প্রযুক্তি

ভুয়া ব্রাউজিং হিস্টোরি দ্বারা বিজ্ঞাপনদাতাদের বোকা বানাতে সাহায্য করবে ফায়ারফক্স

অনলাইন বিজ্ঞাপনদাতারা আপনার ব্রাউজিং হিস্টোরি থেকে তথ্য নিয়ে আপনার পছন্দ অনুযায়ী বিজ্ঞাপন দেখায়। এবার আপনি চাইলে খুব সহজেই সাইটগুলকে ভুয়া তথ্য দিয়ে বোকা বানাতে পারবেন। এর ফলে বিজ্ঞাপন দেখানোর সাইটগুলো ‘পারসোনালাইজড এড‘ দেখাতে গিয়ে ভুল করবে। এটি করার জন্য আপনাকে সাহায্য করবে ফায়ারফক্স এর নতুন উদ্যোগ ট্র্যাক দিস (https://trackthis.link/)।

ট্র্যাক দিস
Track This

সম্প্রতি মজিলা তাদের ব্লগ সাইটে ‘ট্র্যাক দিস‘ সম্পর্কে বিস্তারিত বলেছে। মুলত এটি Mschf Internet Studios ও ফায়ারফক্স এর একটি যৌথ উদ্যোগ, যার মূল উদ্দেশ্য হলো ফায়ারফক্স ব্রাউজার এর নতুন সংস্করণ ‘ফায়ারফক্স কোয়ান্টাম‘ এর প্রচারণা চালানো। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফায়ারফক্স ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সামনে প্রমাণ করতে চেয়েছে তাদের ব্যাক্তিগত তথ্য বিজ্ঞাপনদাতাদের কীভাবে ব্যবহার করে।

গুগল, ফেসবুক, টুইটার এর মতন প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন প্রচার করে সেটা প্রায় সবারই জানা। অনলাইনে আমরা কী করছি না করছি সেসব সম্পর্কে এই প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় সব জানে। ব্যবহারকারীদের এসকল ব্যাক্তিগত তথ্যের সিংহভাগ অংশ আসে ব্রাউজারের কুকিজ থেকে। গুগল এডসেন্স কিন্তু কুকিজের এই তথ্যগুলোকে ব্যাবহার করেই বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে।

কুকিজ কী?

ইন্টারনেট ব্রাউজারে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্রাউজ করা হলে ওয়েবসাইটগুলো কিছু ফাইল আপনার ব্রাউজারের ক্যাশ মেমরিতে জমা করে। ব্রাউজ করার সময় সার্ভার ও ক্লায়েন্ট এর মধ্যে ডাটা প্যাকেট চালাচালি হয়, এই ডাটা প্যাকেটগুলোই হলো কুকিজ। কুকিজে ছোট তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে। যেমন ধরুন, ফেসবুক কিংবা টুইটারে একবার লগিন করা হলে বার বার ইমেইল-পাসওয়ার্ড দিয়ে লগিন করার প্রয়োজন হয় না। আপনি যখন প্রথমবার লগিন করেন তখন কুকিজ তৈরি হয়ে যায় যেখানে লগিন সেশনের তথ্য সেইভ থাকে। পরবর্তীতে আপনি যখন আপনার ফেসবুক/টুইটার একাউন্ট এ প্রবেশ করেন তখন ব্রাউজারে জমা থাকা পূর্বের কুকিজটি সার্ভারে পাঠায়। কুকিজে লগিন সেশনের তথ্য থাকায় পুনরায় ইমেইল-পাসওয়ার্ড দেওয়া লাগে না।

কুকিজের আরো একটি ব্যাবহার হলোঃ ইকমার্স সাইটগুলো ঘাটাঘাটি করলে ব্যবহারকারী কি কি পন্য দেখছেন, কি কি পন্য উইশলিস্টে রাখছেন এই তথ্যগুলো কুকিজে সেইভ থাকে। ব্যবহারকারীর আচরনের এই তথ্যের উপর ভিত্তি করে সাইটগুলো সম্পর্কিত অন্যান্য পন্যগুলো দেখায়। এমনকি আপনি কার্টে বা উইশলিস্টে কোনো পন্য রেখে লগিন না করে সাইট থেকে বেরিয়ে গেলেও পরবর্তী সময়ে সেগুলো দেখতে পারবেন, যদি কুকিজ ডিলেট না হয়ে থাকে।

অর্থাৎ কুকিজের ব্যাবহার হয় মুলত ইউজার এক্সপেরিয়েন্স উন্নত করার জন্য।

কুকিজে থাকা এই তথ্যগুলোকে ব্যবহার করে অনেক থার্ড পার্টি সাইট, ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই। কুকিজে ছোট ছোট কিছু আচরণিক তথ্য থাকলেও সামগ্রিকভাবে সেটা একজন ব্যাক্তি সম্পর্কে অনেক কিছুই বলে দিতে পারবে। আপনি কোন সাইট বেশি ভিজিট করছেন, কোন পোস্টগুলো পড়ছেন সেই তথ্য সংগ্রহ করে থার্ড পার্টি সাইটগুলো বিজ্ঞাপনদাতাদের পাঠায়। আর বিজ্ঞাপনদাতারা সেই তথ্যের উপর ভিত্তি করে আপনার পছন্দ অনুযায়ী বিজ্ঞাপন দেখায়। কেউ আপনার অনুমতি ছাড়াই আপনি কী করছেন না করছেন জেনে যাচ্ছে, সেটা নিশ্চয়ই সুখকর নয়!

সাইটগুলো যে ব্যবহারকারীর ব্যাক্তিগত তথ্য ব্যাবহার করছে সেটা হাতে হাতে দেখানোর জন্যই ট্র্যাক দিস তৈরি করা হয়েছে। ট্র্যাক দিস একরকমের পাগলামি ছাড়া আর কিছুই না। কারণ এটা কাজ করে ব্রাউজারে ১০০ টি ট্যাব চালু করার মাধ্যমে। আর ১০০ টা ট্যাব কিন্তু বেশ বড় একটা সংখ্যা। কারণ ১০০ টা ট্যাব ওপেন হলে পিসি কিছুক্ষনের জন্য অনেকটা ধীরগতির হয়ে যাবে।

ট্র্যাক দিস সাইটে চার রকমের ব্যাক্তিত্ব নির্বাচন করার সুযোগ আছে। হাইপবিস্ট, ফিলদি রিচ, ডুমসডে প্রেপার এবং ইনফ্লুয়েন্সার। এই চার রকমের ব্যাক্তিত্ব থেকে আপনি যেটা নির্বাচন করবেন, সেই ব্যাক্তিত্বের সাথে সম্পর্কিত ১০০ টি সাইটের ট্যাব চালু হয়ে যাবে। তবে অবশ্যই সেটা সময়স্বাপেক্ষ। এই প্রোফাইল নির্বাচনের মাধ্যমে আপনি বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে আপনার ভুয়া আচরণিক তথ্য পাঠাবেন, এর ফলে তারা মনে করবে আপনি অন্য কেউ।

হাইপবিস্টঃ এটি নির্বাচন করলে হালের ফ্যাশন, সংস্কৃতি, গান সম্পর্কিত ১০০ টি সাইট ওপেন হবে। এর ফলে বিজ্ঞাপনদাতারা মনে করবে, আপনি এমন কেউ যে হাইপের জলে ভাসছে।
ফিলদি রিচঃ এটি নির্বাচন করার মাধ্যমে আপনি বিজ্ঞাপনদাতাদের বোঝাতে চাইবেন যে আপনি প্রচুর পয়সাওয়ালা কেউ।
ডুমসডে প্রেপারঃ বিজ্ঞানপনদাতারা মনে করবে আপনি আসন্ন কোনো দুর্যোগে টিকে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ইনফ্লুয়েন্সারঃ এটি নির্বাচন করলে Glossier, Trivago, Lululemon, Astrology Hub, Sugarbear Hair এর মত সাইট ওপেন হবে। বিজ্ঞাপনদাতারা মনে করবে আপনি রূপচর্চা, জ্যোতিষবিদ্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

যেটাই নির্বাচন করুন না কেন, ফায়ারফক্স এর উদ্দেশ্য হলো আপনাকে দেখানো যে আপনার ব্যাক্তিগত তথ্য হাতানো হচ্ছে, তাই আপনার নিরাপত্তা দরকার। আর এই নিরাপত্তা পাবেন ফায়ারফক্স এনহান্সড ট্র্যাকিং প্রটেকশন এর মাধ্যমে, যা ফায়ারফক্স ব্রাউজারে আছে। ব্লগ পোস্ট এর শেষে মজিলা এমন করেই প্রচারণা করেছে। তার মানে ট্রাক দিস প্রচারণার অংশ ছাড়া আর কিছুই না।

ফায়ারফক্স এনহান্সড ট্র্যাকিং প্রোটেকশন

প্রচারণার অংশ হলেও নিজ থেকে পরিক্ষা চালানোর জন্য এটা আসলেই উপযোগী। তবে এটা কোনোভাবেই ট্র্যাকিং থেকে মুক্তি পাওয়ার স্থায়ী সমাধান নয়। ভিপিএন থাকতে এত ঝামেলা করার কোনো মানেই হয় না। ট্র্যাক দিস একবার ব্যাবহার করে কিছুদিন আপনি বিজ্ঞাপনদাতাদের বোকা বানাতে পারবেন, এড কিন্তু ঠিকই দেখতে পাবেন। তাই মজিলা বলেছে, এটি তাদের জন্য নয় যারা এড ব্লকার ব্যাবহার করে

ট্রাক দিস মোবাইলের জন্য অপ্টিমাইজড না। ক্রোম, সাফারি, এজ, ফায়ারফক্স এর ডেস্কটপ ভার্শনে এটি ব্যবহার করা যাবে।

আপনার মতামত লিখুন :

উৎস
মজিলা ব্লগ
ট্যাগ
Back to top button
Close