বিবিধসেরা

বিশ্বসেরা ১০ টি যুদ্ধ জাহাজঃ পর্ব – ১

উল্লেখিত যুদ্ধজাহাজগুলো হয়তো দেশীয় প্রযুক্তি অথবা বাহির হতে আমদানি করা প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্মিত

মানব সভ্যতার উন্নয়নের সাথে সাথে নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভব ঘটছে । যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোন দেশ উন্নত করছে তাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে, কেউবা উন্নত করছে তার সমাজব্যবস্থা , কেউবা তাদের নাগরিকদের জীবন ব্যবস্থাকে উন্নত করছে, কেউবা এসব প্রযুক্তিকে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য ব্যবহার করছে।

একটি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বলতে সাধারণত তাদের সেনাবাহিনী, নৌবাবাহিনী, বিমানবাহিনী সহ অভ্যন্তরীন বিভিন্ন বাহিনী ও প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহৃত প্রযুক্তিকে বোঝায় । বর্তমান বিশ্ব রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে আজকের বন্ধু রাষ্ট্র পরবর্তীতে শত্রু রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে । তাই উন্নত রাষ্ট্রগুলো তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য প্রযুক্তি ভিত্তিক ব্যবস্থার পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করছে ।

আজকের লেখার মূল বিষয় সেসব প্রযুক্তি ভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অন্যতম হাতিয়ার যুদ্ধ জাহাজ নিয়ে ।

আর্টিকেলে উল্লেখিত যুদ্ধজাহাজগুলো হয়তো দেশীয় প্রযুক্তি অথবা বাহির হতে আমদানি করা প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্মিত। এগুলোর সেরা দশের তালিকায় থাকার ব্যাপারে সর্বমোট কার্যক্ষমতা, বহু কার্য সম্পাদনের ক্ষমতা, যুদ্ধ বিমান অবতরণের সুবিধার ভিত্তিতে করা হয়েছে। তবে জেনে নেয়া যাক বিশ্বের সেরা দশটি যুদ্ধজাহাজ সম্পর্কে।

১) কিং সেজং দ্যা গ্রেট ক্লাস

  • দৈর্ঘ্যঃ ১৬৫ মিটার
  • প্রবেশকালঃ ২০০৮
  • দেশঃ দক্ষিণ কোরিয়া
  • নাবিক সংখ্যাঃ ৩০০  জন
  • গতিঃ ৩০+ নট
  • ইঞ্জিন প্রযুক্তিঃ COGAG (Combined Gas turbine And Gas turbine)
  • ভার বহনের ক্ষমতাঃ ৭৭০০-১১০০০  টন
  • হেলিকপ্টারঃ দুইটি হেলিকপ্টার অবতরণ সম্ভব
  • কামানঃ ১x১২৭ মি.মি. Mk45 গান, ১x৩০ মি.মি. গোলকিপার সি.আই.ডব্লিউ.এস অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন গান
  • মিসাইল ঃ ২১ টি ১xRAM (রোলিং এয়ারফ্রেম মিসাইল), ১৫০ কিঃমিঃ সীমার 80 cell Mk41 পদ্ধতি,16 x SSM 700K এন্টি-শিপ মিসাইল, 32 Hyunmoo III ভূমি আক্রমণে সক্ষম ক্রুজ মিসাইল-সহ 48 cell K-VLS cells এবং ১৬টি রেডশার্ক এন্টি সাবমেরিন ধ্বংসে সক্ষম মিসাইল সম্পন্ন ।

৯২৩ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত জাহাজটি বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ যুদ্ধজাহাজ । হুন্দাই হেভি ইন্ডাস্ট্রি এবং ডাওয়ে শিপবিল্ডিং ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি মাত্র দুই বছরের মতো সংক্ষিপ্ত সময়ে এই যুদ্ধজাহাজ টি তৈরি করেছিলো।তাদের থাকা বৃহৎ জাহাজ নির্মাণের কারখানার জন্যই এত দ্রুত সময়ে এটি তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। বলা যায় যে,এটি আমেরিকা এবং ইউরোপকেও ছাড়িয়ে গেছে ।

একটি মাত্র বাক্যই যথেষ্ট জাহাজটির কার্যক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা দিতে আর তা হলো, এই শ্রেণীর একটি যুদ্ধ জাহাজ পুরো উত্তর কোরিয়ার ভূগর্ভের উপরিস্থ এবং নিচস্থ নৌবহর সম্পূর্ণরূপে চোখের নিমিষেই ধ্বংস করতে সক্ষম।

এছাড়াও এতে রয়েছেঃ

  • সেন্সর ঃ SPY-1D যা প্যাসিভ ইলেক্ট্রনিক্যালি স্ক্যানিং এর‍্যে (PESA) রাডার যার চারটি কপাট রয়েছে ।প্রায় ৩৫০ কিঃমিঃ অবধি এই রাডার দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র সন্ধানে সক্ষম ।
  • স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিঃ এর সবধরনের প্রযুক্তি যা নিজেই কো সাহায্য ছাড়াই লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা এবং নিশানা তাক করতে পারে।

MK-41 উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা যা বহুদিক হতে আসা আক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম।

২) আর্লেহ বোর্কে ক্লাস 

  • দৈর্ঘ্যঃ ১৪২.১ মিটার
  • প্রবেশকালঃ ১৯৯১
  • দেশঃ ইউ.এস.এ
  • নাবিক সংখ্যাঃ ৩০৩ – ৩২৭ জন
  • গতিঃ ৩২ নট
  • ভার বহনের ক্ষমতাঃ ৮৩০০-৯২০০ টন
  • হেলিকপ্টারঃ দুইটি হেলিকপ্টার অবতরণ সম্ভব
  • কামানঃ ১ x ১২৭ মি.মি. এম.কে ৪৫ মেইন গান
  • মিসাইল ঃ ৮x হারপোন এন্টি শিপ মিসাইল ও ৯৬ x সেল এমকে ৪১ VLS (vertical launch system; উল্লম্ব নিক্ষেপ ব্যবস্থা) যার মধ্যে বেশ ধ্বংসাত্মক মিসাইলও যুক্ত রয়েছে

আর্লেহ বোর্কে ক্লাস যা ১.৮৪৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত  ১৯৮০০ kW শক্তি উৎপন্ন করা ৪ x এল এম ২৫০০ গ্যাস টার্বাইনযুক্ত মিসাইল ধ্বংসাত্মক জাহাজ । এটি নির্মাণ করা হয়েছিল মূলত ক্যুন্টজ ক্লাস ও লেহি-ব্যল্কন্যাপ মিসাইল ক্র্যুইজার এর মিলিত প্রযুক্তি হিসাবে । এটির আদলেই পরবর্তীতে দক্ষিণ কোরিয়া কিং সেজং দ্যা গ্রেট ক্লাস নির্মাণ করেছে এবং রণসরঞ্জামও প্রায় একই ।

এছাড়াও এতে রয়েছেঃ

  •  2×25 mm বুশ মাস্টার কামান যা হঠাৎ আক্রমণ নিধনে বেশ কার্যকরী।
  • 2x ট্রিপল টার্পেডো টিউবস।

৩) টাইপ – ৫২ ডি / কানমিং ক্লাস 

  • দৈর্ঘ্যঃ ১৫৬ মিটার
  • প্রবেশকালঃ ২০১৪
  • দেশঃ চায়না
  • নাবিক সংখ্যাঃ ২৮০ জন
  • গতিঃ ৩০ নট
  • ইঞ্জিন প্রযুক্তিঃ CODOG (Combined Diesel Or Gas)
  • ভার বহনের ক্ষমতাঃ ৭৫০০ টন
  • হেলিকপ্টারঃ একটি হেলিকপ্টার অবতরণ সম্ভব
  • কামানঃ ১ x ১৩০ মি.মি. মেইন গান , ১ x ৩০ মি.মি.  সি.আই.ডব্লিউ.এস অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন গান
  • মিসাইল ঃ 64 cell ইউনিভার্সাল ভার্টিকাল লঞ্চ সিস্টেম ; ২৪ টি 1 x FL3000N শর্ট রেঞ্জ SAM লঞ্চার

টাইপ ৫২ ডি ক্লাসকে চীনা অভেদ্য ঢাল হিসাবে উল্লেখ করা হয়। পশ্চিমে এটি লুইয়াং তৃতীয় শ্রেণী  হিসাবে পরিচিত ।এটি পূর্ববর্তী প্রকার 052সি (লুয়াং ২) বর্গের একটি ফলো-অন। এটিকে মূলত ইউ.এস.এ এর আর্লেহ বোর্কে ক্লাস এর সমতুল্য বলে মনে করা হয় । 28 MW গতিসঞ্চার করা জাহাজটির ইঞ্জিন CODOG (Combined Diesel or Gas) প্রযুক্তি দ্বারা  নির্মিত।

এছাড়াও এতে রয়েছেঃ

  • 2 x ট্রিপল লাইটওয়েট টার্পেডো টিউবস।
  • সেন্সর ঃ অটোমেটেড সেন্সরড রাডার ।

৪) এটাগো ক্লাস 

  • দৈর্ঘ্যঃ ১৬৭  মিটার
  • প্রবেশকালঃ ২০১৪
  • দেশঃ জাপান
  • নাবিক সংখ্যাঃ ৩০০ জন
  • গতিঃ ৩০ নট
  • ইঞ্জিন প্রযুক্তিঃ COGAG (Combined Gas turbine And Gas turbine)
  • ভার বহনের ক্ষমতাঃ ৭৭০০-১০০০০ টন
  • হেলিকপ্টারঃ একটি হেলিকপ্টার অবতরণ সম্ভব
  • কামানঃ 1 x 127 মি.মি. মেইন গান , 2 x Phalanx 20 mm CIWS অত্যাধুনিক প্রযুক্তি
  • মিসাইলঃ 96 x Cell Mk41 VLS যার মধ্যে রয়েছে SM-2, ESSM, SM-3, ASROC (এন্টি সাবমেরিন মিসাইল) নামের মিসাইলসমূহ ।

১৪০ বিলিয়ন ইয়ান ব্যয়ে নির্মিত  জাপানিজ যুদ্ধজাহাজ টি আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ হতে আয়তনে বেশ বড়। ৭৫০০০ kW শক্তি উৎপন্ন করা 4 x LM2500 গ্যাস টার্বাইনযুক্ত এই জাহাজটি তাদের কংগোউ ক্লাস এর উন্নত ভার্সন ।

এছাড়াও এতে রয়েছেঃ

  • 2 x টাইপ 68 ট্রিপল টার্পেডো টিউবস
  • সেন্সর ঃ অটোমেটেড সেন্সরড রাডার

৫) কলকাতা ক্লাস

  • দৈর্ঘ্যঃ ১৬৩ মিটার
  • প্রবেশকালঃ ২০১৪
  • দেশঃ ভারত
  • নাবিক সংখ্যাঃ ৩৯০ জন
  • গতিঃ ৩০ নট
  • ইঞ্জিন প্রযুক্তিঃ COGAG (Combined Gas turbine And Gas turbine)
  • ভার বহনের ক্ষমতাঃ ৭৪০০ টন
  • হেলিকপ্টারঃ দুইটি হেলিকপ্টার অবতরণ সম্ভব
  • কামানঃ 1 x 76 mm Oto melara super rapid gun mount
  • মিসাইলঃ 4 x 8 cell VLS 2 x 8 cell ইউনিভার্সাল ভার্টিকেল লঞ্চিং সিস্টেম ; 2 x RBU – 6000 রকেট লঞ্চার

যদিও ভারতের কলকাতা ক্লাস পশ্চিমা বা চীনদের তৈরি যুদ্ধ জাহাজের মতো এতো উন্নত নয় কিন্তু শত্রুদের আক্রমণে এটিও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। 4 x Zorya Mashproekt DT-59 reversible গ্যাস টার্বাইনস সমৃদ্ধ জাহাজটি ১৯৮৬ সালের  ভারতের  প্রজেক্ট  ১৫এ এর  অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়াও এতে রয়েছে –

  •  অপট্রোনিক সেন্সর, LW08, MF-Star সেন্সর

তথ্যসূত্রঃ Military-today.com

আপনার মতামত লিখুন :

Back to top button
Close