বিবিধসেরা

সেরা ১০ ইলেকট্রিক গাড়ি

দেখে আসা যাক ২০১৯ এর সেরা ১০ ইলেকট্রিক গাড়ির তালিকা

সেই ১৮৮০-র দশক থেকে আজকের ২০১৯ সাল, নানান চড়াই উৎরাই পেড়িয়ে এক বা একাধিক  ইলেক্ট্রিক মটর চালিত ইলেক্ট্রিক গাড়িগুলো বহুল সমাদৃত। প্রায় প্রতিটি বিশ্বখ্যাত গাড়ির ব্র্যান্ডই এখন ইলেক্ট্রিক গাড়ির দিকে ঝুকছে। প্রায় প্রতি বছরই আরও সহজলভ্য হচ্ছে ইলেক্ট্রিক গাড়ির প্রযুক্তি। আজ তবে দেখে আসা যাক ২০১৯ এর সেরা ১০ ইলেকট্রিক গাড়ির তালিকা।

১০. Nissan Leaf

নিসানের কম্প্যাক্ট ফাইভ-ডোর হ্যাচব্যাক দ্বিতীয় জেনারেশনের ইলেক্ট্রিক গাড়ি হচ্ছে নিসান লীফ। The U.S. Environmental Protection Agency (EPA) এর রেটিং অনুযায়ী একবার পূর্ণ ব্যাটারি চার্জে নিসান লীফ ২৪৩ কি.মি. পর্যন্ত যেতে পারে। নিসান লীফের শক্তির প্রধান উৎস হচ্ছে ৮০ কিলোওয়াটের ব্যাটারি ( ১০৭ অশ্ব-শক্তি ) আর তার সাথে রয়েছে  ২৪ কিলোওয়াটের এয়ার-কুলড, স্ট্যাক ল্যামিনেটেড লিথিয়াম আয়ন ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড ব্যাটারি। ৪ টি করে ,৪৮টি মডিউলে ১৯২টি সেল নিয়ে ব্যাটারিটি গঠিত। ২০১১/১২ মডেলের সর্বোচ্চ গতি রেকর্ড হয়েছে ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। অনানুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটি মাত্র ৯.৯ সেকেণ্ডে প্রায় ঘণ্টায় প্রায় ৯৭ কি.মি. গতিপ্রাপ্ত হয়।

Nissan Leaf

৯. Tesla Model X

টেসলার তৈরি মাঝারি আকারের সম্পূর্ণ ইলেক্ট্রিক অভিজাত SUV গাড়ি হচ্ছে টেসলা মডেল এক্স। গাড়িটিতে প্রচলিত অটোমোটিভ দরজার বদলে ফ্যালকন উইং দরজার ব্যবহার গাড়িটিকে ব্যতিক্রমী করেছে। ২০১২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় টেসলার ডিজাইন স্টুডিওতে গাড়িটির প্রটোটাইপ প্রকাশিত হয়। আনুষ্ঠানিক ভাবে গাড়িটির EPA রেঞ্জ ৪০২ থেকে ৫২৩ কিলোমিটার।

Tesla Model X

৮. Hyundai Ioniq Electric

হুন্দাই আয়োনিক হচ্ছে হুন্দাইয়ের কম্প্যাক্ট ফাইভ-ডোর লিফটব্যাক ইলেক্ট্রিক গাড়ি। আয়োনিক নামটা এসেছে আয়ন ( ion) আর ইউনিক (unique) থেকে। এটাই সর্বপ্রথম অটোমোবাইল যা কিনা হাইব্রিড, প্লাগ-ইন হাইব্রিড এবং অল-ইলেক্ট্রিক এই তিনটি ভ্যারিয়েন্টে বাজারজাত করা হয়েছে। গাড়িটির সব মডেলই এবং সব জ্বালানী টাইপই EPA এর most efficient (সর্বাধিক দক্ষ) গাড়ি হিসেবে রেটিং পেয়েছে। এর হাইব্রিড ভ্যারিয়েন্টটি প্রতি গ্যালনে ৫৮ মাইল ( প্রতি ১.৭ লিটারে ১০০ কি.মি.)  অতিক্রম করতে পারে। যা কিনা হাইব্রিড গাড়ির জগতে সর্বোচ্চ যোগ্যতা সম্পন্ন। ২০১৮ সালে, বিশ্বব্যাপি প্রায় ১০৬,৩০০ ইউনিট বিক্রি হয়। অল-ইলেক্ট্রিক মডেলটিকে ২৮ কিলোওয়াট লিথিয়াম আয়ন পলিমার ব্যাটারি দিয়ে শক্তিশালী করা হয়েছে। EPA রেটিং অনুযায়ী ব্যাটারির একবার পূর্ণ চার্জে এটি প্রায় ১১০ মাইল ( ১৮০ কিলোমিটার) যেতে পারে।

Hyundai Ioniq Electric

৭. Renault Zoe

ফ্রেঞ্চ ম্যানুফ্যাকচারার রেনাল্টের ফাইভ-ডোর সুপার মিনি ইলেক্ট্রিক গাড়ি হচ্ছে দ্য রেনাল্ট জোয়ী। প্রথম দিকের মডেলগুলোয় রেনাল্ট ২২ কিলোওয়াট-ঘণ্টার লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি প্যাক ব্যবহার করত। যা কিনা ২১০ কি.মি. থেকে ২৪০ কি.মি. পর্যন্ত রাস্তা পাড়ি দিতে পারত আনায়েসে। ২০১৬ এর সেপ্টেম্বরে রেনাল্ট এই মডেলের আরো অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন গাড়ি বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয়। নতুন মডেলে থাকছে, ৪১ কিলোওয়াট-ঘণ্টার  লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি যা কিনা একবার চার্জে ৪০০ কি.মি. পর্যন্ত পাড়ি দিতে সক্ষম। ২০১৯ সালে ZE50 R135 মডেলটির ঘোষণা আসে। এটির ব্যাটারি প্যাক ৫৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টা।, মোটর ১৩৫ অশ্ব-ক্ষমতার, আর CSS চার্জিং প্রযুক্তির। এই মডেলটি জানুয়ারি ২০২০ এ বাজারে আসবে।

Renault Zoe

৬. BMW i3

BMW i3 হচ্ছে একটি ব–ক্লাস, উঁচু ছাদযুক্ত হ্যাচব্যাক ইলেক্ট্রিক গাড়ি। এটি BMW এর সাব ব্র্যান্ড BMW i এর একটি পন্য। এতে  রিয়ার হুইল ড্রাইভে সিংগেল স্পিড ট্রান্সমিশন ব্যাবহার করে ইলেক্ট্রিক পাওয়ারঅট্রেইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে রয়েছে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি প্যাক আর সীমিত দুরত্বে ব্যাবহারের জন্য গ্যাসলিন ইঞ্জিন। i3 হচ্ছে BMW এর প্রথম “zero emissons” গাড়ি।

BMW i3

৫. Audi e-tron

অডির তৈরী প্রথম খাঁটি ইলেক্ট্রিক SUV গাড়ি হলো অডি ই-ট্রন। গাড়িটিতে ৯৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টার লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্যাক ব্যবহার করা হয়েছে। চার্জিং ক্যাপাসিটি হচ্ছে ১৫০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা। মাত্র ৩০ মিনিটেই ৮০% চার্জ হতে পারে গাড়িটি। এছাড়াও গাড়িটিতে রয়েছে লিকুইড কুলিং সিস্টেম।

Audi e-tron

৪. Hyundai Kona Electric

হুন্দাইয়ের আরেকটি জনপ্রিয় ইলেক্ট্রিক গাড়ি হচ্ছে হুন্দাই কোনা। এটি একটি ফাইভ-ডোর সাব কম্প্যাক্ট ক্রসওভার SUV। এটি প্রথম প্রকাশ পায় জুন,২০১৭ তে। কোনার রয়েছে দুটি ভ্যারিয়েন্ট। একটি হচ্ছে ১লিটারের টার্বোচার্জড ডিরেক্ট ইঞ্জেক্ট পেট্রোল ইঞ্জিন, যেটি প্রায় ১২০ অশ্বক্ষমতা সম্পন্ন। আর অপরটি হচ্ছে  ১.৬ লিটারের টার্বোচার্জড ডিরেক্ট পেট্রল ইঞ্জিন, যেটি ১৭৭ অশ্বক্ষমতা সম্পন্ন।

Hyundai Kona Electric

৩. Tesla Model S

টেসলা মডেল এস হচ্ছে অল-ইলেক্ট্রিক ফাইভ-ডোর লিফটব্যাক ইলেক্ট্রিক গাড়ি। গাড়িটি প্রথম বাজারে আসে জুনের ২০১২ তে। ২০১৯ এ এসে এই মডেলের লং রেঞ্জ EPA রেটিং পেয়েছে ৩৭০ মাইল (৬০০ কি.মি.) । যা ইলেক্ট্রিক গাড়ির দুনিয়ায় সর্বোচ্চ।

Tesla Model S

২. Jaguar I-Pace

জাগুয়ার আই-পেস একটি ব্যাটারি-ইলেক্ট্রিক ক্রসওভার SUV। যেটি বাজারে এনেছে জাগুয়ার ল্যাণ্ড রোভার তাদের জাগুয়ার মারকিউ সাব ব্র্যান্ডের মাধ্যমে। আই-পেস নিয়ে ঘোষণা আসে ২০১৮ এর মার্চ মাসে আর বাজারজাত শুরু হয় বছরে দ্বিতীয়ার্ধে। গাড়িটি প্রিমিয়াম ইউরোপিয়ান কোনো ব্র্যান্ডের প্রথম SUV ইলেক্ট্রিক গাড়ি। গাড়িটি ২০১৯ এর এপ্রিলে  সেরা ডিজাইন, সেরা পরিবেশবান্ধব গাড়ি সহ তিনটি ক্যাটাগরিতে “World Car of the Year” পুরষ্কার জিতে নেয়। EPA রেটিং অনুযায়ী গাড়িটি একবার চার্জে ২৭৪ মাইল ( ৩৭৭ কি.মি.) পথ অতিক্রম করতে পারে।

Jaguar I-Pace

১. Tesla Model 3

ইলেক্ট্রিক গাড়ির দুনিয়ার অবশ্যম্ভাবী ভাবেই টপার হচ্ছে টেসলা ব্র্যান্ডের গাড়িগুলো। তাই এবছরের সেরা গাড়ির তালিকায় নিশ্চিতভাবেই এক নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে টেসলা মডেল ৩। গাড়িটির অল-ইলেকট্রিক ভার্সনের EPA রেঞ্জ হচ্ছে ২৪০ মাইল ( ৩৮৬ কি.মি)  আর লং রেঞ্জ ভার্শনের ৩১০ মাইল (৪৯৯ কি.মি) ।

Tesla Model 3

তথ্যসুত্র- টপ গিয়ার

আপনার মতামত লিখুন :

ট্যাগ
Back to top button
Close