নবায়নযোগ্য শক্তিপরিবেশপৃথিবীবিবিধ

মরূভূমিতে সোলার প্যানেলঃ সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা

অবাক করা তথ্য হল যে, সারা বিশ্বের মানুষ ১ বছরে যে পরিমাণ সৌর শক্তি পায় পৃথিবীর সমস্ত মরুভূমি মাত্র ৬ ঘন্টায় তার থেকে বেশি পরিমাণ সৌর শক্তি পায়

মানবজাতি যা সারাবছরে ব্যবহার করে, সূর্য তা ১ ঘন্টায় তার চেয়েও বেশি উৎপাদন করে।

অবাক করা তথ্য হল যে, সারা বিশ্বের মানুষ ১ বছরে যে পরিমাণ সৌর শক্তি পায় পৃথিবীর সমস্ত মরুভূমি মাত্র ৬ ঘন্টায় তার থেকে বেশি পরিমাণ সৌর শক্তি পায়। এই সৌর শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যদি সাহারা মরুভূমির মাত্র ১.২ শতাংশ সোলার প্যানেল বসানো যায় তাহলে পুরো বিশ্বের শক্তির চাহিদা মেটানো যাবে।

শুধুমাত্র সূর্য থেকেই প্রতিমুহূর্তে বিকিরিত হয়ে পৃথিবীতে আসে প্রায় ১,৭৩, ০০০ টেরাওয়াট সৌরশক্তি , যা আমাদের বর্তমান প্রয়োজনের প্রায় ১০,০০০ গুণ বলা যায়।

যে পরিমাণ জায়গায় দরকার হবে, পৃথিবীর তুলনায় তার আকার

বর্তমানে পৃথিবীতে মানুষ যেহারে বাড়তেছে,তাতে অচিরেই দেখা যাবে জায়গায় অভাবে পাওয়ার প্লান্ট সেট করা যাবেনা, ফলে চাহিদা মেটানো সম্ভব হবেনা।
তখন দুর্গম অঞ্চলে পাওয়ার প্লান্ট গুলি সেটাপ করার কথা চিন্তা করতে হবে।
দুর্গম এলাকার কথা বলায়, আমি সাহারা/পামীর/গবী ইত্যাদি মরূভূমির কথা বলতে পারি, একে তো দিনের ১০-১৪ ঘন্টা সূর্যের কড়া রোদ সাথে, ৪৫-৫০° ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা, যা যে কাউকে মূহুর্তেই কাবু করার জন্যে যথেষ্টের ও বেশি।

এমন একটা অঞ্চল সোলার প্যানেল সেটাপ করার জন্যে উপযুক্ত, দিনের বেশিরভাগ সময় রোদ, বৃষ্টি একদম হয়না বললেই চলে, আদর্শ অবস্থা সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুত উৎপাদনের।

মরূভূমিতে সোলার প্যানেল

প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে কি পরিমাণ বিদ্যুত উৎপাদন করা সম্ভবপর হবে, আমাদের আজকের আর্টিকেলে সেটা নিয়েই আলোচনা হবে-

কিন্তু কেনই বা এখনো এই কাজটি করা হয়নি???
এমন শক্তির আধার ফেলে রাখা হয়েছে কেন???
কি এমন অদৃশ্য শিকল বাধা দিচ্ছে এমন প্রকল্প বাস্তবায়নকে??

তো শুরুতেই সাহারা মরূভূমি নিয়ে শুরু করা যাক:
৯.২মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার এরিয়া নিয়ে সাহারা মরূভূমি পৃথিবীর বুকে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে।
এর মাত্র ১.২% জায়গা ব্যবহার https://bigganbortika.org/top-5-solar-power-plant/ করে সোলার প্যানেল স্থাপন করলে তা থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুত পাওয়া যাবে,তা দিয়ে অনায়াসেই পৃথিবীকে চালানো যাবে।
বলে রাখা ভালো যে, সমগ্র পৃথিবীর বিদ্যুতচাহিদাকে সৌরশক্তি দ্বারা পূরণ করতে চাইলে আমাদের ৩৫০ওয়াটের মোট ৫১.৪২ বিলিয়ন সোলার প্যানেল স্থাপন করতে হবে, তার জন্যে জায়গার দরকার হবে ১,১২,২২৫ বর্গকিলোমিটার যা সাহারা’র মোট অঞ্চলের মাত্র ১.২%.

কোন জায়গায় ই পরিমাণ সূর্যের আলো পড়ে, তার ছবি

এই পরিমাণ জায়গায় ৩৫০ ওয়াটের ৫১.৪২ বিলিয়ন সোলার প্যানেল বসালে সেখান থেকে ১৮টেরাওয়াট বিদ্যুত পাওয়া যাবে যা দিয়ে সমগ্র পৃথিবীর চাহিদা মেটানো যাবে।

কোরা ডট কম

এবার আসি, যদি পুরো সাহারা জুড়ে সোলার প্যানেল বসানো হয়…

কত উপায়ে বসানো যেতে পারে তার একটি নমুনা মাত্র

নাসার তথ্যমতে, এখানকার প্রতি বর্গমিটারে বছরে ২০০০-৩০০০কিলোওয়াট ঘন্টা সূর্যের আলো পড়ে।
ধরি, প্রতি ইঞ্চিতে সোলার প্যানেল বসানো হল,তাহলে বছরে পাওয়া যাবে ২২বিলিয়ন গিগাওয়াটআওয়ার

একটি হিসাব দেখাই:
ধরি, সাহারা প্রতিবছর (১৫০০-৩০০০) কিলোওয়াট সূর্যের আলো পায়, ২০% এফিসীয়েন্সীর সোলার প্যানেল স্থাপন করে পাওয়া যাবে ১.৯*১০^১৮ ওয়াট বা ১.৯ ট্রিলিয়ন মেগাওয়াট, ১০ ঘন্টা করে সূর্যের আলো পাওয়া গেলে টোটাল পাওয়া যাবে বছরে ১৯০০০ টেরাওয়াট ঘন্টা।

এখন আসি, কেন হচ্ছে না সম্ভব?

#যদিওবা সম্ভব হয় তাহলেও ৮০০-৩০০০ কিলোমিটার দূরত্বের ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপন করতে হবে, যা স্বাভাবিকভাবেই খরচ অনেক গুনে বাড়িয়ে দিবে।

অনেক পথ অতিক্রম করতে হবে ট্রান্সমিশন লাইনগুলোকে

#সাহারা কারো একার মালিকানাধীন নয়, ফলে জিওপলিটিক্যাল সমস্যা খুব স্বাভাবিক, এছাড়াও সরকার ব্যবস্থা অনেক নাজুক।

#যে পরিমাণ বিনিয়োগ দরকার,তা করতে গেলে অনেক রিস্ক নিতে হবে, যেহেতু শুরুতেই ইনভেস্ট করতে হবে, ফলে পরে যদি কোনোকারণে বাধাগ্রস্থ হয় তখন টাকা উঠানোর সম্ভাবনা খুবি ক্ষীন,কেনোনা আফ্রিকার সামর্থ্য নেই পরিশোধ করার

#যদি এই প্রজেক্ট আশার আলো দেখে, তাহলে বাকি যেসব প্লান্ট আছে,তারা বন্ধ হয়ে যাবে অচিরেই, বেকারত্ব বেড়ে যাবে।

#ব্যাটারিতে সঞ্চিত রাখার জন্যেও খরচ অনেকগুনে বেড়ে যাবে।

#বিশাল ক্ষমতাসম্পন্ন আন্ত:দেশীয় ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপন করতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ এবং জিওপলিটিক্স এর অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়াও আরো অনেক সমস্যা রয়েছে, যার ফলে এটা আদৌ সম্ভব হবে বলে মনে হয়না।

আরেকটা বিষয় জানিয়ে রাখিঃ

২০১৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বিবিসিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানানো হয়েছে, ‘বিপুল-সংখ্যক সৌর প্যানেল ও বায়ু টারবাইন স্থাপনের মাধ্যমে সাহারা মরুভূমির সবুজায়ন করা সম্ভব বলে।

মরূভূমির সবুজায়ন

গবেষকরা দেখেছেন যে, ম্যাসিভ স্কেলে স্থাপন করা হবে, তখন বায়ু এবং সৌর অবকাঠামো উভয় প্রতিক্রিয়া লুপগুলিকে ট্রিগার করবে যা আরো বৃষ্টিপাত আনবে এবং মরুভূমিতে গাছপালা বৃদ্ধির প্রসার করবে।

অপর এক তথ্য মতে, বাংলাদেশে ৫০ লাখ সোলার প্যানেল ব্যবহার করে তা থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩৯০ মেগাওয়াট, সোলার হোম সিস্টেম।

মরুভূমিতে সোলার বিপ্লব এই ট্যাগে পড়তে পারেন

সোর্সঃ What IF, quora.com, forbes

আপনার মতামত লিখুন :

ট্যাগ
Back to top button
Close