পরিবেশপৃথিবী

রহস্যময়ী গ্র্যান্ড ক্যানিয়ানের রাজ্যে

পৃথিবীর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে কোটি বছরের ইতিহাস। সেই ইতিহাসগুলোর বেশির ভাগই খুঁজে পাওয়া গিয়েছে বিভিন্ন শিলা পাথরের মধ্যে। সেই শিলা পাথরগুলো কোনো না কোনো রহস্য বহন করে থাকে। এই পাথরগুলোর মধ্যে হাজার বছর পুরোনো কোনো মাছের জীবাশ্ম পাওয়া যায়। অথবা পাওয়া যায় বড় বড় খনির সন্ধান। সবকিছুই নির্ভর করে পৃথিবীর ভূমিরূপের উপর। কখন, কোথায়, কিভাবে পলল মাটি এসে জমা হয়েছে, সেগুলো কত বছর ধরে এক একটি স্তরের উপর চেপে বসে আছে। এসকল প্রশ্ন থেকে বিজ্ঞানীরা খুজে পেয়েছেন পৃথিবীর পরিবর্তনের উত্তরটুকু।

প্লেট টেকটনিক্স বা ভূমির আলোড়ন প্রক্রিয়া মূলত পৃথিবীর উপরিভাগের ভুমিকে নিজের জায়গা পরিবর্তনে সাহায্য করে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে সমুদ্রতল পানির উপরে উঠে আসে, আবার কিছু ক্ষেত্রে ভূমিগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়। গ্র্যান্ড ক্যানিয়ান হচ্ছে পৃথিবীর বুকে জেগে উঠা এমনি একটি ভূমিরূপ, যার প্রতিটি পলল শিলার স্তরের মাঝে হাজার বছর থেকে শুরু করে বিলিয়ন বছরের ইতিহাস লুকিয়ে আছে। অনেক বিজ্ঞানীদের মতামত অনুযায়ী গ্র্যান্ড ক্যানিয়ান পৃথিবী সবচেয়ে পুরোনো ক্রাস্টের উপর গঠিত হয়েছে।

চিত্রঃ সূর্যাস্তের সময় গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন; ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহকৃত

গ্র্যান্ড ক্যানিয়ানের পরিচয়

পৃথিবীর শুষ্কতম কিছু জায়গাগুলোর মাঝে একটি এই গ্র্যান্ড ক্যানিয়ান। উত্তর আমেরিকা মহাদেশের আমেরিকার অ্যারিজোনা রাজ্যের উত্তরে অবস্থিত এই শুষ্ক গীরিখাত। এটি সর্বোপ্রথম কে আবিষ্কার করেন তার সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া অসম্ভব। কিন্তু এখানে মানুষ বসবাস শুরু করে প্রায় ৪৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দের  মাঝামাঝি সময়ে। এখানে কিছু মতভেদ রয়েছে বিজ্ঞানীদের মাঝে। কারো মতে ৫০০ খ্রিষ্টাব্দে, আবার কারো মতে ১১০০ খ্রিষ্টাব্দে। ক্যানিয়ানের মধ্যে বিভিন্ন ঘরের নকশা দেখে এই হিসেবগুলো করা হয়েছিলো।

তবে স্পেনের গারসিয়া লোপেজ সর্বপ্রথম ১৫৪০ সালে প্রথম ইউরোপিয়ান হিসেবে এই জায়গাটুকু দেখতে পান। তার সেই গ্র্যান্ড ক্যানিয়ানে ঘুরতে যাওয়া সবকিছু বদলে দিয়েছে। কিন্তু তার পূর্বে শুধুমাত্র স্থানীয় আমেরিকানরা এই ক্যানিয়ানের পাথরের মাঝে গুহা তৈরি করে সেখানে বসবাস করতেন। তাছাড়া তাদের খাদ্যের সবচেয়ে বড় উৎস ছিল কলোরাডো নদীর অববাহিকা। ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের দিকে কিছু আমেরিকান এই জায়গায় আসে কপার মাইনিং এর জন্য। কিন্তু তারা একে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করতে পারেনি। বরং তারা একে পর্যটন খাত হিসেবে গড়ে তুলে। এরপর ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে, প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন হ্যারিসন এই এলাকাকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা দেন। তারপর ১৯০১ সালে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ানকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। পরবর্তিতে এটি ১৯০৯ সালে জাতীয় উদ্যান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। (তথ্যসূত্রঃ Grand Canyon: Geologic Formations; History.com)

চিত্রঃ কলোরাডো নদীর বাকের সময় সৃষ্ট গিরিখাতের অংশ

এই গিরিখাতটি প্রায় ২৭৬ মাইল দৈর্ঘে এবং প্রায় ১৮ মাইল প্রস্থে বিস্তৃত। আর আই গিরিখাতটি প্রায় ১ মাইল গভীর। যার জন্য এটি বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম গিরিখাত হিসেবে পরিচিত।

কখন তৈরি হয়েছিল এই গিরিখাত?

গ্র্যান্ড ক্যানিয়ান তৈরি হয়েছিলো আজ থেকে প্রায় ৫-৭ মিলিয়ন বছর পূর্বে। শুনতে বেশি মনে হলেও বাস্তবে এই সময়টুকু কিছুই না। গ্র্যান্ড ক্যানিয়ানের রহস্য লুকিয়া আছে তার শিলার স্তর বিন্যাসের মধ্যে।

চিত্রঃ গ্র্যান্ড ক্যানিয়ানের অংশ বিশেষ; ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহকৃত

৭০-৩০ মিলিয়ন বছরের মাঝামাঝি, টেকটনিক ক্রিয়াকলাপের কারণে সম্পূর্ণ গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ভূমি উপরের দিকে উঠে আসে। তার পূর্বে এই সমস্ত অঞ্চল সমুদ্রের নিচে ছিলো। সম্পূর্ণ ভুমি যখন উপরে উঠে আসে তখন এটি তৈরি করে কলোরাডো সমতল ভূমি (যা আজকের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের অবস্থানে ছিল)।

আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছিলাম যে, গ্র্যান্ড ক্যানিয়ান বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক ক্রিয়াকলাপের কারণেই তৈরি হয়েছিল। যার শুরু আজ থেকে ২ বিলিয়ন বছর পূর্বে। গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন যে প্লেটের উপর অবস্থান করছে তা আগ্নেয় শিলা এবং রূপান্তরিত শিলার উপর অবস্থান করছে। সেই শিলার উপর পাললিক শিলার স্তর তৈরি হয়েছিলো। যা ৬-৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে কলোরাডো নদীর প্রভাবে ভাঙতে থাকে। অর্থাৎ, ৬-৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে কলোরাডো নদী নিচের দিকে (দক্ষিণে) প্রবাহিত হতে শুরু করে। যার ফলে কলোরাডো সমভূমি আসতে আসতে নদীর প্রভাবে কাটতে শুরু করে। যা আজকে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ান তৈরিতে সহায়ক ছিলো। এমনকি আজকেও গ্র্যান্ড ক্যানিয়ান বাড়ছে এই নদীর প্রভাবে। (তথ্যসূত্রঃ Geology: Grand canyon; https://www.nps.gov)

গ্র্যান্ড ক্যানিয়ান সৃষ্টির রহস্য

পৃথিবীতে গিরিখাতগুলো সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন বড় নদী কিংবা বৃষ্টিপাত, বাতাসের প্রভাবে। বেশিভাগ দেখা যাবে গিরিখাতগুলোর মধ্য দিয়ে কোনো নদী প্রবাহিত হচ্ছে। প্রায় একইভাবে আজ থেকে ৭০-৩০ মিলিয়ন বছর পূর্বে কলোরাডো সমভূমির উপর দিয়ে কলোরাডো নদী প্রবাহ শুরু হয়। এটি উত্তর অ্যারিজোনা থেকে দক্ষিণে প্রবাহমান ছিলো।

চিত্রঃ কলোরাডো নদীর প্রভাবে উন্মুক্ত স্তরগুলো; ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহকৃত

যেহেতু সম্পূর্ণ কলোরাডো সমভূমি পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত, তাই এটি তুলনামূলকভাবে পানির তোড়ে বেশি ক্ষয় হতে থাকে। ভূতাত্ত্বিক ভাষায় একে “কাটিং বিটুইন দ্যা হিলস” বলা হয়ে থাকে। বর্তমানে যে কলোরাডো নদী দৃশ্যমান, তা পূর্বে এমনটা ছিলো না। নদীটি প্রস্থে প্রায় ৭-৯ মাইল ছিল বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। আবার কিছু বিজ্ঞানীদের মতামত হচ্ছে কলোরাডো নদীর বিভিন্ন মোড়ের জন্যই গিরিখাতটি এতো বিশাল আকার ধারণ করে।

চিত্রঃ কলোরাডো নদী এবং তার প্রভাব; ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহকৃত

গ্র্যান্ড ক্যানিয়ান গিরিখাতটি প্রকৃত পক্ষে তৈরি হতে শুরু করে প্রায় আজ থেকে ২ বিলিয়ন বছর পূর্বে। ঐসময় পৃথিবীর ২য় বৃহত্তম কন্টিনেন্ট রোডিনার প্রক্রিয়া চলমান ছিলো। পৃথিবীর অভ্যান্তরের গলিত লাভা যখন ঠান্ডা হতে শুরু করে তখন আগ্নেয় শিলা এবং রূপান্তরিত শিলাগুলো ভূমির তলদেশ বা ক্রাস্টাল লেয়ার তৈরি করতে থাকে। যখন বিভিন্ন কারনে ভুমির উপরের দিকের মাটি ক্ষয় হতে থাকে এবং তা পলল হিসেবে সেই ক্রাস্টাল লেয়ারের উপর এসে জমা হতে থাকে। (তথ্যসূত্রঃ Carving Grand Canyon: Evidence, Theories, and Mystery; Ranney, Wayne (2005))

ভূতত্ত্বের মতে, “সী বেড” বা সমুদ্রে তলে এই পললগুলো বিভিন্ন নদীর মাধ্যমে ধুয়ে গিয়ে এসকল সমুদ্রতলে জমা হতে থাকে। পললগুলো তাদের আকার অনুযায়ী সমুদ্রতলে জমা হয়। এই পললগুলো বিভিন্ন সময়ের ব্যবধানে একটির উপর আরেকটি স্তর আকারে জমা হতে শুরু করে। জমা হওয়া সেই স্তরের উপর সম্পূর্ণ সমুদ্রের (পানির) চাপের জন্য এক একটি স্তর নিজের জায়গায় শক্ত পাললিক শিলায় পরিণত হয়। এভাবে হাজার বছর ধরে যেসকল পললগুলো উচ্চ ভূমি থেকে সমুদ্র জমা হয়, সেগুলো সামুদ্রিক চাপের জন্যই পাললিক শিলায় পরিণত হয়। (সমুদ্রে প্রতি ১০ মিটার গভীরতায় ১ প্যাসকেল হয়)।

চিত্রঃ উন্মুক্ত স্তরসমূহ; ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহকৃত

গ্র্যান্ড ক্যানিয়েনের ইতিহাস অনেকটাই এমনই। প্রায় ২ বিলিয়ন বছর আগ থেকে তৈরি হওয়া সেই সামুদ্রিক তলদেশে উচ্চভূমি থেকে পললগুলো এসে জমা হতে থাকে। আর সেগুলো জমা হতে থাকে বিভিন্ন স্তর বিন্যাসে। প্রায় ৭০ মিলিয়ন আগ পর্যন্ত কলোরাডো সমভূমি সমুদ্রের নিচেই ছিলো। সেখানে তখনো পলল জমা হতো। ৭০ মিলিয়ন বছরের পর বিশাল এক ভূমিকম্পে টেকটনিক সিফটের জন্য সম্পূর্ণ জায়গাটি উপরের দিকে উঠে আসে। তখনো উত্তর আমেরিকার কয়েকটি অঞ্চল সমুদ্রের নিচেই অবস্থান করছিলো।

তারপর কলোরাডো নদীর প্রবাহ শুরু হয়। সেই বিশাল নদী এই সম্পূর্ণ সমভূমিকে ভাঙতে শুরু করে। পানির প্রবাহ তীব্র হওয়ায় পাললিক শিলাগুলো টিকে থাকতে পারেনি। সেগুলো বিচিন্নভাবে ক্ষয় হতে থাকে এবং নদীর পানির সাথে ধুয়ে যেতে থাকে। আর এই ক্ষয় হওয়ার প্রক্রিয়া থেকেই প্রায় ৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে জন্ম নেয় আজকের গ্র্যান্ড ক্যানিয়ান। ২৭৭ মাইলের এই পথে কলোরাডো নদী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ৬১১ মিটার উচ্চতায় নিচে নামতে থাকে। আর নদীর আকা বাকা পথের জন্যই গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের পাহাড়গুলো এইরূপ বাক নিয়ে তৈরি হয়েছিলো। (তথ্যসূত্রঃ Where is grand canyon?; History.com)

গ্র্যান্ড ক্যানিয়ানের স্তরবিন্যাসগুলো

গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের সবচেয়ে আকর্ষনীয় দিক হচ্ছে পাহাড়ের ঢাল ধরে সুন্দর করে সারিবদ্ধভাবে থাকা বিভিন্ন পাললিক শিলার স্তরগুলো। বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ টি পাললিক শিলা স্তর আবিষ্কার করতে পেরেছেন। এই স্তরগুলো একে অপর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এমনকি তাদের মধ্যকার বয়সের পার্থক্য একে অপর থেকে হাজার বছরেরও বেশি। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের এই সকল পাললিকে শিলার মধ্যে যেগুলোর প্রাধান্য বেশি ছিল তা হচ্ছে;

  • কোয়ার্টজ
  • ক্যালসাইট
  • ক্লে
  • জিপসাম
  • ডোলোমাইট
  • হ্যামাটাইট
  • ফেল্ডস্পার
  • বায়োটাইট
চিত্রঃ ক্যানিয়নের পাথরে পাললিক শিলার স্তর; ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহকৃত

আর সবচেয়ে বেশি দেখা যায় লাইমস্টোন, স্যান্ডস্টোন, সেল। পাললিক শিলার খনিজ পদার্থগুলোই গ্র্যান্ড ক্যানিয়ানের বিভিন্ন রঙের জন্য দায়ী। আপনি যখন পাথররের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে দেখতে যাবেন, তখন লক্ষ্য করলে দেখবেন প্রত্যেকটি স্তর অন্য স্তর থেকে বর্ণের দিক থেকে ভিন্ন। এটি খালি চোখের পার্থক্য। আবার অণুবীক্ষনিক যন্ত্রে দেখলে বিভিন্ন খনিজের পার্থক্য দেখতে পাবেন।

গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে পাওয়া বিষ্ণু শিলা এখন থেকে প্রায় ১.৮৫ বিলিয়ন বছর পুরোনো। এটিই গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ভিত্তি। আবার এই স্তরবিন্যাসকে সুন্দরভাবে প্রকাশ করার জন্য গ্র্যান্ড ক্যানিয়ানকে কয়েকটি সুপার গ্রুপে ভাগ করা হয়েছিলো। সেগুলো হচ্ছে, ‘চর গ্রুপ’, ‘টন্টো গ্রুপ’, ‘সুপাই গ্রুপ’, ‘বিষ্ণু গ্রুপ’। (তথ্যসূত্রঃ Price, L. Greer (1999). Geology of the Grand Canyon)

গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ভবিষ্যৎ

বিভিন্ন ভূতত্ত্ববিদদের মতামত অনুযায়ী গ্র্যান্ড ক্যানিয়ান আগামী ৫ মিলিয়ন বছরের মধ্যে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে। যেমন, হঠাৎ বিশালাকার ভূমিকম্পের জন্য এটি বিভক্ত হয়ে সমুদ্রের নিচে চলে যেতে পারে। আবার শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য পাথরগুলো ক্ষয়ে গিয়ে আবার পূর্বের ন্যায় সমভূমি তৈরি করতে পারে। অথবা কলোরাডো নদী বরাবর জায়গাগুলি আরো বিস্তৃত হতে পারে।

কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন যে, গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের নিচে যে দুইটি প্লেট অবস্থান করছে, তাদের স্থান পরিবর্তনের জন্য পুরো গ্রান্ড ক্যানিয়ান ধ্বসে যেতে পারে। আবার পরবর্তি বরফ যুগের সময় যখন পুরো উত্তর আমেরিকা বরফের চাদরে ঢেকে যাবে, তখন বরফের চাপেই অনেকটা অঞ্চল ধ্বসে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকছেই।

চিত্রঃ বিশ্বের শুষ্কতম এক পর্যটন স্থান; ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহকৃত

আজ হাজার হাজার পর্যটক ছুটে যান এই বিস্তর এলাকায়। এই শুষ্ক জায়গায় কিছু প্রজাতির জীব জন্তু ছাড়া আর তেমন কোনো প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া কঠিন। শুধুমাত্র কলোরাডো নদীর তীরবর্তি অঞ্চলে মাঝারি ধরণের উদ্ভিদের জন্ম হয়। তাছাড়া নদী থেকে যতই দূরে যাবেন পানির সংকট দেখতে পাবেন। প্রতিবছর অনেক মানুষ এখানে হারিয়ে যান এবং পানির অভাবেই মারা যান। এই জায়গায় পাহাড় এবং পাথরগুলো যেমন আপনাকে আকর্ষণ করবে তেমনি একটি ভুলের জন্য আপনাকে বিপদেও ফেলতে পারে। এত্তোগুলো সমস্যা থাকার পরও মানুষ এখনো গ্র্যান্ড ক্যানিয়ানের দিকে ছুটে যায়। এখনো এখানে বিভিন্ন চলচ্চিত্র ধারণ করা হয়। মানব সভ্যতার ইতিহাস থেকেও বৈচিত্রময় ইতিহাস থাকতে পারে তা গ্র্যান্ড ক্যানিয়ানকে লক্ষ্য করলে বোঝা যায়।

আল্লাহ হাফেজ

কেওক্রাডং এর উৎপত্তি

আপনার মতামত লিখুন :

ট্যাগ
Back to top button
Close