মহাকাশ

টাইটানের বৈদ্যুতিক বালি!!

গ্রহের উপগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক। সেই স্বাভাবিকতার নিয়মে শনি গ্রহের ২২ টি উপগ্রহ। আর তার মধ্যে সবচেয়ে বড়টি হল টাইটান।

টাইটান উপগ্রহটা বেশ অদ্ভুত। অনেক আজগুবি বৈশিষ্ট্য রয়েছে এর। টাইটান হচ্ছে পৃথিবী ব্যতীত আমাদের সৌরজগতের একমাত্র স্থান যেখানকার পৃষ্ঠতলে সমুদ্র রয়েছে। কিন্তু টাইটানের সমুদ্র আবার পানি দিয়ে তৈরী হয় নি। টাইটানের সমুদ্র তরল হাইড্রোকার্বন দিয়ে গঠিত। অধিকাংশই ইথেন এবং মিথেন। আর এই হাইড্রোকার্বনের উৎস হচ্ছে টাইটানের ভয়ঙ্কর আগ্নেয়গিরি। এই আগ্নেয়গিরি অনেক আগেই সকল বরফ কে গ্রাস করে ফেলেছে। তাই এখানে পানির অস্তিত্ব এখন আর নেই।

আশ্চর্যজনক ভূ-তাত্ত্বিক অবস্থা

বৈদ্যুতিক বালি। নাসার প্রেরিত Cassini নামক স্পেসক্রাফট টি ২০১৬ সালে টাইটানের অসাধারণ কিছু ছবি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। সেখান থেকেই সব বর্ণনা করা সম্ভব।

মূলত টাইটানের বাতাস স্থলভাগের উপাদানকে উপরের দিকে অনেক জোরে ধাক্কা দেয়। ফলে বালির দানাদার কণাগুলোর মাঝে পারস্পরিক সংঘর্ষ হয়। এবং বৈদ্যুতিক বলের সৃষ্টি হয়। আমাদের পৃথিবীর আবহাওয়াতে এরকম হলেও তা চোখে পড়ে না, কারণ টাইটানের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক বলটি প্রচন্ড শক্তিশালী হয়ে থাকে।

বলের শক্তিমাত্রার পরীক্ষা

Georgia Tech এর এক গবেষণার কথা বলছি। সেখানে ন্যাপথলিন আর বাইফিনালের (বিশ্বাস করা হয় এই দুইটি কম্পাউন্ড টাইটানের স্থলভাগে বিদ্যমান) দানা নিয়ে প্রেসার চেম্বারে রাখা হয়। তারপর সেখান থেকে উপগ্রহটির আবহাওয়ার মতো নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ পরিবেশ তৈরী করা হয়। তারপর এটাকে ২০ মিনিট ধরে ঝাঁকালে বালির কণাগুলো পরস্পরের সাথে শক্তভাবে জুড়ে যায়। আর ২-৫% বালিকণা এত পরিমাণ চার্জড থাকে যে তারা চেম্বারের গায়ে লেগে থাকে, এবং বের করা অনেক কষ্টসাধ্য।

প্রফেসর Josef Dudek, যে এই পরীক্ষার সহ-পরিচালক ছিলেন, তার মতে “টাইটানের মাটিতে যদি বালি দিয়ে একটি স্যান্ড ক্যাসেল তৈরী করা হয় তবে বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বলের তীব্রতার কারণে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত ক্যাসেল টি টিকে থাকবে”

রহস্যভেদ

টাইটানের আবিষ্কার অনেক অদ্ভুত বিষয়ের সাথে আমাদের পরিচয় করিয়েছে। ২০১২ তে ক্যাসিনি নামক প্রোবের সাহায্যে প্রথম টাইটানের বালিয়াগড়(শুদ্ধ বাংলায়) বা বালির পাহাড় আবিষ্কৃত হয়। এগুলোর গড় উচ্চতা ৩০০ ফিট আর দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ মাইল।

টাইটানের আবহাওয়ায় বায়ু পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হয়। যে দিক বরাবর বায়ু চলাচল করে ঠিক তার বিপরীত দিক থেকে বালিয়াগড় গড়ে উঠতে থাকে। এর মাঝে প্রচুর পরিমাণে বৈদ্যুতিক বল থাকে তাই বায়ুর পক্ষে বালিয়াগড় সরানো সম্ভব হয় না। এমনকি যদি কোন স্পেসক্রাফট সেখানে ল্যান্ড করে তবেও বালিকণার অবস্থার কোন পরিবর্তন হবে না।

আর্টিকেলটি পড়ার জন্য অসংখ্যা ধন্যবাদ।

মো: আবিদুল ইসলাম।

আপনার মতামত লিখুন :

ট্যাগ

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close