প্রযুক্তিমহাকাশ

এয়ার লিকেজ খুঁজে পেলো ইন্টারনেশনাল স্পেস স্টেশনে!

সবাই আমরা বাড়িঘরে থাকি। প্রায় সময় দেখা যায় দেয়ালে ফাটল ধরেছে অথবা পিঁপড়ার আনাগোনা জনিত কারণে দেয়ালে ফুটো হয়েছে। আমরা খুব একটা বেশি মাথা ঘামাই না। কিন্তু কী হয় যখন এর থেকেও শত শত গুণে ক্ষুদ্র কোনো ফুটো দেখা যায় মহাকাশ স্টেশনের প্রাচীরে? সেখানের বাসিন্দা হিসাবে কতটুকু নিশ্চিত থাকতে পারবেন আপনি গহীন এই বায়ুহীন অসীমের রাজ্যে?

International Space Station (ISS)

গত সোমবার রাতে হঠাৎ করেই আইএসএস বা আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে অবস্থানরত মহাকাশচারীদের নিকট আসে এক সতর্কবার্তা। নাসা ফ্লাইট কন্ট্রোলাররা জানান যে স্পেস স্টেশনের দেয়ালে কোনোভাবে ফুটো তৈরি হয়েছে এবং বাতাস লিক করছে, এটা দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে। রাশিয়ান স্পেস এজেন্সির দিক থেকে সবরকম খোঁজ রাখা হয় এবং সেখানে লিকেজের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়না। মহাকাশচারী ক্রিস ক্যাসিডি ও কসমোনাট এনাটলি আইভানিসিন ও আইভানঅমিলে সব ধরনের মডিউলের হ্যাচ বন্ধ খোলা রেখে পরীক্ষা চালান এবং ব্যবহার করা হয় আল্ট্রাসনিক লিক ডিটেক্টর। কিন্তু সেই ডিটেক্টরের নয়েজ অত্যাধিক হওয়ায় তাঁরা ব্যর্থ হোন লিকেজের আসল জায়গাটি খুঁজে পেতে। মঙ্গলবার সকালের মধ্যে তাঁরা আবিষ্কার করেন লিকেজটি স্টেশনের রাশিয়ান এজেন্সির দিক থেকে আসছে, সেখানকার একটা মডিউল হয়ত লিকেজটার জন্ম দিয়েছে। এই Zvezda মডিউলটি রাশিয়ান সাইটে অক্সিজেন ও পানি সরবরাহ কাজে নিয়োজিত থাকে। তাছাড়াও এটি বায়ু থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে থাকে। এই মডিউলের মধ্যে রয়েছে সেকশনটির স্লিপিং কোয়ার্টার, ফ্রিজ, এয়ার কুলার এবং বাথরুম।

নাসা এবং রাশিয়ান স্পেস এজেন্সি এখনও সঠিকভাবে লিকেজের অবস্থান না জানলেও এতটুকু নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে যেখানে ক্ররা থাকে সেখানেরই কোনো একটা জায়গা থেকে লিকেজে বায়ু বেরিয়ে যাচ্ছে। নাসা থেকে জানানো হয় লিক সনাক্তকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে ও কাজ চলছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য সমস্যা পাওয়া যায়নি এই লিকেজের কারণে এবং ক্র দের জন্য বর্তমান লিকেজ রেট আতংকের কারণ নয় বলে দাবি করছে নাসা। শুধুমাত্র ওই মডিউল সেকশনটিতে সাময়িক সময়ের জন্য তাপমাত্রার উঠানামা দেখা গিয়েছিল।

সাধারণত স্পেস স্টেশন এমনিতেই কিছু বাতাস লিক করে। স্বাভাবিকভাবে যে পরিমাণ বায়ু এটি হারায় সেটা আবার উচ্চ চাপের নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন দ্বারা পরিবর্তিত হয়ে সমতা বজায় রাখে। কিন্তু ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দেখা যায় বায়ুর লিকেজ হার একটু বেড়ে গিয়েছ স্বাভাবিকের তুলনায়। এই পরিবর্তন টা খুব বেশি না হলেও এই বছরে সেই পরিমাণ আরেকটু বেড়েছে। এই জন্য আগস্ট মাসে একটা লিক টেস্ট প্রোগ্রামে মহাকাশচারীরা নিজেদেরকে চারদিনের জন্য স্বীয় স্টেশনের হ্যাচে বন্দি করেন, বায়ু চাপ পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং কোনো লিকেজ পাওয়া যায়নি তখন। এই কারণে লিকেজ পাওয়া যায়নি কারণ যে মডিউলটার কথা উপরে বলা হয়েছে সেটি তখন পর্যবেক্ষণের মধ্যে ছিল না, জানায় নাসা। Zvezda এবং পয়েস্ক মিনি রিসার্চ মডিউল এমন দুটো জায়গা যেখানে পৃথিবী থেকে আগত প্রব গুলো ডকিং করা হয় ও মহাকাশচারীরা স্পেসওয়াকের জন্য প্রস্তুতি নেন।

গোলাকার চিহ্নিত জায়গাটিতে ছিদ্র খুঁজে পেয়েছে

বিজনেস ইনসাইডার কে নাসার এক মুখপাত্র জানান যে Zvezda মডিউল এতটাই ঘন এলাকা এবং সেখানে ক্রুদের নিয়মিত চলাচলের জন্য লিকেজ পরীক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয়নি। নাসা আর রাশিয়ান স্পেস এজেন্সির ক্রুরা চাননি Zvezda মডিউল লক করে দিতে। কারণ এখানে সয়োজ স্পেস ক্রাফট ডক করা আছে যার মাধ্যমে কোনো বিপদে মহাকাশচারীরা যাতে আইএসএস ত্যাগ করতে পারেন দ্রুত। যদি এটা লক করে দেয়া হয় তাহলে মহাকাশচারীরা দ্রুত ত্যাগ করতে হয়ত সমস্যায় পড়তে পারেন। কিন্তু পরবর্তীতে Zvezda মডিউল লক করে দেয়া হয় লিকেজ খুঁজে বের করার জন্য। সেসময় রাশিয়ান ক্রুরা আমেরিকান লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম তথা অক্সিজেন, খাবার পানি ইত্যাদি ব্যবহার করেন।

যাইহোক ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন মহাকাশচারীরা লিকটি খুঁজে বের করে মেরামতের। এই সপ্তাহটি ক্রু দের জন্য ব্যস্ততম সময় হবে। কয়েকদিন পরই কাজাখিস্তান থেকে নতুন মহাকাশচারীরা এসে যোগ দিবেন, তাছাড়াও পৃথিবী থেকে আসবে সাপ্লাই। আবার যারা এতদিন ছিলেন স্টেশনে তাঁরাও ফিরে আসবেন। অক্টোবরের শেষের দিকে তারা ক্রিউ-১ মিশনে যোগ দিবেন নাসার যা স্পেস এক্সের সাথে সম্মিলিত চুক্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। এই ক্রিউ-১ মিশনটি মাসের প্রথমে হওয়ার কথা থাকলেও লিকেজ সমস্যার কারণে পেছানো হয়েছে।

এটাই প্রথম কোনো লিকেজ না। ২০১৮ সালে পাওয়া যায় ২ মিলিমিটার ব্যাসের একটি ছিদ্র, রাশিয়ান সাইট বা সয়োজ স্পেসশিপ যেখানে ডক করা রয়েছে। সেটা তৈরি হওয়ার কারণ ছিল হয়ত পৃথিবীতে আইএসএস তৈরির সময় নির্মাণ ত্রুটি। কোনোভাবে সিল করা অংশ ফেটে যায় এবং গর্তের তৈরি হয়। ঠিক পরেই মহাকাশচারীরা স্পেসওয়াকে বের হয়ে ৮ ঘন্টা চেষ্টার পর ছিদ্রটি খুঁজে পান ও এপোক্সি সিলেন্ট দিয়ে বন্ধ করে দেন।

তথ্যসূত্রঃ business insider,sciencealert

শনিগ্রহ সম্পর্কে জানিতেঃ

আপনার মতামত লিখুন :

ট্যাগ
Back to top button
Close