মহাকাশ

লাল গ্রহের বিষাক্ত প্রেম!

টাইটেল পড়েই ভড়কে গেলেন? ভাবছেন বিষাক্ত প্রেমটা আবার কি? তাও আবার মঙ্গল গ্রহে? মহাকাশ বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের সাথে যা করতে চলেছেন তাকে “বিষাক্ত প্রেম” বলাই ভালো। চলুন ব্যাখ্যাটা শুনে আসি।
আপনার ‘উনি’ চাইছেন না আপনি উনার সাথে থাকুন, কিন্তু আপনি আবার তাঁকে ছাড়তে চাইছেন না। এর ফলে আপনাদের মাঝে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে তাকেই বইয়ের ভাষায় বিষাক্ত প্রেম বলে। মহাকাশ বিজ্ঞানীরা মঙ্গল গ্রহের লাল টুকটুকে রঙ দেখে মুগ্ধ হলেও মঙ্গল আসলে চাইছে না সেখানে প্রাণের বসতি গড়ে উঠুক। তাইতো মঙ্গল তার বসবাস পৃষ্ঠে বিষাক্ততার প্রমাণ দিয়ে বিজ্ঞানীদের ফিরিয়ে দিতে চাইছে। কিন্তু আমাদের বিজ্ঞানীরা নাছোড়বান্দা। তাঁরা এই ‘ব্রেক আপে’ বিশ্বাসী নন। তাঁরা প্রাণপণ দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন সেখানে মানব বসতি গড়ে তুলবার। অন্ধ প্রেম যেরকম হয় আর কি!
মহাকাশ বিজ্ঞানীদের একটি সাম্প্রতিক পরীক্ষার ফলাফল বলছে,লাল টুকটুকে এই গ্রহটির বসবাস পৃষ্ঠ এতটাই বিষাক্ত যাতে মানুষ তো দূরের কথা, অন্য কোন নিচু শ্রেনীর প্রাণীও এখানে বাস করতে পারবে না। মঙ্গল পৃষ্ঠের উপরিস্থ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফলাফল বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই ধরনের খবর পাওয়া গেছে।
২০১৫ সালে নাসার “মার্স রিকনাইসান্স অরবিটার” পারক্লোরেট নামের একটি শক্তিশালী অক্সিডেন্টের উপস্থিতি শণাক্ত করে। যার ফলে বিজ্ঞানীরা ধরে নিয়েছিলেন বহু বছর আগে মঙ্গলের বুকে কোনো এক সময় পানির উপস্থিতি ছিল। আসলে পারক্লোরেটের এই উপস্থিতি সত্তরের দশকে সর্ব প্রথম শণাক্ত করেছিল ‘মার্স ভাইকিং ল্যান্ডারস’। সেসময় ধারণা করা হয়েছিল সম্ভবত এলিয়েন ব্যাক্টেরিয়া এই পারক্লোরেট গুলোকে তাদের এনার্জি সোর্স হিসেবে ব্যাবহার করে। এবং সেসময় ধরে নেয়া হত ‘মাইক্রো ব্যাক্টেরিয়াল লাইফ’ বসবাসের জন্য মঙ্গলের পৃষ্ঠ একটি অন্যতম ভালো জায়গা।
কিন্তু এবছর ৬ জুলাই ইউনিভারসিটি অফ এডিনবার্গ এর জেনিফার ওয়াডসওর্থ এবং চার্লস ককেল এর একটি প্রতিবেদনে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। তাঁরা দেখেন মাটিতে বসবাস করে এমন একটি ব্যাক্টেরিয়াকে পারক্লোরেটে মিশিয়ে মঙ্গল গ্রহের আলট্রাভায়োলেট পরিবেশে রাখা হলে ব্যাক্টিয়াটি ধ্বংস হয়ে যায়। মঙ্গল পৃষ্ঠের অন্যতম দুই উপাদান আয়রন অক্সাইড এবং হাইড্রোজেন পার অক্সাইড মিশিয়েও পরীক্ষাটি করা হয়। ফলাফলে কোষ গুলোর তাৎক্ষণিক মৃত্যু ঘটে।
ওয়াডসওর্থ বলেন, “অতীতে কি হয়েছিল তা আমি বলতে পারি না। কিন্তু বর্তমানের প্রেক্ষাপটে এটা বলা যায় যে মঙ্গলের পৃষ্ঠ প্রাণ ধারণের উপযোগী নয়। তার মানে এটা বলছি না যে মঙ্গলে জীবের বসবাস অসম্ভব। অনুকূল পরিবেশের জন্য আমরা মাটির নিচ টা খুঁজে দেখতে পারি, যেখানে মঙ্গলের বিষাক্ত রেডিয়েশন পৌঁছায় না।”
মঙ্গল পৃষ্ঠের নিচে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজতে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি ২০২০ সালে “এক্সোমার্স রোভার” নামক একটি রোবট পাঠাতে চায়। এই রোবটটি মঙ্গলের পৃষ্ঠ সাড়ে ছয় ফিট পর্যন্ত ড্রিল করে ক্ষুদ্র প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।
এক্সোমার্স রোভার সেখানে ক্ষুদ্র প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পেলে আপনাদের জানানো হবে। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। বিজ্ঞানবর্তিকার সাথেই থাকুন।

আপনার মতামত লিখুন :

ট্যাগ
Back to top button
Close