মহাকাশ
জনপ্রিয়

বৃহস্পতি সূর্যের চারপাশে ঘোরে না!

বৃহস্পতিকে বলা হয় গ্রহ রাজ। এর আরেক নাম জুপিটার। রোমান দেবতা জুপিটারের নাম অনুসারে এই গ্রহের নামকরণ করা হয়। জুপিটার অর্থ আকাশের পিতা।

সূর্যের সবকটি গ্রহের ভরের সমষ্টির প্রায় শতকরা ৭০ ভাগ ভরই হচ্ছে বৃহস্পতির। বৃহস্পতি গ্রহ এতোই বড় যে এর ভিতরে চাইলেই ১০০০টি পৃথিবী অনায়াশে পুরে রাখা যাবে।

বৃহস্পতি সূর্য থেকে ৭৭.৮৪ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আর পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৮০ কোটি কিলোমিটার। এর ভর পৃথিবীর ৩১৭.৮ গুণ আর ব্যাস ১১.২ গুণ।

পৃথিবীর হিসেবে মাত্র ৯.৮ঘন্টায় বৃহস্পতিতে এক দিন হয়, কিন্তু বৃহস্পতির একবছর সমান পৃথিবীর হিসেবে ১১.৮৬ বছর।

মানে আমরা এতদিন জেনে এসেছি যে
  1. বৃহস্পতির নিজ অক্ষের চারপাশে ঘূর্ণনকাল ৯.৮ ঘণ্টা আর
  2. সূর্যের চারপাশে আবর্তন করতে এর সময় লাগে ১১.৮৬ বছর।

কিন্তু এবার সময় হয়েছে ২ নং কথাটি ভূলে যাওয়ার বা আর একটু অলংকৃত করার। বৃহস্পতি সত্যিকার অর্থে সূর্যের চারপাশে আবর্তন করে না। বৃহস্পতি মূলত নিজের কক্ষপথে আবর্তন করছে আর যে বিন্দুকে কেন্দ্র করে আবর্তন করছে সেটা আসলে মহাকাশের একটি শূন্যস্থান।

নাসা’র বিজ্ঞানীরা বৃহস্পতি গ্রহের কিছু খুব উচ্চমানের ছবি পেয়েছেন যা প্রমাণ করে বৃহস্পতি এতোই ভারী এবং এতোই এতোই ভারী যে এটি আসলে সূর্যেকে আবর্তন করে ঘুরে না

g

আমরা জানি যে পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘোরে, কিন্তু আমাদের এই জানাটিও পুরোপুরি সত্যি নয়।
কারণ Mechanics বা বলবিদ্যার Two-body problem বলে-

“দুইটা বস্তু যখন একে অপরকে কেন্দ্র করে ঘুরেত থাকে, তখন কম ভরবিশিষ্ট বস্তু বেশী ভরবিশিষ্ট বস্তুকে কেন্দ্র করে ঘুরে না বরং দুটি বস্তুই একটি নির্দিষ্ট বিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরে। ”

 

আর মহাকাশের এই নির্দিষ্ট বিন্দুটিকে বলা হয় BaryCenter

বিস্তারিত পাবেন এখানে : https://en.m.wikipedia.org/wiki/Barycenter

তার মানে, দুটি বস্তুর একটি যখন অপরটির চারপাশে ঘোরে তখন অপরটিও প্রথম বস্তুর চারপাশে ঘোরে। কিন্তু তবুও আমরা বলি না সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে, কারণ হলো এদের ভরের পার্থক্য।

দুটি বস্তুর ভরের পার্থক্য যত বেশি হবে একের সাপেক্ষে অপরের ঘুর্ণনের পরিধির পার্থক্যও তত বেশী হবে মানে যার ভর তুলনামূলক বেশী BaryCenter তার কেন্দ্রের খুব কাছাকাছি থাকবে। সেই কারণে পৃথিবীর সাপেক্ষে সূর্য যখন ঘোরে তখন সেটি উপলব্ধি করা যায় না কারণ সূর্যের তুলনায় পৃথিবীর ভর নগণ্য যে কারণে এই BaryCenter সূর্যের খুব কাছাকাছি বা সূর্যের ভিতরেই অবস্থান করে।

তবে পৃথিবীর চেয়ে ৩১৭.৮ গুণ ভারী গ্রহ বৃহস্পতির সাথে তুলনা করলে কি ঘটতে পারে একটু চিন্তা করে দেখুন। বৃহস্পতির ভর সূর্যের ভরের মাত্র ১০৪৭ ভাগের এক ভাগ। মানে এর ভর যদি আরেকটু বেশি হতো তাহলে এর আভ্যন্তরীণ মহাকর্ষবল হাইড্রোজেন পরমাণুগুলোকে হিলিয়ামে পরিণত করত এবং তার সাথে উৎপাদিত হতো ফোটন বা আলো। অর্থাৎ, আরেকটু হলেই নক্ষত্রে পরিণত হতো বৃহস্পতি।

কার্ল সেগান বৃহস্পতিকে “ব্যর্থ নক্ষত্র” (a star that failed) নামে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছিলেন, বৃহস্পতির ভর আরেকটু বেশি হলে হয়তো আমরা দ্বি-নাক্ষত্রিক সৌরজগতের বাসিন্দা হতাম, রাত জিনিসটা এখনকার চেয়ে আরো দুর্লভ হয়ে যেতো।
Di

চাঁদের কথা চিন্তা করুন, চাঁদ মোটামুটি ভারী হওয়ার কারণে চাঁদ এবং পৃথিবীর মধ্যকার BaryCenter পৃথিবীর
থেকে ৪৬৭১ কিমি উপরে এবং পৃথিবীর ব্যাসার্ধ প্রায় ৬৪০০ কিমি হওয়ার BaryCenter পৃথিবীর ভেতরেই অবস্থান করছে। এখন চাদের ভর যদি বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হতো তাহলে এই BaryCenter আর বর্তমান জায়গায় থাকতো না, সেটির অবস্থান হতো মহাকাশের কোন এক শূন্য জায়গায়।

বৃহস্পতি ও সূর্যের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনই ঘটে।
বৃহস্পতি এত বড় যে এর সাথে সূর্যের BaryCenter সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে এর ব্যাসার্ধের 7% উপরে অবস্থিত ।
এই কারণেই বৃহস্পতি এবং সূর্য মূলত নিজ নিজ কক্ষপথে এই BaryCenter কে কেন্দ্র করে আবর্তন করছে, একে অপরকে নয়।আর যে বিন্দুকে ঘিরে আবর্তন করছে সেটা আসলে মহাকাশের একটি শূন্যস্থান।

চলুন ভিডিও টি দেখা যাক

তথ্যসূত্র :

  1. http://www.iflscience.com/space/forget-wha-you-heard-jupiter-does-not-orbit-the-sun/
  2. https://www.realclearscience.com/blog/2014/08/technically_the_earth_does_not_orbit_the_sun.html
  3. https://principia-scientific.org/jupiter-is-so-big-it-does-not-actually-orbit-the-sun/

 

আপনার মতামত লিখুন :

ট্যাগ

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close