দৈনন্দিন বিজ্ঞানবিবিধ

ডার্ক মুড আদৌ কি আমাদের চোখের জন্য উপকারী?

আপনি যখন কোনো  অ্যাপ ব্যবহার করে থাকেন মোবাইল ফোনে অথবা কম্পিউটারে, তাহলে একবারের জন্য হলেও “ডার্ক/নাইট মুড” বিষয়টা প্রত্যক্ষ করেছেন। এই ধরুন মেসেঞ্জারই ব্যবহার করছেন, নতুন অপশন ডার্ক মুড এনাবল হওয়ার পর যখনই অন করলেন, দেখলেন কালো ব্যাকগ্রাউন্ড আর উপরে সাদা লিখা। ভাবলেন এবার চোখের উপর চাপ টা একটু কম পড়বে। কিন্তু আদৌ কি তাই? ডার্ক মুড কি আমাদের চোখের উপর চাপ কমায় নাকি একই রাখে যেটা সাধারণ উজ্জ্বলতায় থাকে? বিজ্ঞানের নিয়মে অন্য সব ঝটপট উত্তরের মতো এইক্ষেত্রেও বলা যায়, “হয়তবা!” 

আলো আঁধারের যুদ্ধ!

অনেকগুলো বিষয় একসাথে আসে যখন, আপনার স্ক্রিনে সাধারণ উজ্জ্বলতা এবং ডার্ক মুড সুইচ অন করা হয়। সময়ের সাথে সাথে এই ব্যাপারগুলোতেও অনেক পরিবর্তন আসে। ধরুন সূর্য এখনও উঠেনি, আপনার রুম অন্ধকার এবং সেখানে উজ্জ্বল আলোয় বিজ্ঞানবর্তিকার ব্লগ পোস্ট পড়ছেন ফোনে। অর্থাৎ অন্ধকার পরিবেশ এবং উজ্জ্বল স্ক্রিন। আবার দিনেরবেলা, হয়ত অফিসের কাজ করছেন বসে বসে। আলোকিত চারপাশ এবং উজ্জ্বল স্ক্রিন। রাতে ক্লান্তি ঘোচাতে নেটফ্লিক্স স্ট্রিম করছেন কালো ব্যাকগ্রাউন্ডের বিপরীতে এবং আপনার আশেপাশের পরিবেশও অন্ধকার!
এই বিষয়গুলো চোখের উপর বিভিন্ন রকম ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দেখায়। বিজ্ঞানীরা এক্সপেরিমেন্টের পূর্বশর্ত হিসাবে যে পরিবেশটিকে বেস লাইন ধরেন সেটি হচ্ছে আলোকিত দিন, উজ্জ্বল স্ক্রিন তাঁর উপর কালো রঙের লিখা। মূলত ডার্ক মুড আসার আগে এটাই ছিল নিত্যদিনের চিত্র। কয়েকটা গবেষণা দেখায় যে, মানুষ সবথেকে বেশি তথ্য গ্রহণ করতে পারে এই উপরিউক্ত ফর্মেটে বা অবস্থায়। কনট্রাস্টের সমতার কারণে ডিটেইলস গুলো ধরা সহজতর হয়। এটাকেই আদর্শ স্ক্রিন-ব্রাইটনেস পরিস্থিতি ধরা হয়।
আবার আরেকটা কারণে উজ্জ্বল ব্যাকগ্রাউন্ডে লিখা পড়তে সুবিধা হয়, সেটা হচ্ছে মানুষের চোখের জীববৈজ্ঞানিক কাঠামো। সাদা রঙ আলোতে থাকা সব রঙের স্পেকট্রাম প্রতিফলিত করে, যার ফলে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের জন্য চোখের রন্ধ্র বা মণিকে এত বেশি পরিমাণে বিস্তৃত হতে হয়না। তাঁর মানে অতিরিক্ত আলো ঢুকছেনা এবং চোখের ফোকাস ঠিক থাকছে। অর্থাৎ খুব সুন্দর করেই আপনি লিখা পড়তে পারছেন।আবার মাঝেমাঝে কালো বা অন্ধকার ব্যাকগ্রাউন্ডের ক্ষেত্রে চোখ অতি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে এবং তখন ফোকাস করতেও কষ্ট হয়।

অন্ধকারে ব্যাপারটা আসলেই ভিন্ন!

অন্ধকার রুমে একটি সাদা বা উজ্জ্বল স্ক্রিনের মধ্যে কালো রঙের লিখা পড়তে মনে হয় যেন চোখে চাপ পড়ছে, কিন্তু বিজ্ঞান এ ব্যাপারে চূড়ান্তভাবে কিছু বলছেনা। তবে কিছু স্টাডি এটা দেখায় যে রুমে আলোর তারতম্যের কারণে চোখের তারারন্ধ্রের খুব একটা পরিবর্তন হয়না।অর্থাৎ সাদা/উজ্জ্বল ব্যাকগ্রাউন্ড আর কালো টেক্সট এবং কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে উজ্জ্বল লিখা উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা প্রায় একই রকম পরিলক্ষিত হয়। অর্থাৎ চক্ষুরন্ধ্রের উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়না। বরং আগে যেটা বলেছি, কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে চোখের ফোকাস কমে যায়, বিস্তৃত চক্ষুরন্ধ্র মানে বাজে ফোকাস। বেশি আলো গ্রহণ করতে গিয়ে চোখ ঠিকমত কাজ করেনা এবং আপনারও কিছু দেখতে বা পড়তে বেগ পেতে হবে। তাই এটাই শেষমেশ কনসিডার করা হয় যে, অন্ধকার পরিবেশেও উজ্জ্বল/সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের বিপরীতে কালো টেক্সট ফর্মেট বেশি গ্রহণযোগ্য।
এটা সবসময়ই হয় যে মানুষ যা চিন্তা করে এবং বিজ্ঞান যা বলে, দুটোই সম্পূর্ণ ভিন্ন। ডার্ক মুডের পরিচিতি পাওয়ার আগে গেইমাররা সব থেকে বেশি সতর্ক থাকত তাঁদের চোখ নিয়ে। তাঁরা বিভিন্ন রকমের চশমা ব্যবহার করত সাদা স্ক্রিনের ক্ষতিকর রে গুলো প্রতিরোধ করার জন্য অথবা স্ক্রিনকে মডিফাই করত যাতে উজ্জ্বল ব্যাকগ্রাউন্ড চোখের কোনো ক্ষতি না করতে পারে। এই সুযোগে ইলেক্ট্রনিক্সের কোম্পানি গুলো তাঁদের প্রোডাক্টে পরিবর্তন আনল এবং সবশেষে আসল ইউজার ফ্রেন্ডলি ডার্ক মুড!
আপনার প্রিয় যেকোনো সাইট যেমন ফেইসবুক, টুইটার এসবে লগিন করলেই দেখতে পারবেন ডার্ক মুড/নাইট মুড সুইচ অনের অপশন দেখাচ্ছে। রেডিটে কালো ব্যাকগ্রাউন্ডের উপর হালকা ধূসর রঙের টেক্সট ব্যবহার করা হয়। এমনকি নেটফ্লিক্সেও কয়েকবছর যাবৎ কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে সাদা টেক্সট ব্যবহার করছে।
এখন কথা হচ্ছে আপনার সুবিধা অসুবিধা নিয়ে। বিজ্ঞান যেহেতু চূড়ান্ত কোনো ফলাফল দিতে পারছেনা, তাও বৈজ্ঞানিক কারণ গুলো অনুসন্ধান করে এটলিস্ট আলোকিত পরিবেশে ডার্ক অন লাইট ব্যবহার করাই শ্রেয়। হয়তবা অন্ধকারে ডার্ক মুড ব্যবহার আপনার চোখের উপর কম পীড়া দিতে পারে। কিন্তু যদি মনে করেন চোখে প্রেসার বেশি পড়ছে তাহলে মুড গুলো সুইচ করতে থাকুন। সবকিছুই দিন শেষে আপনার আরাম-অসুবিধার উপরই নির্ভর করে!

Source: curiosity.com

আপনার মতামত লিখুন :

ট্যাগ
Back to top button
Close