প্রযুক্তি

ইলেক্ট্রিক বিমানঃআগামীর বাহন

সাম্প্রতিকসময়ে রাস্তায় ইলেক্ট্রিক ভেহিকল এর সাফল্যের পর থেকে আকাশেও ইলেক্ট্রিক বিমান উড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নাসা সেই সাথে  জেনারেল ইলেক্ট্রিক এর সাথে চুক্তিও করে ফেলেছে।

ফলে সেই দিন আর খুব বেশি দূরে নয় যেদিন মানুষ ইলেক্ট্রিক বিমানে করে এক দেশ থেকে অন্য দেশে মুহূর্তেই পৌছে যাবে।

ইলেক্ট্রিক বিমান এর ধারণা আসার মূলে রয়েছে অনবায়নযোগ্য শক্তির অপ্রতুলতা, কেননা দিনকে দিন মানুষ বাড়ছে সেই সাথে বেড়েছে অনবায়নযোগ্য শক্তি ভক্ষণ। আগামী ২১০০ সালের মধ্যে অনবায়নযোগ্য শক্তির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে নিচে নেমে আসবে।

ইলেক্ট্রিক বিমানের মেকানিজম হল:

ব্যাটারির সাহায্যে উৎপন্ন ডিসি কে ইনভার্টার এর সাহায্যে এসি তে কনভার্ট করে মোটর চালানো হবে।
কোনো গ্রিনহাউজ গ্যাস নেই, নেই কোনো গগনবিদারী আওয়াজ।
এটাই ভবিষ্যতে হতে যাচ্ছে।

সেই অবস্থায় যদি একটি ফ্লাইট পরিচালনা করতেই অনেক জ্বালানির প্রয়োজন হয়,  তাহলে শক্তির দিক দিয়ে দেউলিয়া হওয়া খুব বেশি দিনের ঘটনা নয় এখন থেকে। ইলেক্ট্রিক বিমান বর্তমানের বিমানের থেকে অনেক কম শক্তি ব্যয় করে উপরন্তু নয়েজ এর মাত্রা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনে, যা যাত্রাকে করবে অনেক আরামদায়ক।

স্পেস এজেন্সি এবং কমার্শিয়াল এয়ারলাইন্স এর অন্যতম মূল লক্ষ্য হচ্ছে আকাশে উড্ডয়ন কালে আনুষাঙ্গিক খরচ কমিয়ে আনা সেই সাথে পরিবেশগত ব্যাপার তো আছেই। জেট ফুয়েল মোটেই সস্তা নয় আবার কমার্শিয়াল এয়ারলাইন্সরগুলো ৪-৯% গ্রিনহাউজ গ্যাস বৃদ্ধিতে দায়ী। সেই সমস্যা দূরীকরণে নাসা এই প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে যাতে ২০৩৫ সাল নাগাদ  খরচ এবং জ্বালানী সাশ্রয়ী ইলেক্ট্রিক এয়ারক্রাফট গুলো কমার্শিয়াল জেট প্লেন এর বিকল্প হতে পারে।

প্রতি ১০০০কিলোমিটারের জন্যে ৩৭২০লিটার ফুয়েল লাগবে- Airbus A320-200
লস আঞ্জেলস থেকে নিউইয়র্ক যেতে(৩৯৮৪কিমি), একটি ১৫০ সিটের এয়ারবাস A320 প্রায় ১১৬০৮কেজি ফুয়েল খরচ করে, প্রতি গ্যালন এভিয়েশন ফুয়েল এর দাম ৪০০টাকা(১ডলার= ৮০টাকা)
যেখানে নাসার ইলেক্ট্রিক বিমান মাত্র  ৮-১২ ডলারে ১০০মাইল পথ অতিক্রম করতে সক্ষম।

কাজটিতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যেমন কর্মক্ষম একটি ইলেক্ট্রিক এয়ারক্রাফট বানাতে যেসকল যন্ত্রপাতি লাগবে তা সচরাচর অনেক বিশাল এবং ওজনে অনেক ভারী, সেটা নিয়ে তো আকাশে উড়া অনেকটাই দূঃসাধ্য কাজ।

সেজন্যে নাসার অ্যাডভান্সড এয়ার ভেহিকলস প্রোগ্রাম চাচ্ছে এমন একটি ইনভার্টার তৈরি করতে যা একাধারে হাল্কা এবং অনেক ছোট, কিন্তু প্রয়োজনীয় শক্তি(MW Scale এ) সরবরাহ করতে সক্ষম।

কিন্তু তার জন্যে তো এমন প্রোডাক্ট কিংবা ম্যাটেরিয়ালস লাগবে যা মেগাওয়াট স্কেলে পাওয়ার হ্যান্ডেল করতে পারে, সেই সাথে উচ্চ তাপমাত্রায় কর্মদক্ষতা ঠিক রাখতে পারে এবং তার দ্বারা তৈরি ইনভার্টার এর সাইজ হওয়া লাগবে একটি ব্রিফকেস এর সমান। এত কিছু এক সাথে পাওয়ার জন্যে নাসা জেনারেল ইলেক্ট্রিক এর সাথে ১২মিলিয়ন ডলার এর চুক্তি করেছে, যারা সিলিকন কার্বাইড নামক সেমিকন্ডাক্টর ম্যাটেরিয়াল এর উন্নয়নের সাথে জড়িত।

সিলিকন কার্বাইড হল সেমিকন্ডাক্টর ম্যাটেরিয়াল যা একাধারে উচ্চ তাপমাত্রায় ফেব্রিকেশন, উচ্চ ভোল্টেজ ইলেক্ট্রনিক্স অ্যাপ্লায়েন্স এ ব্যবহার করা হয়। এর শক্তি নিয়ন্ত্রণ করার মাত্রাও অনেক হাই, ফলে আকারে ছোট কিন্তু অধিক পাওয়ার আউটপুট দিতে সক্ষম হবে এর দ্বারা তৈরিকৃত ইনভার্টারটি।

জেনারেল ইলেক্ট্রিক এই ম্যাটেরিয়ালটিকে ব্যবহার করে নাসার প্র‍য়োজন মোতাবেক ইনভার্টার ডিজাইন করতে যাচ্ছে,যা কিনা মেগাওয়াট স্কেলে পাওয়ার কনভার্সন করবে।

সেই সাথে আরেকটি চ্যালেঞ্জ উঠে আসছে যে কিভাবে এই মেগাওয়াট লেভেলের পাওয়ার কনভার্সন প্রসেস কে অনুকূলে রেখে কাজ চালানো যায়, সে লক্ষ্য নিয়ে নাসা -Boeing,  United Technologies pratt & whitney- বিমানযাত্রার অন্যতম পুরোধা কোম্পানির সাথে চুক্তি করেছে যাতে এই মেগাওয়াট স্কেলের পাওয়ার দিয়ে ফ্লাইট চালানো উপকারিতা এবং সীমাবদ্ধতা কি কি তা জেনে আরো নিখুঁতভাবে ডিজাইন করা সম্ভবপর হয়।

Jim Heidmann , নাসার প্রজেক্ট ম্যানেজার এর বক্তব্য তুলে ধরা হল এ নিয়েঃ

“We’re at a critical time in the history of aviation because we have an opportunity to develop systems that will reduce cost, energy consumption and noise, while opening up new markets and opportunities for American companies. It’s imperative that we work with industry and academia to ensure the right technologies are available to meet demands of future passengers and carriers.”

নাসার একটি টার্বোইলেক্ট্রিক এয়ারক্রাফট এর ২.৪মেগাওয়াট পাওয়ার দরকার হয় চালানোর জন্যে, যেই পাওয়ার দ্বারা কিনা ২০০০বাড়িতে বিদ্যুৎ প্রদান করতে যাবে।

২০৫০ সাল নাগাদ পৃথিবীর জনসংখ্যা ১০বিলিয়ন এর কাছাকাছি পৌছাবে, তাই বিকল্প পথ খোজা অতীব জরুরি।

রাস্তা ইলেক্ট্রিক কারের  পাশাপাশি আমরা আকাশেও ইলেক্ট্রিক বিমানের মুখ দেখতে যাচ্ছি .

সোর্সঃhttps://curiosity.com/topics/electric-airplanes-may-finally-be-in-our-future-thanks-to-nasa-curiosity?utm_source=androidapp&fbclid=IwAR1xJQCs7kq3218FojFFBrJnHO2w0Syz2INxrahr-Sm65o8ecsjN2HPAjiM

https://www.bbc.com › news › business-48630656

https://www.universetoday.com › nasa-is-working-on-electric-airplanes

আপনার মতামত লিখুন :

ট্যাগ
Back to top button
Close