জীববিজ্ঞানপ্রযুক্তি

ঘরে বসেই হোক জিন এডিটিং!!

জিন এডিটিং এখন আরো সহজ। বিজ্ঞান এবার তাকে এনে দিয়েছে আপনার ঘরে।

আমরা এখন পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক সময়ে বাস করছি। ২১শতক। প্রতিনিয়ত বিজ্ঞান নিজেকে ছারিয়ে যাচ্ছে। একের পর এক রোমাঞ্চকর সব আবিষ্কার হয়েই চলেছে। ২১শতকের শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার গুলোর একটি হচ্ছে নতুন জিন এডিটিং প্রযুক্তি, যা CRISPER CAS-9 নামে পরিচিত। একে DNA Testing Technology ও বলা যায়। এই প্রযুক্তি DNA পরিবর্তন দ্রুত, সাশ্রয়ী ও সহজ করেছে।

CRISPER-9 ব্যাকটেরিয়ার রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাপনা হতে অনুপ্রাণিত। ব্যাকটেরিয়ার ইমিউন সিস্টেম অনেকটা মানুষের ইমিউনে সিস্টেমের মতোই কাজ করে।

আমরা সবাই জানি যে ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে থাকে। এসময় ব্যাকটেরিয়াল ইমিউন সিস্টেম ভাইরাসের DNA এর একটি অংশ কেটে রাখে এবং বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করে রাখে,যা দিয়ে সে একটি অস্ত্র তৈরী করে। এই অস্ত্র এন্টিবডি হিসেবেই পরিচিত। এই এন্টিবডি পরবর্তীতে একই ভাইরাসের আক্রমণ হতে ব্যাকটেরিয়া কে রক্ষা করে।

CRISPER-9 ও অনেকটা এরকম কাজ করে। copy-paste এর মতো।

Bio-hacking নামক এক কোম্পানি CRISPER KIT ISO নামের একটি প্যাক হোম ডেলিভারি করছে ১৫০ ডলারের বিনিময়ে। ঘরে বসে মাত্র ১০ ঘন্টায় জিন টেস্টিং করা যাবে এই টুল কিটের মাধ্যমে। এটি দিয়ে খুব সহজেই কিটে উল্লেখিত ইন্সট্রাকশন ফলো করার মাধ্যমে এন্টিবায়োটিক স্টেপটোমায়োসিন তৈরী সম্ভব। এ জন্য E.coli bacteria ব্যবহার করা হয়। এই ব্যাকটেরিয়াকে Non pathogenic বলা হয়, অর্থ্যাৎ এটি বিষাক্ত নয়, এটি কখনই আপনার কোন ধরনের রোগ সৃষ্টির কারণ হবে না। যদিও জার্মান গবেষকরা এর পক্ষে নয়। এই টুল কিট টা দেখতে এরকম।

২০১২ সালে বিজ্ঞানীরা এই প্রযুক্তি নিয়ে নানা পরীক্ষা শুরু করে। DNA copy-paste এর মাধ্যমেই এর সকল কাজ হয়ে থাকে। এই প্রযুক্তির সাহায্য খাদ্যশস্য হতে কোন বৈশিষ্ট্য বাদ দেয়া বা নতুন কোন বৈশিষ্ট্য সহজেই যোগ করা সম্ভব যার মাধ্যমে প্রতিকূল পরিবেশেও খাদ্য উৎপাদন সম্ভব। শুধুমাত্র খাদ্যশস্য নয় চাইলে মানবদেহ থেকেও জিন এডিটিং এর মাধ্যমে কোন বৈশিষ্ট্যের বিলুপ্তি ঘটানো যেতে পারে আবার নতুন কোন বৈশিষ্ট্য সংযোজনও করা যেতে পারে।

এই প্রযুক্তির সাহায্যে মানব সম্প্রদায়ের জেনেটক ডিসঅর্ডারের যেমন: পলিসাইথেমিয়া,কালার ব্লাইন্ড ইত্যাদির বিলুপ্তি ঘটানো সম্ভব। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে ভালো দিক হল এটি আগের সকল প্রযুক্তি থেকে উন্নত, সাশ্রয়ী ও সহজ। মানুষের ক্যান্সার রোগের প্রতিষেধক তৈরীও সম্ভব। সেটি নিয়েই অনেক ধরনের পরীক্ষা বর্তমানে চলমান।

কিন্তু পৃথিবীর কোন কিছুই পারফেক্ট না। এটিও না। জিন এডিটং এর সময় অনেক ক্ষেত্রে মিস ম্যাচ হয়। এটি অনেক এডভান্স লেভেলের টেকনিক হওয়ায় জিন অনেক সময় নিজে থেকেই বেস পেয়ার ম্যাচ করে পছন্দমত একটি জায়গায় যুক্ত হয়ে যায়। ফলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যায় না।

একে যান্ত্রিক ত্রুটি বা technical fault ও বলা যায়।

পৃথিবীর অনেক terrorist সংগঠন বায়োলজিকাল টেকনিক ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের জীবনে আতংক সৃষ্টির অপচেষ্টা করে থাকে। কিন্তু Duke Univetsity এর prof.Charles Gersbach বলেছেন এটি অনেক highly sophisticated technique বা অত্যন্ত বাস্তববুদ্ধিসম্পন্ন প্রযুক্তি, এর সাহায্যে সেরকম দুষ্টু পরিকল্পনা করা সম্ভব নয়।

এর সম্পর্কে এক কথায় বলতে গেলে, CRISPER CAS-9 is the most handsome gene editing technique discovered till now and one of the greatest invention of 21st century.

তথ্যসূত্র : curious.com,sciencenews.com

আপনার মতামত লিখুন :

ট্যাগ

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close