বিবিধবৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বাজে আর ভাল দশ সায়েন্স ফিকশন মুভি

Sci Fi বা সায়েন্স ফিকশন মুভি আমরা কমবেশি অনেকেই দেখি। বিশেষ করে যারা হলিউডের ছায়াছবি দেখে বা দেখে অভ্যস্ত, তাদের তালিকায় সাইফাই মুভি থাকবেই।
কিন্তু কথা হল এইযে সাইফাই মুভিগুলো যে আমরা দেখি তা কতখানি বৈজ্ঞানিকভাবে ঠিকঠাক?
এখন আপনি হয়তো ভাববেন, “আরে ভাই, বলেই তো দিলো সায়েন্স ফিকশন৷ ফিকশনে আবার বিজ্ঞান খুঁজতে যান কেনো?”
জ্বি হ্যা ভাই ফিকশন বা কল্পকাহিনী বটে। কিন্তু ফিকশন হলেই যে তাতে বিজ্ঞানের কিছু থাকবেনা তাতো আর না, আর না থাকলে সেটা তো “সায়েন্স” ফিকশন হলনা! যেমনটা আমরা পার্শ্ববর্তী দেশের ছবিগুলোতে দেখতে পাই আকাশ কুসুম কাহিনী সাইফাই এর নামে!

সায়েন্স ফিকশন আর সায়েন্সের মাঝে তফাৎ থাকলেও একটা ভাল মানের, বা পিওর সায়েন্স ফিকশন মুভিতে যতই আধুনিক জিনিষ দেখাক না কেনো, বা বৈজ্ঞানিক যেকোনো দুর্যোগ বা ঘটনা দেখাক না কেনো, তাতে সম্পৃক্ত বিজ্ঞানের একেবারে বেসিক বিষয়গুলো এবং অন্তত হাইপোথিসিসগুলো ঠিক রাখতে হয়।
এখন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে নামে রোবটকে যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন শক্তিশালী হওয়া দেখায়, তা এর মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক না।
কিন্তু রোবট যদি কোনধরনের ব্যাখ্যা ছাড়াই বাচ্চা জন্ম দিয়ে বসে তাহলে সেটা অবশ্যই অযৌক্তিক ও হাস্যকর।

ঠিক তেমনি কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে সমালোচকদের তালিকায় উঠে এসেছে এপর্যন্ত সময়ের ভালমানের আর বাজে মানের কিছু সায়েন্স ফিকশন চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক সেগুলোর ব্যাপারে।

বাজে সায়েন্স ফিকশন:

ভালগুলো নাহয় পড়েই দেখি। চলুন আগে বাজেগুলো দেখে নেয়া যাক!

১. The Black Hole (১৯৭৯)

বাপ দাদার আমলের এই ছবিতে হাস্যকররকমের দৃশ্য হচ্ছে নায়কের এ্যাস্কেপ পড যখন ব্ল্যাক হোলের ভিতর দিয়ে যায়, তখন তা ব্ল্যাকহোলের Speghettifigation প্রক্রিয়ায় পড়ে প্রতিটা পরমাণু বিচ্ছিন্ন হবার বদলে তারা আরামসেই প্রক্রিয়াটির মধ্যে দিয়ে চলে যায়! কেবলমাত্র কিছু দৃষ্টির বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই তেমন ঘটেনা!
অপরদিকে পুরো ছবি জুড়ে মহাকাশে বিস্ফোরণের ধুমধাড়াক্কা শব্দ ভরা ছিল। অথচ মহাকাশে কোনো শব্দ চলাচল করেনা!

২. Armageddon (১৯৯৮)


বহু ভুলে ভরা আরেক সাইফাই! অনেকেই হয়তো দেখেছেন ছবিটা। অনেকেই এর নাম শুনেছেন।
আর্মাগেডন এ যে ধুমকেতুর উপর অনায়াসে রোভার ল্যান্ড করে চলাফেরা আর যেমন মাধ্যাকর্ষণ দেখালো, তা সেই সাইজের কেনো, তার থেকে কয়েকগুণ বড় সাইজের গ্রহাণুর ক্ষেত্রেও সম্ভব না।
যেখানে চাঁদেই কোনোকিছুর ওজন পৃথিবীর ছয় ভাগের একভাগ সেখানে একটা গ্রহাণুর এত মাধ্যাকর্ষণ কোত্থেকে হয় যে তাতে এভাবে মানুষ চলাফেরা করতে পারবে!
হাস্যকর। আরো হাস্যকর ব্যাপার হল এটাকে পারমাণবিক বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেয়া। সবচে হাস্যকর ব্যাপার তো এটাতে ল্যান্ড করাই!
আর রোভারের মাঝে মেশিনগান ফিট করার যুক্তিটা এদিকে কি তা নির্মাতাই ভাল জানেন!

৩. The Matrix (১৯৯৯)


ছবিটিতে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির জগতে অতি আধুনিক এবং ফিউচারিস্টিক সব যন্ত্রপাতি দেখালেও হাস্যকর ব্যাপার হচ্ছে এতে ব্যবহৃত আসল জগতের কম্পিউটার, স্ক্রিন প্রযুক্তি, মোবাইল ফোন এর মত বিষয় মুভির সমসাময়িক প্রযুক্তির এবং অন্যান্য প্রযুক্তির সাথে হাস্যকর রকমের অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
তার উপর আরো একটি বিষয় হচ্ছে এতে দেখানো হল যন্ত্রগুলো মানুষের দেহের তাপকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে বিপুল হারে। কিন্তু তা করতে গিয়ে যন্ত্রগুলোর ক্যালরি বার্নিংয়ের প্রক্রিয়ায় উলটো শক্তি খরচই হবে বেশি!

৪. Vanilla Sky (২০০১)


ছবিটিতে দেখানো হয় যে নায়ক একটি Cryonic Slumber (মৃতদেহ বা জীবদেহ পরম শীতল তাপমাত্রায় জমিয়ে সংরক্ষণ করে রাখার প্রযুক্তি) ১৫০ বছর কাটিয়ে দেয়। যখন এমন অবস্থাতেও তার নিউরণগুলো তাকে ভার্চুয়াল জগতে বিচরণে সাহায্য করে। কিন্তু ছবিতে নায়ক যে সময়ে ক্রায়োনিক স্লাম্বার এ ঢোকে, তখনকার প্রযুক্তি অনুযায়ী এটা মৃতদেহ রাখার কাজে ব্যবহার করা হয়। তাও মাথা কেটে তরল নাইট্রোজেন এ ডুবিয়ে! তার উপর ছবিটিতে Lucid Dream এর ব্যাপারটা একেবারেই অগোছালোভাবে এবং রঙ চড়িয়ে দেখানো হয়েছে।

৫. The Day After Tomorrow (২০০৪)


মুভির শুরুতেই দেখবেন শীত এতই বেশি যে একপর্যায়ে হেলিকপ্টারের ঘূর্ণনশীল ব্লেডও জমে যায়। অথচ এটা ঘূর্ণন অবস্থায় থাকা হেতু তাতে তাপ উৎপন্ন হবার কথা! আর এভাবে ধাতু ঠান্ডা জমে ভেঙে যাওয়াটা খুবই হাস্যকর ব্যাপার, অথচ ভেতরে থাকা লোকজন তখনও অক্ষতই থাকে।
অপরদিকে পুরো মুভিই ফেরেলের সূত্র, ভুগোলশাস্ত্র আর ফিজিক্স এর চৌদ্দটা বাজিয়ে একদিনেই ধুমধাম করে পৃথিবীর বুকে Ice Age আনিয়ে দেয়! সাথে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণকে বুড়ো আঙুল দেখানো বিশাল বিশাল ঢেউ যা পুরো মুভিতে ফিজিক্সকে কোনো পাত্তাই দেয়নি যেন!
ওরেব্বাপ!

৬. I am legend


সত্যি বলতে ছবির পটভূমি আমার খুব পছন্দের। এবং সাথে উইল স্মিথের অভিনয় তো আছেই।
কিন্তু খারাপ লাগলেও সত্যি যে ছবিতে ভাইরোলজিস্টের (উইল স্মিথ) কেবল নিজের রক্ত ব্যবহার করে কিউর এ্যান্টিভাইরাস শনাক্ত করার ব্যাপারটা গোড়াতেই অবৈজ্ঞানিক! কিউর/এন্টিবডি বানাতে হলে আগে তার নিজের দেহে সেটাকে প্রবেশ করিয়ে নিজেকেই সংক্রামিত (Infected) করতে হবে! অথচ ছবিতে আমরা অন্যকিছুই দেখেছি। আর জম্বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একেকটার সুপারম্যান হয়ে যাবার কথাতো বাদই দিলাম!

৭. Indian Jones, Kingdom of crystal scull (২০০৮)


জোনসের কাহিনী আমাদের অনেকের পড়া আর অনেকেরই মুভি দেখা। আমাদের অনেকের কাছেই চরিত্রটি পছন্দের।
কিন্তু কাহিনী হল ছবির এই পর্বটিতে জোনস পারমাণবিক বিস্ফোরণের প্রকোপ থেকে বাঁচতে একটা সীসাযুক্ত রেফ্রিজারেটরে গিয়ে লুকায়। কিন্তু ফিজিক্স বলে এমন ঘটনার কবলে পড়লে সীসা গলে বাষ্প হয়ে উড়ে যাবে!দুঃখিত ইন্ডিয়ানা সাহেব, এ যাত্রায় আপনার বাচার কথা না!

৮. 2012 (২০০৯)


বিজ্ঞান আর ফিজিক্সের বেসিক নিয়মকে অস্বীকার করা আরো এক উদ্ভট সাইফাই হল এই 2012। ছবিটিতে দেখানো হয় সূর্য থেকে আগত মিউটেশনে বদলে যাওয়া বিশেষ ধরণের নিউট্রিনো (নিউট্রিনোর মিউটেশনও হয়! RIP পদার্থবিদ্যা) পৃথিবীর একেবারে গুরুমন্ডল বা ভেতরের দিকে গিয়ে আঘাত করে, আর তাতে সবকিছু উত্থাল পাতাল হয়ে উপরপৃষ্ঠে ভূমিকম্প শুরু হয়। বরফের টুকরো ভেঙে তলিয়ে যায়, এমন অদ্ভুত পদার্থবিদ্যার ঝলকও এই ছবিতে পাবেন।
এই ছবির শুরুই হল গোড়ায় গলদ বৈজ্ঞানিক যুক্তির নামে হাস্যকর কিছু ব্যাপার দিয়ে। তারচাইতে হাস্যকর ব্যাপার হল যে নিউট্রিনো পৃথিবীর কেন্দ্রে গিয়ে এমন তান্ডব রটিয়ে দেয় সেই মিউট্যান্ট নিউট্রিনোরা মানুষ, গাছপালা আর অন্যান্য প্রাণীদের ভেদ করে গেল আর তাদের কিছুই হল না?!
কেউ আবার বলবেন না যে নিউট্রিনো ভেদ করে গেলে কিছু হয়না, কারণ এই ছবির নিউট্রিনো মিউটেশন হওয়া নিউট্রিনো!!!

৯. Angels & Demons (২০০৯)


ব্যক্তিগতভাবে ড্যান ব্রাউনের উপন্যাস আমার কাছে ভাল লাগে খুব সাসপেন্স এর জন্যে। কিন্তু তাতে “একেবারে সত্যি” তথ্যের নামে যখন একেবারে কাল্পনিক কিছু জুড়ে দেয়া হয়, আর তা মুভিতেও ঠাই পায়, তখন ব্যাপারটা যারপরনাই বাজে হয়ে দাঁড়ায়।
ঠিক এই ব্যাপারটাই ঘটেছে একই শিরোনামের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি মুভি “এ্যাঞ্জেলস এ্যান্ড ডিমনস” এ।
ছবিটিতে দেখানো হয়, একজন গুপ্তঘাতক অনায়াসেই বিশ্বের সবচে বড় পার্টিকেল রিসার্চ ফ্যাসিলিটি CERN এ ঢুকে হত্যা করে এ্যান্টিমিটার রাখা ক্যানিস্টার নিয়ে পালিয়ে যায়।
প্রথমত সেখানে যে পরিমাণ এ্যান্টিম্যাটার দেখানো হয়েছে, তা তৈরি করতে যে সার্নের বহু বহু বছর আর বহু বহু বিদ্যুৎশক্তি লেগে যাবে!
তার উপর পদার্থজগতে প্রতিপদার্থের মত চরমমাত্রার অস্থিতিশীল কিছুকে এমন একটা ক্যানিস্টারে করে অনায়াসে বয়ে নিয়ে যাওয়াটাও ছিল একেবারেই বাস্তবতাবিবর্জিত এক ব্যাপার।
ড্যান ব্রাউন প্রিয় লেখক হলেও দুঃখের সাথে বলতে হয় উনার এব্যাপারে আরো অধ্যয়ন করা উচিত ছিল লেখার আগে! সাথে পরিচালকেরো দরকার ছিল ব্যাপারটা মাথায় রাখা!

১০. Gravity (২০১৩)


যদি কোনো সাইফাই মুভিকে বিজ্ঞানীরা সবচে জঘন্য বলে আখ্যায়িত করে থাকেন এপর্যন্ত, সেটা হল ২০১৩ সালের হলিউড সায়েন্স ফিকশন গ্র‍্যাভিটি!
ছবিটিতে ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস এর কাজ প্রচুর, আদ্যোপান্ত। কিন্তু সাইফাইতে তো আর কেবল VFX থাকলেই হয়না, নুন্যতম যৌক্তিকতাও থাকতে হয়!
নাসার বিজ্ঞানীরা Gravityকে বৈজ্ঞানিক ভুলে ভরা ছবি হিসেবে আখ্যায়ির করেছেন।

ছবিটিতে ক্লুনির চরিত্রকে একজন নভোচারীর চরিত্র হিসেবে একেবারেই বেমানান আর অপেশাদারি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
হাস্যকর বিষয় হল, ছবিতে নভোচারীরা একজন আরেকজনের ব্যাপারে তেমন কিছু জানেনা। অথচ তা হবার কথা নয়!
ছবিটিতে কমিউনিকেশন স্যাটেলাইটের অবস্থানও আর শাটডাউনের হিসেবও ভুলভাল।
এছাড়া ছবিটিতে নায়িকা সান্দ্রা বুলক’কে যেভাবে অনায়াসে মহাকাশে ঘুরে বেড়াতে দেখালো তা বাস্তবতাবিবর্জিত।
ছবিটিতে অতি VFX এর প্রভাবে চোখের জল চেহারা আটকে থাকার বদলে সেটাকেও শূন্যে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে। দেখানো হয়েছে অবলীলায় Spacewalk করতে।
এমনকি ছবিটিতে ISS ও Hubble Telescope এর অবস্থানও একই উচ্চতা আর অর্বিটাল স্লটে এনে পুরোই জগাখিচুড়ি পাকিয়ে দেয়া হয়েছে।
এছাড়া নভোচারীদের অবাস্তব আচরণ চিত্রায়ন, মহাশূন্যে ধেয়ে আসা বস্তুর সাথে ধাক্কা আর নিজের গতির অসামঞ্জস্যপূর্ণ চিত্রায়নসহ আদ্যোপান্ত প্রচুর বৈজ্ঞানিক ভুলে ভরা একটি ছবি এই গ্র‍্যাভিটি।

ভাল সাইফাইঃ

এতক্ষণ তো বাজে সাইফাই মুভিগুলোর কথা বললাম। এবার চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক Accurate আর ভাল কিছু সাইফাই মুভির ব্যাপারে।

১. 2001: A Space Odyssey (১৯৬৯)


ছবিটা বাপ দাদার আমলের হলেও এটি সাইফাই মুভির জগতে অন্যতম ভালমানের এবং বেশ নিষ্কন্টক সাইফাই মুভি। ছবিটিতে মহাকাশযাত্র, এতে ব্যবহৃত যন্ত্র, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট সবমিলিয়ে আধুনিক প্রেক্ষাপটে বানানো হলেও মুভিটি বৈজ্ঞানিকভাবে যৌক্তিক।

২. The Andromeda Strain (১৯৭১)


কেউ কি চলতি বছরে বের হওয়া স্পেস সাইফাই Life মুভিটা দেখেছেন? এর কাহিনী অনেকটা সেরকম।
স্পেস সায়েন্স আর এলিয়েন লাইফ নিয়ে হলেও মুভিটিতে তেমন অতিরিক্ত রংচং মেখে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ইত্যাদির বারোটা বাজানো হয়নি।

৩. Alien (১৯৭৯)


বহু সাইফাই দেখেছেন আর এলিয়েন মুভি দেখেননি এমন মানুষ কম।
মুভিটিতে আলোর গতির চাইতে দ্রুততার সাথে কোনোভাবে ভ্রমণ করার ব্যাপারটা বিস্তারির ব্যাখ্যায় না গিয়ে কেবল সারমর্ম দিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বিজ্ঞানের সাথে আদতে সাংঘর্ষিক নয়। এছাড়া ছবিটিতে স্পেস জকির ধারণা, গতানুগতিক মানুষের মতই দেখতে সব এলিয়েন না দিয়ে একেবারে ভিন্নভাবে তাদের উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও ছবিটিতে একটা মহাকাশযানে জীবন যেমনটা হওয়ার কথা, ভাল মন্দ সবকিছু মিলিয়ে অতিরঞ্জিত না করে সেভাবেই উপস্থাপন করা হয়েছে। সাথে কলোনাইজেশনের ব্যাপারটাও খুবই যৌক্তিক ছিল।

৪. Blade Runner (1982)


ছবিটা সাড়ে তিন দশক আগের হলেও Neo Noir স্টাইলে বানানো স্টিমপাংক জাতীয় একটা সাইফাই মুভি। ছবিটিতে জলবায়ুর ভয়াবহ পরিবর্তনের ব্যাপারটা বেশ যুক্তিসঙ্গতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সাথে ছবিটিতে উড়ন্ত যান আর অত্যাধুনিক অনেক কিছুর ঝলক দেখালেও তা বিজ্ঞান বা বিজ্ঞানের বাস্তব সম্ভাবনা আর বেসিক নিয়মবিবর্জিত কিছু ছিল না। সাইফাই পছন্দ করেন কিন্তু এই ছবিটি দেখেন নি, এমন কেউ থাকলে আমি অবশ্যই বলবো ছবিটি দেখে ফেলুন চটপট!

৫. Apollo 13 (১৯৯৫)


ঐতিহাসিক Apollo 13 চন্দ্র অভিযানে যাওয়া যাত্রীদের নিয়ে ডক্যুড্রামা জাতীয় এই মুভিটির বড় দিকই হচ্ছে বাস্তব একটি বৈজ্ঞানিক ঘটনাকে একেবারে বাস্তবিকভাবে উপস্থাপন করা। এপোলো 13 মিশনে যাওয়া যাত্রীরা কি কি ধরণের প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে, গোটা অভিযানে বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো কোথায় কিভাবে কাজ করেছে তা মোটেও অতিরঞ্জিত না করে বরঞ্চ খুব যত্নসহকারে সুন্দর ও সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মুভিটিতে।

৬. Gatacca (১৯৯৭)


আরেকটি বহুল আলোচিত Accurate সাইফাই মুভি হল এটি। জিন প্রযুক্তির উৎকর্ষতার আলোকে ছবিটি ভবিষ্যৎ সমাজের নব্য ফ্যাসিজমকে দারুণভাবে এবং সফলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর বিষয়টি ছবিতে অন্তত সুন্দর ধারাবাহিকতায় চিত্রায়ন করা হয়েছে যে জিন প্রযুক্তির হাল্কা ঝলক আজ আমরা বাস্তবে দেখতে পাই CRISPR নামক সর্বাধুনিক জিন এডিটিং প্রযুক্তিতে। ছবিটিতে একই সাথে উৎকর্ষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে সমাজের ব্যাধিগ্রস্ত দিকও সূচারুভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

৭. Contact (১৯৯৭)


অনেকে মুভিটা দেখে থাকলেও অনেকেই হয়তো জানেন না এর আসল উপন্যাসটি বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ কার্ল সাগান (Carl Sagan) এর লেখা, আমাদের পরিচিত নীল ডিগ্রে টাইসন যার আদর্শ শিষ্য!
ছবিটিতে ভিনগ্রহের প্রাণীদের সাথে যোগাযোগ করার জন্যে এবং তাদের বার্তা ডিকোড বা অর্থোদ্ধার করার জন্যে যেসব পদ্ধতি দেখানো হয়েছে তা খুবই যৌক্তিক। এবং বলা বাহুল্য সেখানে দর্শানো প্রযুক্তির অনেক কিছুই আমরা বর্তমানে দেখতে পাই Interstellar Communication ব্যবস্থার মাঝে! ছবিটি তাই Accurate সাইফাই মুভির তালিকায় অন্যতম উল্লেখযোগ্য একটি মুভি!

৮. Minority Report (২০০২)


টম ক্রুজের ছবি! আর টম ক্রুজ মানেই যেন দুর্দান্ত সব প্রযুক্তির বাহার। যদিও তার করা ভ্যানিলা স্কাই ছবিটি আবার বাজে সাইফাই এত তালিকায় রয়েছে!
সে যাইহোক, ট্রম ক্রুজ অভিনীত মাইনরিটি রিপোর্ট অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি, হলোগ্রাফিক স্ক্রিন, অটোড্রাইভিং ফিউচারিস্টিক গাড়ি প্রভৃতিতে ভরপুর থাকলেও ছবিটিতে আসলে বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব কিছু দেখানো হয়নি। না ই বা ছবিটিতে প্রযুক্তি আর বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো উপস্থাপনে এমন কিছু উঠে এসেছে যা বিজ্ঞানের মৌলিক কোনো নিয়মের বিপক্ষে যায় বা গোড়ায় গলদ জাতীয় কিছু হয়।
মাইনরিটি রিপোর্ট বিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়ের সঠিক নিয়ম বজায় রেখেই অতি আধুনিকতার ধারণায় নির্মিত একটি ভালমানের সায়েন্স ফিকশন মুভি।

৯. Interstellar (২০১৪)


ক্রিস্টোফার নোলান সাহেবের মুভি!
আর নোলান মানেই পরিচালকজগতের মি. পার্ফেকশনিস্ট! ইন্টার্স্টেলার কাহিনী অনেকেই হয়তো জানেন, কিন্তু অনেকেই জানেন না বা দেখেননি, তাদের দেখার আগ্রহকে Spoil না করে এতটুকু বলবো যে এই ছবিটিতে প্রতিটা সায়েন্টিফিক দিকগুলো এতোটাই সূচারুভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে তা করতে গিয়ে নোলান সাহেব ফিজিক্স এর প্রফেসরদের নিয়ে আস্ত একটা বোর্ড গঠন করেছিলেন!
ব্ল্যাকহোল কাছ থেকে দেখতে, সেটার প্রভাব কোথায় কতটুকু দুরতে কেমন হতে পারে সেজন্যে তিনি নিজে কোনো পাকনামো না করে বাঘা বাঘা প্রফেসরদের দিয়ে অঙ্ক কষিয়ে, হিসেব আর বের করে করে সেই হিসেবেই পুরো ছবিটা নির্মাণ করেছেন তিনি!
ভাবা যায়!
ব্ল্যাকহোলে প্রবেশের স্প্যাগেটিফিকেশন (Spaghettification) এর ব্যাপারটাকে তিনি হয়তো ঝামেলা এড়াতে খুব সুন্দরভাবে এড়িয়ে গেছেন। কিন্তু অন্য মাত্রার (Dimension) জগতকে তিনি চিত্রায়ন করতে গিয়ে যেন বিজ্ঞান আর শিল্পকলাকে নিখুঁতভাবে একত্রিত করে ফেলেছেন ছবিটিতে।

১০. Martian (২০১৫)


যদি বলা হয় সর্বকালের সবচে নিখুঁত সায়েন্স ফিকশন ছবি কোনটা, তাহলে আমরা অনেকেই দ্বিধান্বিত হয়ে যেতে পারি৷ সেই তালিকায় এখন পর্যন্ত সমালোচকদের তালিকায় সবচে প্রথমে রয়েছে জ্যাসন বর্ণ সিরিজের মুভি খ্যাত Matt Damon অভিনীত মুভি Martian । ছবিটাযে আদ্যোপান্ত নিখুঁতভাবে বৈজ্ঞানিক তা নয়, সাথে পুরো ছবিটাতে ব্যবহৃত বিষয়গুলো একেবারে বর্তমানে প্রচলিত প্রযুক্তির আলোকেই করা। ছবিটির মূল কাহিনী Andy Weir লেখা উপন্যাস থেকে নেয়া।
ছবিতে Mark Watney (ম্যাট ড্যামন) মঙ্গল গ্রহে একটি অভিযানে গিয়ে আটকে পড়েন। এবং সেখানে যে কয়দিন থাকেন, টিকে থাকার জন্যে তিনি যা যা ব্যবস্থা নেন তা কেবল চমৎকারভাবে নিখুঁত বৈজ্ঞানিকই নয়, সাথে তা প্রচলিত জ্ঞানের অধীন, সাধারণ বিষয়গুলোকেই যেখানে কাজে লাগানো হয়৷ এমনকি তাকে উদ্ধারের জন্যে যে যান পাঠানো হয় সেটার সমস্যা এবং সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায়টা পর্যন্ত দারুণভাবে বৈজ্ঞানিক থাকে!
তাই মার্শানকে ভাবা হয় সর্বকালের সর্বনিখুত সায়েন্স ফিকশন ছবি!
সাইফাই লাভার হয়ে এই মুভি দেখে না থাকলে আজই দেখে ফেলুন!

তো এই ছিল আমাদের আজকের আয়োজন দশটি বাজে আর দশটি ভাল সাইফাই মুভি নিয়ে। পরে আবারো হয়তো আসবো নতুন কোনো বিষয় নিয়ে। ততক্ষণে ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিজের খেয়াল রাখুন,
আর বিজ্ঞানবর্তিকার সাথেই থাকুন…

তথ্যসূত্রঃ
futurism goliathrankerpopularmechanicsindiewire

আপনার মতামত লিখুন :

Back to top button
Close