জীব রসায়নপরিবেশ

প্লাস্টিকখেকো ব্যাকটেরিয়া

সম্প্রতি গবেষকগণ এধরনের প্লাস্টিকের মোকাবেলায় একধরনের নতুন অণুজীব আবিষ্কার করেছেন যেগুলো খুব চমৎকারভাবে এইসব প্লাস্টিক খেয়ে ফেলতে পারে।

পলিথিন ব্যাগ, কসমেটিক প্লাস্টিক, গৃহস্থালির প্লাস্টিক, বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিক- প্রতিনিয়ত আমরা প্লাস্টিকের বহুল ব্যবহার করছি। এসকল প্লাস্টিক পণ্যের বেশিরভাগই পুনঃচক্রায়ন হয় না৷ এগুলো পরিবেশে থেকে বর্জ্যের আকার নেয়৷ যা কিনা মাটি, সাগর এমনকি বায়ু দূষণেও প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে।

প্লাস্টিকের উৎপাদন

ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের তথ্য অনুযায়ী প্রতিবছর সারা বিশ্বব্যাপী ৩৪২ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয় এবং এর মাত্র ১৪ শতাংশ পুনর্প্র্ক্রিয়াজাত (recycle) করা হয়।

শুধুমাত্র আমেরিকাতে প্রতিবছর ৫ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহৃত হয় ৷ এগুলোর মধ্যে মাত্র ২৪ শতাংশ পুনঃচক্রায়ন হয়ে থাকে ৷ অন্য ৩.৮ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য আকারে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়৷

প্লাস্টিক বর্জ্য

সাধারণত প্লাস্টিক দূষণের জন্য দুই ধরণের প্লাস্টিক দায়ী: মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং ম্যাক্রোপ্লাস্টিক।

উত্তর গোলার্ধে শহুরে কেন্দ্র ও জল সম্মুখভাগে মেগা ও মাইক্রোপ্লাস্টিক সর্বোচ্চ ঘনত্বের মধ্যে প্রায় ঘনীভূত অবস্থায় সঞ্চিত রয়েছে।

প্রতিদিন প্রায় ৭৩ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে সমুদ্রে গিয়ে পড়ছে। পরিমাণের দিক থেকে এটি বিশ্বে পঞ্চম।

প্লাস্টিকখেকো ব্যাকটেরিয়া

সম্প্রতি গবেষকগণ এধরনের প্লাস্টিকের মোকাবেলায় একধরনের নতুন অণুজীব আবিষ্কার করেছেন যেগুলো খুব চমৎকারভাবে এইসব প্লাস্টিক খেয়ে ফেলতে পারে।

এর আগে শুধুমাত্র বিরল একপ্রজাতির ছত্রাকই ছিলো যা এই প্লাস্টিকটিকে পঁচাতে পারত। তবে বর্তমানে জাপানের একদল বিজ্ঞানী এমন এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করলেন যেগুলো  প্লাস্টিকটিকে পচিয়ে দিতে পারে। জাপানের কিয়োতো ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একজন ফলিত মাইক্রোবায়োলজিস্টগণ এবং দাবি করেন এই ব্যাকটেরিয়াই প্রথম নমুনা যা পিইটি (PET) সম্পূর্ণ ভেঙ্গে কার্বন-ডাইঅক্সাইড ও পানিতে পরিণত করে।

কিভাবে কাজ করে?

গবেষকগণ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় মাটি এবং প্লাস্টিক বোতল পুনরুৎপাদন কারখানা থেকে পিইটির আবর্জনার নমুনা সংগ্রহ করেন। ব্যাকটেরিয়ার খোঁজে  তারা এই নমুনাগুলো স্ক্যান করেন। এসবের মধ্য থেকে একটি ব্যাকটেরিয়া খুঁজে পান যার নাম দেওয়া হয় ideonella sakaiensis 201-F6। যা পিইটির একটি পাতলা পর্দাকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ছয় সপ্তাহের মধ্যে পুরোপুরি ভেঙ্গে ফেলে। গবেষকগণ ধারণা করেন ব্যাকটেরিয়া কোষের কোনো অঙ্গাণু নিশ্চয়ই এমন কোনো যৌগ নিঃসরণ করে যা প্লাস্টিককে গলিয়ে দেয়।

প্লাস্টিক গলিয়ে দেওয়ার কাজ মূলত দুটি এনজাইম করে থাকে। এর মধ্যে একটি এনজাইম প্লাস্টিক ও পানির বিক্রিয়ায় একটি মধ্যবর্তী যৌগ উৎপাদন করে এবং অপর এনজাইমটি পিইটিকে এর মূল সরল যৌগে পরিণত করে। আবিষ্কৃত ব্যাকটেরিয়ায় এসব এনজাইমের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

ছত্রাকের চাইতে অনেক সহজেই ব্যাকটেরিয়া প্লাস্টিক পণ্যে প্রবেশ করানো যায়। তাই বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী যে পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে এই ব্যাকটেরিয়া কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বর্তমানে বিজ্ঞানীগণ ব্যাকটেরিয়া নিঃসৃত এনজাইমগুলো নিয়ে গবেষণা করছেন।

এখন পর্যন্ত এনজাইমগুলো কিভাবে বিবর্তিত হলো তা অজানা এবং এদের সবচেয়ে নিকটস্থ এনজাইমগুলোর সাথে এদের মিল সামান্যই।

রেফারেন্সঃ theconversation.com

আপনার মতামত লিখুন :

ট্যাগ
Back to top button
Close