ইতিহাসজীবনীবিদেশি বিজ্ঞানী
জনপ্রিয়

হাসান ইবনে হায়সাম: আধুনিক আলোকবিজ্ঞানের জনক

ইবনে হায়সাম ক্যামেরা অবস্কিউরার (Camera Obscura) আবিষ্কার করেন, যাকে পিনহোল ক্যামেরাও (Pinhole Camera) বলা হয়ে থাকে। তিনি চোখ দিয়ে আমাদের দর্শন প্রক্রিয়া সম্পর্কিত গ্রিকদের ভুল ধারণা খণ্ডন করেন। আধুনিক আলোকবিজ্ঞান অনুযায়ী, আলো কোনো বস্তু থেকে প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে আসলে আমরা তাকে দেখতে সক্ষম হই, ইবনে হায়সামই প্রথম এটি প্রমাণ করে দেখান। আলোকবিজ্ঞানের উপর তাঁর লেখা প্রামাণ্যগ্রন্থ কিতাব আল মানাজির এর জন্যই তাঁর জগতজোড়া খ্যাতি। এছাড়াও তিনি ইউক্লিড ও টলেমির উপরও কাজ করেছেন, সেগুলোকে পরিবর্ধন, পরিমার্জন করেছেন। এতসব অবদানের জন্য তাকে আরব দুনিয়ায় দ্বিতীয় টলেমিও (Baṭlamyūs Thānī) বলা হয়।

যদি সত্য উদঘাটনই বিজ্ঞানীর উদ্দেশ্য হয়,
তবে সে যা যা পড়েছে, নিজেকেই সেগুলোর বিরোধী হয়ে যেতে হবে!

এমনই চিন্তাধারার অধিকারী ছিলেন মধ্যযুগের অনন্য বহুমুখী প্রতিভা হাসান ইবনে হায়সাম। মূলত, আলোকবিজ্ঞানে তাঁর অবদান জগতজোড়া খ্যাতি এনে দিলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি শুধু এতে সীমাবদ্ধ নন। বিজ্ঞানের অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান ঈর্ষনীয়। গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, অধি-পদার্থবিদ্যা (meta-physics), গতিবিদ্যা, উল্কাতত্ত্ব (meteorology) দর্শন, চিকিৎসাশাস্ত্রসহ বিজ্ঞানের বিবিধ শাখায় এমনকি মনোবিজ্ঞানের উপরও তাঁর লেখা গ্রন্থ পাওয়া যায়। তাকে অনেক সময়ই প্রথম বিজ্ঞানী (first scientist) বলে সম্মানিত করা হয়। তিনি পর্যবেক্ষণের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অনেক উন্নতি সাধন করেন এবং প্রথম ব্যক্তি হিসেবে হাইপোথিসিসকে কার্যকরীভাবে প্রয়োগ করেন। দশম-একাদশ শতাব্দীতে যে অবিস্মরণীয় মুসলিম ত্রয়ী ছিলেন তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। এই ত্রয়ীর বাকি দুজন হলেন আল বিরুনি (৯৭৩-১০৪৮ খ্রিস্টাব্দ) এবং ইবনে সিনা (৯৮০-১০৩৭ খ্রিস্টাব্দ)। আজকে আমরা এই মহান বিজ্ঞানী ইবনে হায়সাম সম্পর্কে জানবো।

ibn al haytham
ইবনে আল হায়সামের একটি চিত্র | Image Source: UNESCO

প্রাথমিক জীবন

আবু আলি আল হাসান ইবনে হায়সাম ৯৬৫ সালে ইরাকের বসরায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১০৪০ সালে মিশরের কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি পাশ্চাত্যে আল হাজেন (আল হাসান > আল হাজেন) (ল্যাটিনাইজড) নামে পরিচিত। তাকে বসরি উপনামেও ডাকা হয় কারণ তিনি ইরাকের বসরায় জন্ম নেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ মুসলমান। প্রাথমিক জীবনে তিনি ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে জ্ঞানার্জন করেন। এরপর সরকারি প্রশাসনিক কাজ শিখতে থাকেন এবং বেশ কিছু দিন তৎকালীন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চাকরিও করেন। ইবনে হাইসাম বসরার মেয়র হিসেবেও কিছুকাল দায়িত্ব পালন করেন। শেষে বিজ্ঞান চর্চায় মনোনিবেশ করেন। তিনি প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকদের রচনাবলী পাঠ করেন, যেমন, ইউক্লিড এবং আর্কিমিডিস। সেসময়কে বলা হয় ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার স্বর্ণযুগ। বাগদাদ ছিল তৎকালীন জ্ঞানের রাজধানী। সেখানকার বিজ্ঞ পণ্ডিতদের অধীনে পড়াশুনা করে এবং স্বীয় মেধায় তিনি খুব অল্প বয়সেই বিদ্বান হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।

ইবনে হায়সামের জন্মস্থল বসরার বিখ্যাত হাসাভিয়া মসজিদ | Image Source: Beautiful Islamic Mosque

মিশরে ইবনে হাইসাম

তাঁর সুখ্যাতি দিকে দিকে যেমন ছড়িয়ে পড়লো, সাথে সাথে বিভিন্ন স্থান থেকে কাজের প্রস্তাব আসতে লাগলো। তেমনই একটি প্রস্তাবনা এলো মিশরের ফাতেমি রাজবংশের তৎকালীন খলিফা আল হাকিমের (রাজত্বকাল ৯৯৬-১০২১ খ্রিস্টাব্দ) কাছ থেকে। তার রগচটা স্বভাব এবং সীমাহীন রাগ ও ক্রোধের কারণে তিনি ইতিহাসে পাগল খলিফা (the mad caliph) নামে পরিচিত। এগুলো স্বত্বেও জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় তার পৃষ্ঠপোষকতার ব্যাপারে কেউ দ্বিমত করতে পারবে না। তিনি সেকালে মিশরে দারুল ইলম নামে এক বিখ্যাত লাইব্রেরি স্থাপন করেন যা বাগদাদের আব্বাসিয় খলিফা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বিশ্বখ্যাত লাইব্রেরি বায়তুল হিকমাহর সাথে পাল্লা দিতে সক্ষম। খলিফা হাকিম, আল হাইসামকে আমন্ত্রণ জানালেন বন্যার ফলে মিশরের সুবিখ্যাত নীলনদের পানির প্রবাহের যেটুকু নষ্ট হয়, দিক পাল্টে দিয়ে তা রক্ষা করার জন্য। তরুণ হাইসাম চ্যালেঞ্জটা লুফে নিলেন। মিশরে পাড়ি জমালেন তিনি। কিন্তু ঘটনাস্থল সশরীরে পর্যবেক্ষণ করে তিনি হতোদ্যম হয়ে পড়লেন। তিনি বুঝতে পারলেন, তৎকালীন যন্ত্রপাতি, কলাকৌশল দিয়ে এই বিপুল জোয়ার ও খরস্রোত সম্পন্ন নীলনদের জলস্রোতের অভিমুখ পাল্টানো সম্ভব নয়। তিনি একটি বাঁধ নির্মাণ করার কথা পূর্বে ভেবেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে বাস্তবতা তাকে থমকে যেতে বাধ্য করে। খলিফার কাছে কী জবাব দেবেন তা ভেবে নিজের সমূহ বিপদের আঁচ করতে পারেন তিনি।

খলিফা আল হাকিমের একটি চিত্র | Image Source: Wikimedia Commons

দুর্ভাগ্যের শিকার বিজ্ঞানী

এরপরের ঘটনা প্রবাহ নিয়ে দ্বিমত আছে। দ্বিমত না আসলে বহুমত প্রচলিত। কেউ বলেন, খলিফার ক্রোধ থেকে বাঁচতে তিনি পাগল হওয়ার ভান করেন, তাই খলিফা তাঁর শাস্তি কমিয়ে গৃহে অবরুদ্ধ (house arrest) করে রাখেন। আবার কেউ বলেন, তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। কেউবা তাঁর পালিয়ে থাকার কথা বর্ণনা করেছেন। ঐতিহাসিক ইবনে কিফতির (মৃত্যু ১২৪৮ খ্রিস্টাব্দ) বর্ণনা মতে, এসময়ে তিনি পাণ্ডুলিপি নকল করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ইবনে কিফতি, ইবনে হায়সামের ১০৪০ সালে স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপি পাওয়ারও দাবি করেছেন।

ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়

অবরুদ্ধ থাকার বছরগুলো তিনি মোটেই নষ্ট করেন নি। খলিফার অন্তর্ধান বা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে দশ বছর আটকে থাকতে হয়। এসময়ে তিনি আলোকবিজ্ঞানের উপর তাঁর গুরুত্বপূর্ণ এক্সপেরিমেন্টসমূহ করেন। পুরো সময়টা তিনি ব্যয় করেন পড়াশুনা, গবেষণা আর পর্যবেক্ষণের কাজে। এসময়ই তাঁর বিশ্বখ্যাত গ্রন্থ কিতাব আল মানাজির বা বুক অফ অপটিক্স লেখেন। আরও অনেক গবেষণা এবং গ্রন্থের কাজ তিনি এই ফাঁকা সময়েই করে ফেলেছিলেন। ক্যামেরা অবস্কিউরা বা পিনহোল ক্যামেরার প্রাথমিক উন্নতি সাধনের কাজও তিনি এসময়েই করেছিলেন। অবশেষে সুদীর্ঘ দশ বছর অবরুদ্ধ অবস্থায় কাটানোর পর তিনি মুক্তি পান। ততদিনে তাঁর উল্লেখযোগ্য বেশ কিছু কাজ করা হয়ে গিয়েছে।

ইবনে হায়সাম এভাবেই অন্ধকার ঘরের পরীক্ষণের মাধ্যমে ক্যামেরার আদি সংস্করণ আবিষ্কার করেন | Image Source: History of Islam

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলী

হাসান ইবনে হায়সাম অসংখ্য বই লিখে গেছেন, কমপক্ষে শতাধিক তো হবেই! ১০২৭ সালে তিনি তাঁর আত্মজীবনী লেখেন। এছাড়া তাঁর লেখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বই হল কিতাব আল মানাজির (The Book of Optics)। যদিও এতে টলেমির কিছু প্রভাব পাওয়া যায়, তবে ইবনে হায়সামের বিশেষত্ব হলো তিনি আলো সম্পর্কিত, সুনির্দিষ্ট ভাবে বলতে গেলে চোখ দিয়ে আমাদের দর্শন কৌশল সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হন। সেটাও আবার প্রমাণ সাপেক্ষে, পর্যবেক্ষণের দ্বারা। প্রাচীন গ্রিক পণ্ডিতগণ ভাবতেন, আমাদের চোখ থেকে অদৃশ্য আলো বের হয়ে বস্তুতে পড়ে, ফলে আমরা সেই বস্তু দেখতে পাই। কিন্তু ইবনে হায়সাম প্রমাণ করে দেখান যে, কোনো বস্তু থেকে আলো আমাদের চোখে প্রতিফলিত হয়ে আসে বলেই আমরা সেই বস্তুকে দেখতে পাই। উপরন্তু, তিনি আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ এমনকি বিচ্যুতি সংক্রান্ত ধর্মগুলোর একদম সঠিক ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। আলোকবিজ্ঞান সংক্রান্ত তাঁর আরও অনেক কাজ রয়েছে। তিনি চাঁদ, রংধনু, সূর্য/চন্দ্র গ্রহণ ইত্যাদি বিবিধ বিষয়ে লেখেন দাও আল কামার (On the light of the moon), আল হালা ওয়াল কাওস কুজাহ (On the Halo and the Rainbow), সুরাত আল কুসুফ (On the shape of the Eclipse), আল দাও (A Discourse on light) প্রভৃতি। সুরাত আল কুসুফ বইয়ে তিনি তাঁর ক্যামেরা অবস্কিউরা সম্পর্কেও আলোকপাত করেছিলেন।

হাসান ইবনে হায়সাম একজন বহুমুখী লেখক ছিলেন। এক বর্ণনা থেকে জানা যায়, তিনি গণিতের উপর ২৫ টি গ্রন্থ লেখেন, ৪৪ টি বই লেখেন অ্যারিস্টটলীয় পদার্থবিদ্যা, অধি-পদার্থবিদ্যা (মেটাফিজিক্স), উল্কাতত্ত্ব (মিটিওরোলজি) মনোবিজ্ঞান  প্রভৃতির উপর। এছাড়া তাঁর আত্মজীবনীমূলক বইটি থেকে জানা যায়, তিনি অ্যারিস্টটলীয় প্রাকৃতিক দর্শন (ন্যাচারাল ফিলোসফি) এবং যুক্তি (লজিক) বিষয়েও পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তাঁর লেখা শতাধিক বইয়ের মধ্যে মাত্র অর্ধেকের মত টিকে ছিল। তাঁর প্রধান বই কিতাব আল মানাজির রজার বেকনকে বেশ আন্দোলিত করে। তিনি এর সারমর্ম লিখেন একটি বইয়ে Opus Majus বা Greater Work নামে। এই বইয়ে ইবনে হায়সাম আলোর সংজ্ঞা, আমাদের চোখের দর্শন কৌশল এবং আয়নায় বিম্ব গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যবেক্ষণগত প্রমাণ (এক্সপেরিমেন্টাল প্রুফ) উপস্থাপন করেন।

ইবনে হায়সাম তাঁর পর্যবেক্ষণ সবাইকে দেখাচ্ছেন | Image Source : IbnAlHaytham.com

এছাড়াও ইবনে হায়সাম ইউক্লিডের উপপাদ্য বিষয়ে তাঁর লিখিত হাল শুকুক ফি কিতাব ইউক্লিদিস (Solution of the Difficulties of Euclid’s Elements) বইয়ে ইউক্লিডের বেশ কিছু বিকল্প প্রমাণ পেশ করেছেন, সাথে কিছু পরোক্ষ প্রমাণকে প্রত্যক্ষ প্রমাণ দ্বারা প্রতিস্থাপিত করেছেন। ইউক্লিড বিষয়ক তাঁর অন্য একটি বই শারহে মুসাদারাত ফি কিতাব ইউক্লিদিস (Commentary on the Premises of Euclid’s Elements) এ তিনি সমান্তরাল রেখা সম্পর্কে বলেছেন। ইউক্লিড সমান্তরাল রেখার সংজ্ঞা দিয়েছেন এমনভাবে, যে সরলরেখাদ্বয় কখনও ছেদ করে না। পক্ষান্তরে ইবনে হায়সাম সংজ্ঞায়ন করেছেন এমনভাবে, যে সরলরেখাদ্বয় সবসময় সমান দূরত্ব বজায় রেখে চলে! খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের বিখ্যাত গণিতবিদ অ্যাপোলোনিয়াসের কনিকের উপর তিনি লিখেছেন মাখালা ফি তামাম কিতাব আল মাখরুতাত (Completion of the Conics)।

জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত তাঁর বিখ্যাত বই হলো হায়াত উল আলম (On the Configuration of the World)। এই বইয়ে তিনি সহজ ভাষায় তাঁর সময়ের প্রাকৃতিক দর্শনের আলোকে টলেমির জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক গ্রন্থ অ্যালমাজেস্ট (Almagest)  ব্যাখ্যা করেছেন। এই বইয়ে টলেমির ব্যাখ্যা তিনি গ্রহণ করলেও তাঁর পরবর্তীতে লেখা একটি বই আল শুকুক আলা বাতলামিস (Doubts about Ptolemy) এ তিনি টলেমির সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর জ্ঞান এবং প্রজ্ঞার জন্য আরব বিশ্বে তাকে দ্বিতীয় টলেমি বা (Balamyūs Thānī) বলা হয়।

গ্রিক পণ্ডিত টলেমি | Image Source: New Scientist

প্রভাব

আলোকবিজ্ঞানের উপর তাঁর লেখা অবিস্মরণীয় কিতাব আল মানাজির সম্পর্কে প্রথম কমেন্টারি গ্রন্থ লেখেন গণিতবিদ কামাল উদ্দিন আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল ফারিসি (মৃত্যু ১৩২০ খ্রিস্টাব্দ)। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এর আগে প্রাচ্যে কেউ এটা তেমন গুরুত্বের সাথে নেয় নি। ত্রয়োদশ শতকের শুরুর দিকে একজন অজ্ঞাত অনুবাদক বইটিকে লাতিনে অনুবাদ করেন। তখন থেকেই বইটি এক সুদীর্ঘ প্রভাব রেখে গেছে। ত্রয়োদশ শতকের বিজ্ঞানী রজার বেকন থেকে শুরু করে ষোড়শ শতকের জোহানেস কেপলার (১৫৭১-১৬৩০ খ্রিস্টাব্দ) পর্যন্ত যুগের পর যুগ ধরে এটি আলোকবিজ্ঞানের প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। জ্যোতির্বিদ্যার উপর তাঁর লেখা হায়াত উল আলম লাতিনে একাধিক বার অনুবাদ করা হয়েছে। ইবনে হায়সামের লেখনী যুগ যুগ ধরে বিজ্ঞানমহলে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর দ্বারা প্রভাবিত বিজ্ঞানীদের মধ্যে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি, গ্যালিলিও গ্যালিলি, জোহানেস কেপলার, রেনে দে কার্তে প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। ইউনেস্কো ২০১৫ সালকে ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার অফ লাইট উদযাপনের প্রাক্বালে হাসান ইবনে হায়সামকে অপটিক্স তথা আলোকবিজ্ঞানের অগ্রগতি সাধনে পথিকৃৎ (পাইওনিয়ার) হিসেবে ঘোষণা করে সম্মানিত করেছে।

ইবনে হায়সামের একটি বিখ্যাত উক্তি দিয়ে এই আর্টিকেল শেষ করছি –

If learning the truth is the scientists’ goal, then he must make himself the enemy of all that he reads! The duty of the man who investigates the writings of scientists, is to attack it from every side. He should also suspect himself as he performs his critical examination of it, so that he may avoid falling into either prejudice or leniency.

– Hasan Ibn Haytham

তথ্যসুত্র:

ফিচার ছবি: হাসান ইবনে হায়সাম | সূত্র: Truth-Seeker.info

আপনার মতামত লিখুন :

ট্যাগ

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close