রিভিউ

বই রিভিউ : তোমাদের জন্য ভালোবাসা – হুমায়ূন আহমেদ

হুমায়ূন আহমেদের লেখা প্রথম সাইন্স ফিকশন বইয়ের রিভিউ

তোমাদের জন্য ভালোবাসা

বই : তোমাদের জন্য ভালোবাসা

লেখক : হুমায়ূন আহমেদ

প্রকাশকাল : ১৯৭২

প্রকাশন : অন্বেষা (২০০৯)

পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৭০

প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ

মূল্য : ১৩৫৳ (রকমারি)

আমার রেটিং : ৩.৫ / ৫

কাহিনী সংক্ষেপ

বিজ্ঞান সবসময়ই কিছু পরিমাণে নিষ্ঠুর

-তোমাদের জন্য ভালোবাসা

বিজ্ঞানী মাথুর কোনো এক অজ্ঞাত ব্যক্তির লেখা বই পড়ছেন সেখানেই পেলেন এই উক্তি। এমন এক মুহূর্তে বইটি পড়ছেন যখন পৃথিবী এক মহা সংকটের মুখোমুখি । সৌরজগতের গ্রহ গুলো সব উধাও হয়ে যাওয়া শুরু করল । কোনো বিস্ফোরণ , বিচ্ছুরণ কিছুই না । হুট করেই গায়েব হয়ে যাচ্ছে । সিডিসি জানালো এক বছর পরে পৃথিবীও এভাবে মিলিয়ে যাবে । কেন হচ্ছে এমন ?

তিনি খুঁজছেন পৃথিবীকে রক্ষা করার উপায়। লী নামের একটি মেয়ে তাকে পাঁচ হাজার বছর পূর্বের এই বই দিয়ে গেছে । মেয়েটি দাবি করছে বইটিতে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে ।

মধ্য বয়সী এক ব্যক্তি সেই বইতে লিখেছেন তার অতি অসাধারণ কিছু অভিজ্ঞতার কথা । লেখকের সেই অভিজ্ঞতার কথা , যখন কোনো এক নিঃসঙ্গ সন্ধ্যায় ত্রিমাত্রিক এই পৃথিবী ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন চতুর্মাত্রিক জগতে । তাও আবার অনিচ্ছা , বিস্ময় , ভয় নিয়ে , স্বপ্নের ঘোরে , হঠাৎ করে । সেইসকল মানুষরুপী চতুর্মাত্রিক প্রাণীদের মাঝে , যারা সময় নিয়ন্ত্রণ করতে জানে । যারা বিজ্ঞানের সকল বিষয় উদঘাটন করেছে । যাদের কাছে বস্তু , সময় ,কাল বলে কিছুই নেই ।

তারা জানতো পাঁচ হাজার বছর পর এক ব্যক্তির আগমন ঘটবে পৃথিবীতে যে আবিষ্কার করে ফেলবে চতুর্মাত্রিক জগতের সমীকরণ রহস্য । খামখেয়ালি সেই ব্যক্তিটির নাম ‘ফিহা’ ।
তা কি করে হয় ? সব থেকে বুদ্ধিমান প্রাণী তো টাইফা গ্রহের মানুষেরা । সবুজাভ টাইফা গ্রহের মানুষেরা তাই পৃথিবীকে চতুর্মাত্রিক করার জন্য তৈরি করে এক মহা সংকট । এই মহা সংকট যেন কেউ থামাতে না পারে তাই তারা সেই অজ্ঞাত লেখক কে দিয়েছে এক কঠিন কাজ , কাজটি লেখকের স্বজাতির বিরুদ্ধে । যদি সে কাজটি না করে তাহলে সে কখনোই তার পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারবে না ।

কি ছিলো সেই কাজ ? লেখক কি তার স্বজাতির বিরুদ্ধে যাবে ? নাকি পরিবারের আবেগে পৃথিবী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে ? পৃথিবী কি টিকে থাকবে ?

পাঠ প্রতিক্রিয়া

ব্যক্তিগত মতামত থেকেই বলছি । আমি আরো কিছু তথ্য আশা করি বইটা থেকে । কারন পড়ার পর আমার মনে কিছু প্রশ্ন উদয় হয়েছে যেগুলোর উত্তর বইয়ে দেয়া নাই ।
বিজ্ঞানের নানা বিষয় লেখক একটি বইতে ছোটখাট আকারে প্রকাশ করছেন । চতুর্মাত্রিক জীবের তৈরি মানুষ , মিউটেশন , মহাকাশ , আবেগ সবকিছু আপনি এই এক বইয়েই পাবেন ।

হুমায়ূন আহমেদ বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করেছেন টাইম ট্রাভেলের প্যারাডক্স , চতুর্মাত্রিক জগৎ নিয়ে কিছু কথা । বর্তমানে এই বিষয়গুলো মোটামুটি সবাই জানে , ১৯৭২ সালের দিক থেকে বিবেচনা করলে , তখন কজনই বা প্যারাডক্স সম্পর্কে জানত ?
উনি গ্রান্ডফাদার (তবে বইয়ে ফাদার প্যারাডক্স আছে) প্যারাডক্স টি বইয়ে লিখে বলেছেন যে মানুষ টাইম ট্রাভেল করতে পারবে না
কারন , আপনি যদি টাইম মেশিনে করে আপনার বাবার ছোটবেলার সময়ে যান আর তাকে খুন করেন তাহলে আপনার বাবার ভবিষ্যতে বেঁচে থাকার কথা না । সেই হিসাবে আপনারও বেঁচে থাকার কথা না । কিন্তু আপনি বেঁচে আছেন । যদি টাইম ট্রাভেল সম্ভব হত তাহলে কিন্তু আপনি আপনার বাবাকে খুন করে বেঁচে থাকতেন না ।

অথচ টাইফা গ্রহের মানুষ টাইম ট্রাভেল করতে পারে । কেন পারে , কিভাবে পারে ? সেই ব্যাখ্যা নাই । এমনকি তাদের কাছে সময় , বস্তু বলেও কিছুই নাই । যেহেতু বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী তাই কোনো একটা ব্যাখ্যা দিয়ে দিতে পারতেন ।

বাংলাদেশের প্রথম দিকের সাইন্স ফিকশন হিসেবে মোটেও খারাপ না । বরং নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিলো এর মাধ্যমে । প্রথমে সাইন্স ফিকশনটি ধারাবাহিক ভাবে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিলো । বরং নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিলো এর মাধ্যমে । ওনার অন্যান্য লেখার মত এটাও সাবলীল । তবে উনি মিসির আলি বা অন্য লেখার সময় যে আবেগ প্রকাশ করতেন বা উপস্থাপন করতেন এখানে সেভাবে পাই নি । লেখকের শুরুর দিকের লেখা বলেই হয়ত এমন ।

চরিত্রের কথা বলতে গেলে ওনার উপন্যাসে মূল চরিত্র যেমনটা হয় ঠিক তেমনি । খামখেয়ালি , প্রকৃতি প্রেমী , অন্যদের ভিন্ন । এখানেও ফিহার ক্ষেত্রে সেরকম একটা বৈশিষ্ট খুঁজে পাবেন । রিভিউ লিখতে গিয়ে আবিস্কার করেছি , কয়েক ভাবে এর রিভিউ লেখা যায় । কারন , ছোট হলেও অত্যন্ত ঘটনাবহুল একটা ফিকশন লিখেছেন । তাই বইটি সুখপাঠ্য ।

!!!SPOILER ALERT!!!

টাইফা গ্রহের মানুষরা যেহেতু ভবিষ্যৎ দেখতে পারে এবং অবস্থান করতে পারে । তার মানে তারা সেই ভবিষ্যৎ কে দেখে কোনো ফলাফলও পরিবর্তন করতে পারবে । বইয়ের ভেতরে যে লেখকটি ছিলো তাকে বলা হয়েছিলো পৃথিবীতে গিয়ে ফিহাকে খুন করতে । কারন টাইফা গ্রহের মানুষ পৃথিবীতে যেতে পারে না । ফিহাকে খুন করা হলেও সে এর পূর্বেই সমীকরণ আবিষ্কার করে পৃথিবীকে রক্ষা করে ।

টাইফা গ্রহের মানুষরা কি জানতো না যে তারা ব্যর্থ হবে ? জানার পরও কেন তারা খুন করার চেষ্টা করলো ? ফিহা যে সমীকরণ আবিষ্কার করবে তারা জানে বলেই তো তাকে হত্যার চেষ্টা করেছে । এর থেকে আমি ধারণা করছি , হুমায়ূন আহমেদ ভবিষ্যতকে অপরিবর্তনীয় বলে ধরে নিয়েছেন ।

সব মিলিয়ে চমৎকার একটি বই । আশা করি পড়তে গিয়ে নিরাশ হবেন না । এক ঘন্টার মধ্যেই বইটি শেষ করা সম্ভব । যদি শব্দ নিয়ে কোনো ঝামেলায় পরেন সেক্ষেত্রে বইয়ের শেষে নির্ঘন্ট রয়েছে । ওখানে অনেক কিওয়ার্ড বর্ননা করা আছে । সব শেষে বলব বই পড়ুন বই নিয়ে বাঁচুন

আপনার মতামত লিখুন :

ট্যাগ

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close