-পলিমার।  লাগানোর কিছুক্ষনের মধ্যেই আপনার চামড়ার সাথে পলিমার তৈরি করে নিবে। তখন ই-স্কিন থেকে সেন্সরে প্রাপ্ত সেন্সগুলো আপনার বডিতে থাকা আসল চামড়া হয়ে মস্তিষ্কে চলে যাবে।

নিচে যদি নতুন চামড়া উঠে তবে কি হবে?

অনেক সময় দেখা যায় নতুন করে চামড়া উঠতেছে। তাহলে ই-স্কিন ও যদি থাকে সেক্ষেত্রে একটু অস্বস্থি হতে পারে। সমস্যা সমাধানের জন্য এর ডেভেলপার রা তৈরি করে একটি ক্যামিকেল। ক্যামিকেল টি ই-স্কিনের উপর স্প্রে করলে ই-স্কিনের তৈরি হওয়া বায়ো পলিমার গুলো মনোমারে ভাগ হয়ে যায়। কিছুক্ষনের মধ্যে তা গ্যাস হিসেবে পরিবেশে মিশে যায়।

আপনার মতামত লিখুন :

ট্যাগ
Back to top button
Close