টিপসদৈনন্দিন বিজ্ঞান

কলমের খাপগুলোতে কেন ছিদ্র থাকে?

কলমের খাপে থাকা ছিদ্র যখন জীবন মরণের কারণ!

কলমের খাপে কেন ছিদ্র থাকে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিলাম অনেকদিন ধরেই। আগ্রহ থেকে ঘেঁটে দেখলাম সব কলমের খাপেই একটু হলেও ছিদ্র আছে। ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তা করার সময় এই ফুটোর পেছনে বেশ কিছু কারণ মাথায় আসল। তার মধ্যে একটা হলো বাতাসের চাপ। কলমের মাথায় খাপ লাগানোর সময় যেন কোনো প্রকার বেগ পেতে না হয় তাই খাপের মাথায় ফুটো রাখা। ফুটোটা না থাকলে কলমের মাথায় খাপ লাগাতে গেলে খাপের মধ্যে থাকা বাতাসের চাপের কারণে খাপটা ঠিকমত লাগাতে সমস্যা হত। এমনকি খাপ থেকে কলম খোলার সময়ে ভ্যাকুয়ামের কারণেও সমস্যায় পরতে  হত।

আরেকটা কারণ হচ্ছে কালি শুকিয়ে যাওয়া। ফুটো দিয়ে বাতাস আসা যাওয়া করলে কলমের কালি জমে শুকিয়ে যায়। কালি শুকিয়ে গেলে কলম দিয়ে প্রথমে লিখতে একটু সমস্যা হয়। অনেকেই মনে করেন কলমের কোম্পানিগুলো ইচ্ছা করে কোনো কারণ ছাড়াই এই ফুটো রাখে যেন কালি শুকিয়ে গিয়ে কলম কম দিন যায়। এবং মানুষ যেন নতুন কলম কিনতে বাধ্য হয়।

ভেবেছিলাম খাপের মাথায় ফুটো রাখার কারণ হয়তো এ দুটোই। কিন্তু আরো যখন ঘাঁটলাম তখন মূল কারণ সম্পর্কে জানতে পারলাম। আর এর সঙ্গে জড়িত আছে আমাদের জীবন মরণের প্রশ্ন। শুনে হয়তো অবাক হচ্ছেন যে কলমের খাপে থাকা ছিদ্রের সাথে জীবন মরণের কথা কোথা থেকে আসে!? ব্যাপারটা তাহলে খুলেই বলি।

আমর অনেকেই আছি কলমের খাপ কামড়াতে পছন্দ করি। কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা করলে বা টেনশনে থাকলেই মনের অজান্তে কলমের খাপ কামড়াতে থাকি। আর এভাবে কামরাতে গিয়ে অনেক সময় দুর্ঘটনাবশত কলমের খাপ আমরা খেয়ে ফেলি। কিন্তু কলমের খাপ সহজেই খাদ্যনালী দিয়ে পেটে যায় না। আবার অনেক সময় এই খাপ আমাদের শ্বাসনালীতে আটকে যায়। এখন যদি কলমের খাপে কোনো ছিদ্র না থাকে তাহলে যে কলমের খাপ খেয়ে ফেলবে সে অল্প সময়ের মধ্যেই অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পরবে। তাই ভুল করে কেউ কলমের খাপ খেয়ে ফেললেও যেন সেটা বের করার আগ পর্যন্ত নিঃশ্বাস নেয়া যায় এই কথা মাথাতে রেখেই মূলত কলমের খাপের মাথায় ছিদ্র রাখা হয়।

২০১৬ সালে করা এক পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে যে আমেরিকায় প্রতিবছর প্রায় ১০০ জন মানুষ কলমের খাপ খেয়ে মারা যায়!

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, কলমের খাপে থাকা এই ছিদ্র যেন তেন কোনো কারণে নয়। এই ছিদ্রের সঙ্গে  জড়িয়ে আছে আমাদের জীবন মরণের প্রশ্ন! তো কলম কামড়ানোর সময় এখন থেকে একটু সাবধানে থাকবেন। কখন কি হয়ে যায় কিছুই বলা যায় না।

আপনার মতামত লিখুন :

ট্যাগ

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close