প্রযুক্তিবিবিধসফটওয়্যারস্মার্টফোন

FaceApp যেভাবে কাজ করে

FaceApp ব্যবহার করা কি নিরাপদ?

গত-কয়েক দিনে ফেসবুকসহ নানান সোশ্যাল মিডিয়ার নিউজ-ফিডগুলো দেখে চোখ কপালে ওঠার যোগাড়। ওমা!! টাইম মেশিনে করে ভবিষ্যতে চলে আসলাম নাকি? সবাই এতো বুড়ো কেন? পরে জানা গেলো এর সবটাই FaceApp এর কারসাজি। এই অ্যাপটি ব্যবহার করলে দেখায় যে আপনি বৃদ্ধ বয়সে দেখতে কেমন হবেন। এই প্রযুক্তিটি এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে কম-বেশি সবাই ব্যবহার করে ফেলেছে।

FaceApp এর প্রযুক্তি

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের ছোট একটি টিম  FaceApp নিজস্ব অর্থায়নে ডেভেলপ করেছে। এই টিমে চারজন ফুল-টাইম ইঞ্জিনিয়ার ইনহাউস ফ্যাসিলিটিতে কাজ করেছেন। এছাড়াও এই প্রযুক্তিতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাহায্য নেওয়া হয়েছে।

অ্যাপটির সিইও এবং ফাউন্ডার Yaroslav Goncharov ব্যাখ্যা করে বলেন,

“আমরা এমন একটি প্রযুক্তি ডেভেলপ করেছি যেটি নিউরাল নেটওয়ার্কে মাধ্যমে একটি চেহারা বা ছবিকে ফটোরিয়ালিস্টিক রেখেই বিভিন্ন পরিবর্তন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, এটি ছবিতে হাসি যুক্ত করতে পারে, আপনার বয়স ,কিংবা লিঙ্গ পরিবর্তন করতে পারে, কিংবা আপনাকে আরও আকর্ষণীয় করতে পারে।”

নির্দিষ্ট করে বললে এটি অল্টার সেলফিতে  “Deep Generative Convolutional Neural Networks” ব্যবহার করে ফটোরিয়েলিস্টিক উপায়ে ব্যবহার করছে।

সেলফি বিউটিফিকেশন অ্যাপগুলো জনপ্রিয়তার  দিক থেকে প্রায় পুরানো বলা চলে। সম্প্রতি আমেরিকাতে এই ক্যাটাগরির একটি জনপ্রিয় চাইনিজ অ্যাপ Meitu জনপ্রিয় হওয়া শুরু করেছে। এই অ্যাপের বৈশিষ্ট্য হলো এটি “vaseline screen” স্টাইল ইফেক্টের মাধ্যমে ত্বককে আরও মোলায়েম দেখাচ্ছে । একই ধরণের আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে Lollycam। এটির কাজও হচ্ছে বিউটিফিকেশনের পাশাপাশি সৃজনশীল উপায়ে অগমেন্ট সেলফিতে সিনেমেতিক ইফেক্ট যুক্ত করা। শুধু এ দুটো অ্যাপ নয়, আরও অনেক প্রযুকি এখন বাজারে আছে, যাদের কাজ হচ্ছে এসব বাস্তবধর্মী সেলফি-স্টাইলিং অপশনগুলোকে হাতের মুঠোও পৌছে দেওয়া। পৌছে দেওয়ার কাজগুলো করছে Snapchat এর মতন জায়েন্ট অ্যাপগুলো।

গনকারভ আরও বলেছেন, “ FaceApp শুধু মাত্র সেলফিতে নানান ইফেক্টই যুক্ত করছেনা বরং এটি ডিপ লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরো ছবিটাকেই পরিবর্তন করছে।” 

“ ফটোরিয়েলিসম আমাদেরকে অনন্য করেছে। কোনো ছবিতে ফিল্টার যুক্ত করলেও সেটি আপনার ছবিই থেকে যাচ্ছে। অন্য অ্যাপগুলো বিনোদনের খোরাক যোগানোর উপযোগী করে ছবিকে পরিবর্তন করছে। কিন্তু নতুন কোনো বাস্তব ছবি তৈরি করতে পারছেনা। আমরা বিশ্বাস করি এসব বিনোদন উপযোগী ছবি সাময়িক। ফটোরিয়েলিসমের আবেদন সবসময় থাকবে।”

তিনি আরও বলে, “ আমাদের অ্যাপটি প্রযুক্তিগত দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে আছে। আমার তো মনে হয় অন্য কোনো অ্যাপ, পণ্য কিংবা রিসার্চ পেপার আমাদের এই প্রযুক্তির থেকে এগিয়ে আছে তা প্রমাণ করতে পারবে না। ”

“ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ন এবং জটিল কাজ এই অ্যাপটি করে থাকে। ছবিটিকে একই সাথে ফটোরিয়েলিস্টিক এবং হাই রেজুলেশনে রাখাটা বেশ জটিল একটি কর্মযজ্ঞ। আমার মনে হয় না, এধরণের কাজগুলো কোনো প্রচলিত , সাধারণ এলগরিদম দিয়ে করা সম্ভব”

“ আপাত দৃষ্টিতে ছবিতে হাসি যুক্ত করা সাধারণ একটি কাজ মনে হলেও এটা এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। কারণ হাসি শুধু মাত্র ঠোটে বাঁকা হওয়া নয়, বরং হাঁসির সাথে সাথে আমাদের পুর মুখভঙ্গির পরিবর্তন হয়। তাই ছবিতে হাঁসি যুক্ত করার সময় মুখভঙ্গি, আলো, ত্বকের রঙ, মুখের আকার, ছবির মান ইত্যাদি নানান ফ্যাক্টর হিসেব করতে হয়।” একই ভাবে আপনাকে কম বয়স্ক দেখাতে, কিংবা আপনাকে বিপরীত লিঙ্গে কিরকম দেখাবে এর উপর একই ধরণের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

FaceApp ব্যবহার করা কি নিরাপদ?

অ্যাপটির প্রাইভেসি পলিসি বলছে, এটি আপনার আপনার আপলোড করা ছবিগুলোই শুধু নিজের সার্ভারে নেয়। মাথায় রাখতে হবে এই অ্যাপটি দিয়ে যে ছবি বা সেলফি তুলছেন, সেগুলো সংগ্রহে রেখে দিচ্ছে। এই অ্যাপের অন্যতম ডেভেলপার Joshua Nozzi সাবধান করে দিয়ে বলেছেন,

“ অ্যাপটি আপনার লাইব্রেরী থেকে অন্য ছবিও আপলোড করার চেষ্টা করতে পারে। ব্যাপারটা যদি আপনাকে চিন্তায় ফেলে দেয় তবে, অ্যাপটিকে গ্যালারি বা লাইব্রেরী ব্যবহারের অনুমতি না দিয়ে শুধু মাত্র ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি দিন।”

কিন্তু টুইটার ঘাঁটলে অনেক ব্যবহারকারীর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অনুমতি না দেওয়া স্বত্বতেও অ্যাপটি গ্যালারির ছবি ব্যাবহারের চেষ্টা চালাচ্ছে। তাই ব্যবহারকারীদের নিজ দায়িত্বে অ্যাপটি ব্যবহারের পরামর্শ রইল।

একথা সত্যি যে অগমেন্টেড রিয়েলিটির যুগে ফটোরিয়েলিজমের আবেদন সারাজীবন থাকবে। FaceApp অ্যাপস্টোরে মুক্তির একসপ্তাহের মাঝেই এক মিলিয়নের বেশিবার ডাউনলোড হয়েছে। উল্লেখ্য এই যে,  অ্যাপটি বছর দুয়েক আগে সর্ব প্রথম অ্যাপেল স্টোরে মুক্তি পায়। এরপর থেকে বারবার আপডেটের পর এখন ফটো এডিটিং ক্যাটাগরিতে এর জনপ্রিয়তা শীর্ষে। 

অ্যাপটির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হচ্ছে, পরিবর্তিত ছবি গুলো সরাসরি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া যেমন ইন্সটাগ্রাম, টুইটার, ফেসবুকে সরাসরি শেয়ার করা যাচ্ছে। কতদিন এর জনপ্রিয়তা টিকে থাকে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন :

ট্যাগ
Back to top button
Close