দৈনন্দিন বিজ্ঞানবিবিধ

কিভাবে ল্যাপটপ এর ব্যাটারি ব্যাকাপ বাড়াবেন?

মডার্ন কম্পিউটার টেকনোলজি অনেক এগিয়ে গেছে আগের জমানা থেকে, এখনকার ল্যাপটপ কম্পিউটার এর সার্ভিস আগের থেকে অনেক গুনে হেভি মাল্টিটাস্কিং করতে সক্ষম, কিন্তু দিনশেষে চার্জার কানেক্ট করতেই হবে নিরবিচ্ছিন্ন সেবা পেতে।

বর্তমানে যেসকল অ্যাল্ট্রাবুক, নোটবুক টাইপ ল্যাপটপ বাজারে এসেছে, এদের ব্যাটারি বেশ ভালোই, যা পুরোদমে ইউজ করার পরেও সারাদিন ব্যাকাপ দিবে কিন্তু রিমুভেবল ব্যাটারি স্লট এখন আর নাই, তাই চার্জ শেষ হয়ে গেলে চার্জার এ কানেক্ট করতেই হবে কেননা স্পেয়ার পার্ট দিয়ে এক্সচেঞ্জ করা সম্ভব হবে না আগেরকার ল্যাপটপের মত।

অনেক ল্যাপটপ, ফোন যাচ্ছেতাইভাবে ব্যবহার করেন, আর কাজের সময় চার্জ না থাকলে কোম্পানির নাম তুলে হাহুতাশ করেন, কেন ব্যাটারি ক্যাপাসিটি আরেকটু বেশি হল না এটা সেটা।

আজকে আমরা কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলব যেগুলো মেনে চললে আপনার ল্যাপটপের ব্যাটারি ব্যাকাপ আগের থেকে কিছুটা হলেও বেশি পাবেন।

এখন আপনি বলতে পারেন যে, আমি তো সারাদিন চার্জার কানেক্ট করেই রাখি, আমার চিন্তা কি??

বলি কি, আপনি যখন কাজের জন্যে বাইরে যাবেন, আর প্রয়োজনের সময় দেখলেন আপনার ল্যাপটপ এর ব্যাটারিতে  চার্জ নেই, কেমন হবে বলুন তো, যদিওবা চার্জার সাথে থাকলে ঝামেলা বেশীক্ষণ স্থায়ী হবে না, কিন্তু একটু চেষ্টা করলেই এ ঝামেলা থেকে মুক্তি সম্ভব এবং আপনার ব্যাকাপ নিয়েও টেনশনে থাকার দরকার পড়বে না।

– ডিসপ্লের উজ্জলতা কমিয়ে রাখুন:

ল্যাপটপের ডিসপ্লে হল সবচেয়ে বেশি পাওয়ারহাংগ্রি পার্ট। ব্রাইটনেস বাড়িয়ে স্ক্রিন উজ্জ্বল রাখতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চার্জ ক্ষয় হয়।

তাই আপনি যদি কাজের সময় সবচেয়ে ভালো ব্যাটারি ব্যাকাপ পেতে চান তাহলে ডিসপ্লের ব্রাইটনেস কমিয়ে ২৫% অথবা ০% এ রাখুন, কাজ ও হবে,  ব্যাটারিতে চার্জ ও কিছু থেকে যাবে, পরবর্তিতে কাজে লাগাতে পারবেন, আবার চার্জে না লাগিয়েই।

– পাওয়ার সেটিংস পরিবর্তন করে

উইন্ডোজ ১০ এ দারুণ দারুণ কিছু ফিচার রয়েছে যা আপনাকে আগের তুলনায় অনেক বেশি কাস্টমাইজ করার সুযোগ দিচ্ছে, ফলে আপনি আপনার সুবিধামত পাওয়ার সেভার অপশন টি অন করে দিতে পারবেন, এছাড়াও অলস অবস্থায় পড়ে থাকা ল্যাপটপ দ্রুত মনিটর অফ কিংবা স্লিপ মুডে রাখতে পারবেন, সবকাজের একটাই উদ্দেশ্য চার্জ ধরে রাখা।

– ওয়াইফাই,  ব্লুটুথ টার্ন অফ:

ইন্টারনেটের সাথে কানেক্ট না থাকা অবস্থায়, অনেকের ল্যাপটপে ওয়াইফাই ব্লুটুথ এসব অফ করা থাকে না, এই সেটিংস গুলো বেশ ভালো পরিমাণে ব্যাটারি ড্রেইন করে থাকে, তাই একান্ত ইন্টারনেট কিংবা নেটওয়ার্কিং এ কানেক্ট থাকার দরকার না হলে ওয়াইফাই অফ করে রাখা উচিত, উইন্ডোজ ১০ এ  ওয়াইফাই আইকন ডিসিলেক্ট করে দিলেই কাজ হয়ে যাবে, অযথা ব্যাটারি ও ড্রেইন হবে না।

– ল্যাপটপের সাথে লাগানো পেরিফেরালস গুলো  খুলে রাখা কাজ শেষে:

আপাতদৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে এই কাজে আবার কি এমন ব্যাটারি ড্রেইন হবে।

কিন্তু আসলে ব্যাটারি ড্রেইন হয়, কেননা পেরিফেরালস গুলোকে পাওয়ার সাপ্লাই দিতে হয় ল্যাপটপ এর ই।

ফলে চার্জ কমাটা স্বাভাবিক ই বটে, তাই কাজ শেষে সকল পেরিফেরালস খুলে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ + কিছু চার্জ সেভিংস ও হয়ে গেলো।

– সারাদিনরাত চার্জার এর সাথে কানেক্ট করে রাখা যাবে না:

– যদিওবা এখনকার ল্যাপটপগুলোতে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় এবং এদের সার্কিট এ ওভার চার্জিং প্রটেকশন রয়েছে, যা সুরক্ষা দিবে, কিন্তু লম্বা সময় ধরে একাজ করা হলে, ব্যাটারি লাইফের উপর নেগেটিভ প্রভাব পড়বেই আজ না হোক কাল।

সেজন্য এই কাজ টা না করাই উচিত হবে।

এছাড়া বেশ কয়েকটি কোম্পানির ল্যাপটপে এমন সার্ভিস রয়েছে যে আপনি সারাদিন চার্জে লাগিয়ে রাখলেও একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ চার্জ হয়ে আর চার্জ গ্রহন করবে না, সেক্ষেত্রে আপনার উচিত হবে ৮০-৯০% ফুল চার্জ করার অপশন সিলেক্ট করা, ১০০% এর অপশন সিলেক্ট না করাটাই আপনার ব্যাটারি হেলথের জন্যে।

– এসএসডি(SSD)

সলিড স্টেট ড্রাইভ, যা একাধারে ল্যাপটপ এর প্রসেসিং স্পিড বাড়ায় সেই সাথে ব্যাটারি ব্যাকাপ ঠিক রাখে, এমনকি আগের থেকে কম ব্যাটারি খায় সিস্টেম এ।

কেননা এর কোনো ঘূর্ণন অংশ নেই, ফলে তা চালাতে কম ওয়াট প্রয়োজন হয়, যা ব্যাটারি ব্যাকাপ এর সাথে একভাবে সম্পৃক্ত।

– ইন্টারনাল গ্রাফিক্স:

সেটিংস থাকলে নর্মাল কাজের সময় ইন্টিগ্রেটেড  গ্রাফিক্স অন করে কাজ করার সুবিধা নেওয়াই উচিত।

ইউটিলিটি তে এই সুবিধা খুজে দেখবেন, যেন গেমিং, রেন্ডারিং ইত্যাদির বাইরে Nvidia or AMD  গ্রাফিক্স  chip যেন অফ থাকে, ফলে অল্প ব্যাটারিতেই চলে যাবে অনেকক্ষণ।

Integrated Graphics Chip এর দ্বারা চালানোর ফলে দেখা গেছে আগের থেকে দ্বিগুন ব্যাকাপ পাওয়া যাচ্ছে, AMD or  Nvidia ব্যবহার করার চেয়ে।

– মেমোরি ফ্রি রাখা:

সম্ভব হলে ল্যাপটপে বেশি মেমরি লাগিয়ে নেওয়া উচিত এতে করে কাজের পরিধি বাড়বে+ চার্জ কম খরচ হবে আগের থেকে, ফলে আগের কাজের থেকে অনেক দ্রুত প্রসেস হবে এবং এর ফলে ব্যাটারি কম লাগবে ওই একই কাজের জন্যে।

র‍্যাম লাগিয়ে নিয়ে অনেক ফাস্ট হয় যদি স্লট থাকে আরকি।

সোর্সঃ https://www.techadvisor.co.uk/feature/laptop/how-improve-laptop-battery-life-3462609/

https://www.techradar.com/news/mobile-computing/10-ways-to-make-your-laptop-battery-last-longer-513756

আপনার মতামত লিখুন :

ট্যাগ
Back to top button
Close